
আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি, গড়াইনিউজ২৪.কম:: চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামে জিন তাড়ানোর নামে কবিরাজের নির্যাতনে তিন সন্তানের জননী জোছনা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাসূত্রে জানা গেছে, খাসকররা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ছাত্তার আলীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননী জোছনা বেগম মাস ছয়েক আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হন। ওই সময় অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক সেবনের ফলে তার মাথার চুল উঠে যায়। তারপর থেকে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন জোছনা বেগমকে মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।৩০শে মার্চ বৃহস্পতিবার জোছনা বেগম খানিকটা অসুস্থ বোধ করেন। তার গায়ে জিন ভর করেছে বলে প্রচার করতে থাকে স্বামী আব্দুর ছাত্তারসহ পরিবারের লোকজন। ওই দিন রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী নিশ্চিন্তপুরের হুদা আলীর ছেলে কথিত কবিরাজ মাতাল যুবক স্বপনকে ডেকে আনা হয়। সে জিন তাড়ানোর নামে জোছনা বেগমের ওপর অকথ্য নির্যাতন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কবিরাজ স্বপন এসে গামছা দিয়ে জোছনার মুখ বাঁধেন। তারপর অনবরত চড় থাপ্পড় মারেন। এমনকি কাঁচা কঞ্চি দিয়ে বেদম পিটিয়ে আহত করে। শেষে ঝালের গুঁড়ো গুলিয়ে গৃহবধূর নাকে মুখে ঢেলে দেয়। গৃহবধূর আর্তচিৎকার ও আর্তনাদ শুনেও কেউ তা আমলে নেয় নি। স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের সামনে এভাবে আধাঘণ্টা ধরে নির্যাতন চলে জোছনার ওপর। এরপর পানিভর্তি একটি ঘড়া দাঁতে করে নিয়ে বিদায় নেয়ার জন্য জোছনাকে নির্দেশ দেয়। জোছনা অপারগ হলে আরেক দফা অত্যাচার করে। এতে জোছনা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থা বেগতিক বুঝে কবিরাজ স্বপন সটকে পড়ে। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় জোছনাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা শংকটাপন্ন দেখে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় জোছনা বেগম মারা যান। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, জোছনা খাতুনের মৃৃতদেহের নাক, কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। সেজন্য জোছনার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। ২ এপ্রিল বিকেলে জোছনার লাশ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

























