

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, গড়াইনিউজ২৪.কম:: বাঁশের সাঁকোগুলোই চার গ্রামের মানুষের শেষ ভরসা। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় তাদের। শিশুদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকেন দুশ্চিন্তায়। গ্রামের নারীরা ঝুঁকি নিয়ে ১৪টি সাঁকো পার হয়ে দূর গ্রাম থেকে পানি আনতে যায়। এভাবেই শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৪ গ্রামের ৯ হাজার মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর পশ্চিম দুর্গাবাটি গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কয়েকদিনের মধ্যে বাঁধটি বেঁধে ফেলে। চার মাস পেরিয়ে গেলেও খোলপেটুয়া নদীর খরস্রোতা পানিতে ভেসে যাওয়া চার গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো আজও সংস্কার করা হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই কিলোমিটার রাস্তা। ভাঙনকবলিত আড়পাঙাসিয়া গ্রামের রাস্তার ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করতে হয় ওই উপজেলার মানুষদের।
এদিকে পিচ ঢালাইয়ের পূর্ব মুহূর্তে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ দুর্গাবাটির তিন কিলোমিটার রাস্তা মানুষ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, আড়পাঙাশিয়া, মাদিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে জানা গেছে, এ বছরের জুলাই মাসে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে খোলপেটুয়া নদীর পশ্চিম দুর্গাবাটি রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পাশের ৩২০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্লাবিত হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আড়পাঙাসিয়া, মাদিয়া, দুর্গাবাটি ও বিল আইট গ্রাম। সেইসঙ্গে ভেসে যায় শত শত ছোট-বড় চিংড়ি ঘের। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৪ কিলোমিটার ইট সোলিং ও মাটির রাস্তা। এর মধ্যে বিলআইট গ্রামের পরিমল জোয়ার্দারের বাড়ির সামনে থেকে আড়পাঙাসিয়া মনসাতলা হয়ে মাদিয়া খোন্তাকাটা মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার রাস্তার মধ্যবর্তী ১৪টি স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়।
স্থানীয়দের উদ্যোগে ওইসব জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। আর এই বাঁশের সাঁকোই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ৯ হাজার মানুষের চলাচল। সুপেয় পানি সংগ্রহসহ গবাদিপশুর ঘাসপাতা সংগ্রহের জন্য একমাত্র অবলম্বন। তবে গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক সময় দোলনা ও নৌকা ব্যবহার করতে হয়। বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা জখম হয়েছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ দুর্গাবটিসহ আশপাশের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পিচ ঢালাইয়ের আগেই গোপালের মোড় থেকে মন্দিরবাড়ী ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকার ফলে রাস্তায় ব্যবহৃত ইটের খোয়া উঠে গেছে। এতে ওই রাস্তাটি হেঁটে বা বাইসাইকেলে চলাচলের জন্যও অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন লোনাপানির উপস্থিতির কারণে ক্ষেতের আমন ধান শুকিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে সুপেয় পানির পুকুর। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ভবতোষ মণ্ডল জানান, ইউনিয়নের দুর্গাবাটি এলাকাটি বারবার নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শ্যামনগরের ইউএনও মো. আক্তার হোসেন জানান, রাস্তা সংস্কারে আপাতত কিছু অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে চলতি মাস থেকে মেরামত কাজ শুরু হবে। মাটি ভরাট করে প্রাথমিক কাজ শেষ হলে ইট সোলিংয়ের রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার জানান, অচিরেই রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে।
























