কুমারখালীর আইস্ক্রিম নামের রঙিন বিষে বিষাক্ত শিশু কিশোর! 

0
2477

গড়াইনিউজ:: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের আইসক্রিম। ক্ষতিকর রঙ ও নানা রাসায়নিক উপাদানে তৈরি এসব আইসক্রিম জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি করার কথা থাকলেও তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। উল্টো এই বিভাগেরই অসাধু কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিম্নমানের আইসক্রিম তৈরিতে সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার বাশগ্রাম বাজারে ৩-৪টি অবৈধ আইসক্রিম ফ্যাক্টরী রয়েছে।যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঐ এলাকার জাকির হোসেনের মালিকানাধীন সাগরিকা মিল্ক আইসবার নামের একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরী।বিএসটিআই এর অনুমোদন নেই, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই,নেই ফায়ার লাইসেন্স। অথচ বিভিন্ন ভেজাল মিশ্রিত বিভিন্ন ক্যামিকেল ও মানব স্বাস্থের জন্য মারাত্ব ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভারের সংমিশ্রনে ফ্যাক্টরীটিতে বাহারী নামে সস্তা আইসক্রিম উৎপাদন করে চলেছে।এতে করে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব অন্যদিকে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়ে কোমলমতি শিশু কিশোরেরা। শীত মৌসুমের তিন মাস ছাড়া বছরের বাকি সময়ে কারখানাটি আইসক্রিম উৎপাদন ও বিপণন করে থাকে। এতে ২ টাকা মূল্যের বুলেট, পেপসি, লাল-সবুজ, ৩ টাকা দামের কুলফি, ৪-৫ টাকার চকবার কুলফি ও ১০-১২ টাকা মূল্যের চকবার আইসক্রিম তৈরি হয়। এসব আইসক্রিম তৈরিতে নিম্নমানের ফুড কালার ও ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ১-২ টাকা দামের আইসক্রিমে যে ফুড কালার ব্যবহার করা হয়, তা খাদ্য বা আইসক্রিমে ব্যবহারের অনুমোদন আছে কিনা, সেটি কেউ জানেন না। ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা এসব ফুড কালারের কৌটায় বিএসটিআইয়ের কোনো নির্দেশনা নেই। আবার ৪ টাকা থেকে ১০-১২ টাকা মূল্যের চকবার কুলফি ও চকবার আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিস্ময়কর উপাদান। এসব আইসক্রিমের উপরিভাগের আবরণ তৈরি হচ্ছে কাঁচা পাম অয়েল, ডালডা ও নিম্নমানের কোকো পাউডার দিয়ে। এ তিন উপকরণই শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জানা গেছে, এ ফ্যাক্টরি মালিকরাই নিম্নমানের উপকরণ ও ফুড কালার ব্যবহার করেন। প্রকাশ্যেই তারা এই আইসক্রিম তৈরি করছেন। কিন্তু জানতে চাওয়া হলে তারা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। যখন ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভেজালবিরোধী অভিযান চলে, তখন কিছুদিন নীরব থাকে। এরপর তারা আবার শুরু করেন তাদের অনৈতিক তৎপরতা।  কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.তাপস কুমার সরকার বলেন, গরম এলে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রিত আইসক্রিম তৈরি করে। মূলত তারা শিশু ও স্কুল শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেই ক্ষতিকর আইসক্রিম তৈরি করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পুষ্টি বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নিম্নমানের এসব সস্তা আইসক্রিম আসলে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে কাঁচা পাম অয়েল, ডালডা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ আইসক্রিম খেলে তাৎক্ষণিকভাবে এসিডিটি, ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। আলসার ও ক্যান্সার হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।