
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন একজন নিবেদিতপ্রাণ নারী নেত্রী, যার নাম কুমকুম রহমান , যিনি শৈশব থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতির পথে এগিয়ে এসেছেন। জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ১৯৮০ সালে কুষ্টিয়া জেলা শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিল্পী গোষ্ঠীতে শিশু শিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কুষ্টিয়া জেলা ইউনিটে সক্রিয় সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন। তার দীর্ঘ ৩৫ বছর এর রাজনৈতিক চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেন দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, যিনি ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় তার বাসভবনে আগমন করেন। সেই সাক্ষাৎ তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেয়। পারিবারিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক প্রেরণা। তার পরিবার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। তার শ্বশুর মরহুম অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৬ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমানের একজন অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তি। যে কারণে তৎকালীন স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট এরশাদ, তাকে আটক করে ডিটেনশনে দেয় এবং তার চোখ অন্ধ করে দেয়া হয়। অন্যদিকে তার পিতা মরহুম উস্তাদ ইব্রাহিম হোসেন খান ছিলেন একজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক। তার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মোঃ শফিকুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবার থেকেই তিনি পেয়েছেন দেশপ্রেম, সংস্কৃতি ও জনসেবার অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সাধারণ সম্পাদক (নারী বিষয়ক), কুষ্টিয়া শহর বিএনপি নারী বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ, কুষ্টিয়া যুগ্ম আহ্বায়ক, জিয়া পরিষদ, কুষ্টিয়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া লেডিস ক্লাব, এছাড়াও তিনি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বিতরণ কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে একটি বহুমাত্রিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে গেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি কুষ্টিয়া জেলায় অসংখ্য জনসভা, অবরোধ, হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। শেখ হাসিনা সরকারের সময় ধারাবাহিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে তার পরিবারকে বহুবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি, মামলা, হামলা ও হুমকির মুখেও তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আত্মগোপনে না থেকে তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থেকেছেন। সমাজসেবা ও মানবিক উদ্যোগ। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে— দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ বিতরণ কম্পিউটার শিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি শীতবস্ত্র বিতরণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্থানীয় মেলার আয়োজন এসব কার্যক্রম তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবিক নেত্রী হিসেবে পরিচিত করেছে। সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদান। কুষ্টিয়াকে বলা হয় বাংলাদেশের সংস্কৃতি রাজধানী। তিনি শুধুমাত্র রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও। তিনি বাংলাদেশ বেতার খুলনা ও বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর প্রাক্তন শিল্পী। কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী সংগীত সংগঠন ‘সুরসঙ্ঘ’ ও ‘শিঞ্জন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি লালন একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য হিসেবে তিনি সংস্কৃতি চর্চায় যুক্ত আছেন। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য তার রাজনৈতিক লক্ষ্য সুস্পষ্ট, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২০০৫ সালে তিনি যখন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন, সাক্ষাৎকারে তাকে বলা হয় তার বয়স অনেক কম এর পরের বার তাকে দেয়া হবে, এরপর ২১টি বছর অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। তিনি গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান। এখন দলের সময় এসেছে সঠিক মূল্যায়নের। কুষ্টিয়াবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মাঠ পর্যায়ের সুযোগ্য নেত্রীদেরকে যথাযথ ভাবে মূল্যায়ন করবেন। সংগ্রাম, সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে এক সুপরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি তার আনুগত্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে একজন শক্তিশালী নারী নেতৃত্বে পরিণত করেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন—গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনসেবার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

























