
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া জেলার রেলপথ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কেটে ফেলা হচ্ছে এর দুপাশের শত শত গাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই এসব গাছ কেটে উজাড় করছে রেল ও বন বিভাগের কিছু অসত্ কর্মকর্তা। সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া থেকে ঈশ্বরদী রেললাইনের দুপাশের ছোট বড় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের দুপাশের বহু গাছ এরই মধ্যে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে যাচ্ছে রেল ও বন বিভাগের কিছু লোক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেলপথের ঝুঁকি এড়াতেই এসব গাছ কাটা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। অথচ গাছগুলো রেলপথ থেকে ২০ থেকে ২৫ গজ দূরে। এগুলো রেল চলাচলের জন্য মোটেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশাদ আলী জানান, ‘সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রেল ও বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা গাছগুলো কেটে ফেলছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে গাছ কাটার অনুমতিপত্র দেখতে চেয়েছি। তাদের অনুমতিপত্রে শুধু গাছের ডালপালা ছেঁটে ফেলার অনুমতি আছে। অথচ তারা গোড়াসহ গাছই কেটে ফেলছে। অভিযোগ আছে, রেল খালাসি সমিতির সভাপতি খাদেমুল ইসলাম ও রেলশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়জুল করিম ফয়েজের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩৫ জন গাছগুলো কাটছেন।’ এ বিষয়ে কথা হলে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়জুল করিম ফয়েজ জানান, ‘রেললাইনের পাশে গাছ পড়ে অনেক সময় ক্ষতি হয়। যে কারণে রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন ও সহকারী প্রকৌশলীর (পিডব্লিউআই) নির্দেশে রেললাইনের পাশে অবস্থিত এসব গাছ পর্যায়ক্রমে কাটা হচ্ছে।’ তবে এজন্য লিখিত অনুমতিপত্র আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। কুষ্টিয়া রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন ও সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউআই) কাজী দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘রেললাইনের আশপাশে গাছ থাকা রেল চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিভাগীয় দপ্তরের নির্দেশে গাছ কাটা হচ্ছে। রেল ও বন বিভাগ যৌথভাবে এ গাছ কাটছে।’ এ বিষয়ে কুষ্টিয়া বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আলী মোর্তাজা জানান, ‘রেললাইনের পাশে বেড়ে ওঠা গাছগুলো যাতে করে ট্রেন চলাচলে সমস্যা তৈরি না করে, সেজন্য গাছ কাটা হচ্ছে। কাটা গাছগুলো রেল ও বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হচ্ছে।

























