
আহসান আলী বিশ্বাস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া, যেখানে ভূমি খেকো উডল্যান্ড প্লাইউডের এর মালিক হিসাব উদ্দিনের কারখানা। তথ্যসূত্রে জানা যায়,উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিঃ এর নিবন্ধন নম্বর সি-৫৫২১১ (১৮৯৫) / ০৪ কোম্পানির আইন ১৯৯৪ এর যৌথ স্টক কোম্পানি ২০০৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর জুগিয়াতে স্থাপিত হয়, কিন্তু এই মিল দিনের পর দিন বড় হতে শুরু করে,জায়গার সংকটের হতাশ হয়ে পড়েন উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিঃ এর চেয়ারম্যান হিসাব উদ্দিন। তখন উডল্যান্ড মিলস লি:এর পিছনে ছিলো জলাশয় ও চাষের জমি। কারখানার বর্জ, রাসায়নিক পদার্থ, ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষন করে।তারপর জোড়পূর্বক ভাবে দখল নিয়ে ভরাট করে কারখানা বৃদ্ধি করে এই ভূমি খেকো। বর্তমানে উডল্যান্ড রুফ সীট নামে একটি নতুন কারখানা তৈরী করা হচ্ছে তার সমস্ত বর্জ পদার্থ এই মিলের পাশে ও পিছনে আবাদী জমি,এলাকার মাছ চাষের অন্য মালিকানা পুকুরে ফেলছে। সারা দিন বাতাসে উুঁড়ে বেড়ায় কালো ধোয়া,কাঠের গুড়া এক কথায় পরিবেশ দূষনে যা যা করতে হয় ,এই হিসাব সাহেব সব ধরনের কাজ করেন। এই কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ছায় ও বর্জ পদার্থ নির্গত হওয়ায় এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। স্থানীয় মানুষ যক্ষা ও বিভিন্ন ধরণের চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই মিলের মালিকের সাথে কথা বলতে গেলে এই ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাই না। স্থানীয়রা বলেন মিল মালিক অনেক বড়লোক, তারা কোনো সমস্যা করলে সেটা আইনের চোখে পড়ে না। গরীব মানুষ কোনো অন্যায় করলে বা পরিবেশ দূষণ করলে সেটা দ্রুত বিচারের আওতাধীন হয়। এক মহিলার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে এই সমস্যার কথা অনেকেই উপস্থাপন করে কিন্তু টাকার বিনিময়ে তা আর কার্যকর হয় না। কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছরে তিনি ঋণ নিয়ে কয়েকবার ধান চাষ করেছেন, কিন্তু কোনো ফসল পান নি। তাদের গায়ে চুলকানি, পর্চার মতো অনেক রোগ দেখা দিচ্ছে। এই সমস্ত মিলে যে তরল বর্জ পদার্থ ফসল চাষের জমিতে দেয় আর এই পানি চাষাবাদের জন্য চাষীরা ফসলে দিলে ফসল হয় না। কারণ এই পানিতে এতো রাসায়নিক বর্জ পদার্থ থাকে যে, কোনো হাঁস, মুরগি, ছাগল এখানকার পানি পান করলে তাৎক্ষনিক মারা যায়। এই মিলের পাশে অনেক বসত বাড়ি আছে এই বাড়িগুলোর মানুষ পানির র্দুগন্ধে শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা হয় এবং হার্ডের অসুখেও পড়ছে সাধারণ মানুষ। খাদিজা বানু নামে এক মহিলা জানান, গত মাসে তার ১৫টা হাঁস পুকুরের পানি খেতে নামে এবং রাতে হাঁসগুলো মারা যায়। এই পুকুরের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো অবস্থাও নেই। সেখানে মাছতো দুরের কথা কোনো সাপও বাস করতে পারে না। স্থানীয় নূর আলম নামে এক ব্যক্তির সাথে কথা বলে যানা যায় ,এই মিল মালিকদের কাছে যারা এই অভিযোগ নিয়ে যায় তাদের হুমকি দিয়ে অথবা টাকা দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় ছোট ছোট শিশুরা পড়ছে বিভিন্ন অসুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার একজন কর্মচারীকে আমাদের প্রতিবেদক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমার মালিক হুকুম দেয় তাই আমরা এই বিষাক্ত বর্জ্য বাইরে ফেলি। আমরা জানি এই বর্জ্য বাইরে দেওয়া নিষেধ, কিন্তু কিছু করার নাই আমরা মালিকের হুকুমের দাস। মালিক যা বলবে তাই করতে হবে ,না হলে চাকরী থাকবে না। এই কারখানার সদস্য বোর্ডের কেন্দ্রীয় স্টাফকে গুড়া ওড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই গুড়া যাতে না উড়ে সেই মেশিন বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে তা সম্ভব হচ্ছে না। এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিঃ এ প্লাইউড যে বোর্ড তৈরী করে তার গুড়া আশপাশের মানুষের চরম ক্ষতি সাধন করছে। যার ফল ভোগ করছে উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস এর পাশের বাড়ির মানুষ। জানা যায়, এই ধোয়া আর বিষাক্ত গুড়ার কারনে মানুষের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার কারনে এলাকার লোকজনের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশী হচ্ছে। সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, এই কালো ধোঁয়ার সাথে প্রচুর পরিমানে বিষাক্ত গুড়া বের হয় দুপুরে এবং রাত্রে। দিনের বেলায় এই গুড়া কম দেখা গেলেও, রাত হলেই শুরু হয় গুড়াবর্ষন। হিসাব উদ্দিন এলাকাবাসীকে গুড়া দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, তার ক্ষমতা বলে এলাকার অনেক নীরিহ জনগণের জমি দখল করে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় নিরীহ মানুষের জমি দখল করে নেওয়াই হিসাব উদ্দিনের মূল কাজ। উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস এর বড় বড় লোড গাড়ী যাওয়ার কারনে পিছনের রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন। ইতিমধ্যে নতুন করে আরো অনেকের জমি দখলের পায়তারা করছে বলে জানা যায়। সকলেই প্রায় বলেন, আমরা গরীব মানুষ সকলের পরিবারের কেউ না কেউ হিসাব সাহেবের মিলে কাজ করে খায়, তাই আমরা অসুখে মারা গেলেও কিছু বলতে পারবো না। কিন্তু চাকরী চলে গেলেও পৌত্রিক জমি আর আমরা ছাড়তে পারবো না। গত বুধবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জুগিয়া উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিঃ কারখানার সামনে মানববন্ধন করে স্থানীয় জনগণ। এলাকার শত শত নিরীহ সাধারন এলাকাবাসী উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন । এই মানববন্ধনে উপস্থিতিদের মধ্যে জুলফিকার আলী রুবেল ও আবুল কালাম সহ ভুক্তভোগীরা জানান, ভুয়া দলিল করে নিরীহ মানুষের জমি ও বাড়ী দখলের অভিযোগে ভূমি খেকো, দূর্নীতিবাজ উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিঃ এর মালিক হিসাবের বিরুদ্ধে এর আগেও আমরা বেশ কয়েকবার,মানববন্ধন করেছি, এবং আর কোন উপায় না পেয়ে আবারও মানববন্ধনে নেমেছি। অভিযোগে বলেন, স্থানীয় লোকমানের পৈত্রিক জমি জোড় করে গোপনে কিনে নেয়, কিন্তু দখল করতে পারছে না তার পরিবারের বাকী সদস্যদের কারনে। বাকী শরীকদের না জানিয়ে জবর দখল করে ক্রয় করে। এছাড়াও সাইদুলের পৈত্রিক ভিটা শরীকদের না জানিয়ে গোপনে বায়নামা করে। এটা জানাজানির পরে বাধা দেয় শরীকরা। আর শরীকরা বাধা দেওয়ায় হিসাবের দালাল আব্দুর রব ওরফে (ছোট হিসাব) তাদেরকে প্রাণনাষের হুমকি দেয়। আরো জানা যায়, মৃত ইয়াকুবের জমি নিজের নামে ক্রয় করে নাম খারিজ করতে পারছে না অথচ তার এই শরীকরা কেউ জানতো না, জানার পরে এই জমি নিয়ে হিসাবউদ্দিনের নামে মামলা করে, এই মামলা বর্তমানে চলছে। এই ভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭টা মামলা বর্তমানে চলছে, আর হিসাবের পক্ষে এই মামলা গুলো দেখাশোনা করে হিসাবের আর এক দালাল মৃত আনছার আলীর ছেলে রহমান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা অসহায় নির্যাতিত মানুষ,আমাদের মাথা গোজার বাড়ি ও একখন্ড জমি প্রভাবশালীরা কেড়ে নিচ্ছে, উডল্যান্ড প্লাইউড এন্ড পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিঃ এর মালিক হিসাব উদ্দিনের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচার জন্য কুষ্টিয়া জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক মো:জহির রায়হান, এবং পুলিশ সুপার এস,এম,মেহেদী হাসান মহাদয়ের দ্রুত পদক্ষেপ দখতে চায় জুগিয়ার হাজার হাজার মানুষ।

























