কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা : রাকিব উদ্দিনকে হাতেনাতে ধরলেন ইউএনও!

0
2468

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা, গড়াইনিউজ২৪.কম:: একটি কথায় আছে চোরের সাতদিন আর গৃহস্থের একদিন, আর তাই হলো ডা: রাকিব উদ্দিনের ভাগ্যে। জানা যায়, অফিস ফাঁকি দিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন করার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও নির্বাহী অফিসারের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও স্বাচিপ নেতা ডাঃ রাকিব উদ্দিন। অভিযুক্ত ঐ ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে ঐ ক্লিনিক থেকে নিয়ে যান তারা। এ ঘটনার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।
রোববার সকাল ১০টায় কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও স্বাচিপ নেতা ডাঃ রাকিব উদ্দিন এর চেম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান তিনি মাত্র চলে গেলেন। পরে ঐ আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে শহরের ‘নোভা ক্লিনিক’ নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন (সিজার) করার সংবাদ পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় ঐ ক্লিনিকের একটি কক্ষে আত্মগোপন করা অবস্থায় ডাক্তার রাকিব উদ্দিন রনিকে পাওয়া যায়। সে সময় ক্লিনিকের মালিক আব্দুল আলিম শেখ বদর গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
এ সংবাদ পেয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আকুল উদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেলা আক্তার ওই প্রাইভেট ক্লিনিকে আসেন।
সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেলা আক্তার বলেন, অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ছাড়াও অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যাওয়ার দায়ে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অফিসার ডাঃ আকুল উদ্দিন।
অফিস চলাকালীন সময়ে কিভাবে আপনি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে একটি রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তিনি হাসপাতাল থেকে চলে এসেছেন।
জানা যায়, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘদিন নিজ এলাকার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক পদে বহাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আরএমও ও স্বাচিপ নেতা ডাঃ রাকিব উদ্দিন।
এদিকে এ ঘটনার পর দুপুরেই ডাঃ আব্দুল হালিমকে আহবায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।