
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকের নামেই কুষ্টিয়া মডেল থানায় পাল্টা মামলা হয়েছে। দৈনিক সময়ের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শরিফুল ইসলাম মিঠুর উপর হামলাকারী সুলতান মাহমুদ রানার পিতা মোফাজ্জেল হোসেন ১২ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন। এদিকে হামলাকারী রানাকে মামলা থেকে বাঁচাতে তার বাবা পাল্টা সাংবাদিকের নামে হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেছেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক মিঠু। তিনি আরো বলেন, পুলিশ হামলাকারী (আসামি) রানাকে আটক করতে না পারলেও ঐ সময়ের মধ্যে ঠিকই হামলাকারীর বাবার দেওয়া এজাহারের প্রেক্ষিতে মামলা নিতে পেরেছেন। পুলিশের এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশ বাহিনীকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বলেও জানান তিনি। তাছাড়া মিঠু আরো জানান, ৩৫ টি সেলাই লাগা আঘাত পেয়ে কোন মানুষ আবার আঘাত করে আরেকজনকে এভাবে আহত করতে পারে এটা নিঃসন্দেহে অলৌকিক ব্যাপার। এই রকম ঘটনা শুধু সিনেমাতেই সম্ভব বলেও জানান মিঠু। বাদীর কম্পিউটার টাইপকৃত এজাহারের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান এই মামলা রুজু করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার মামলা নং – ৩০, ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪। এই মামলায় সাংবাদিক মিঠুর পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভার সবুজকে ২ নং ও ঘটনার সময় পিকআপ ভ্যান ভর্তি মালামালের মালিক হারুণকে ৩ নং আসামি করা হয়েছে। এই হয়রানী মূলক মামলায় গতকাল সাংবাদিক মিঠু কুষ্টিয়া আদালতে হাজির হলে আদালত ১ হাজার টাকার বেল বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। একই মামলায় আরেক আসামি মিঠুর পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভার সবুজকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত। দায়েরকৃত এজাহারে হামলাকারীর বাবা (মামলার বাদী) উল্লেখ করেছেন, আসামীগণ পূর্ব বিরোধের জের ধরে বেআইনী জনতাবদ্ধে হাতে লোহার রড, চলা কাঠ, বাঁশের লাঠি সহকারে পিকআপ রাস্তার উপর দাড় করিয়ে অবৈধভাবে আমার ছেলের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। তখন আমার ছেলে মোটর সাইকেল থামিয়ে আসামীদের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে বললে ৩নং আসামী হুকুম দিয়ে বলে যে, “ঐ সালা কিছুক্ষণ আগে আমাদের সাথে তর্কাতর্কি করেছে, এখন ওকে মজা দেখিয়ে দে”। উক্ত হুকুমের সাথে সাথেই ১নং আসামি শরিফুল ইসলাম মিঠু তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার ছেলেকে খুন করার উদ্দেশ্যে তার মাথা লক্ষ্য করে স্বজোরে আঘাত করলে আমার ছেলে ডান হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে আঘাতটি তার ডান হাতের কব্জির নিচে লেগে হাঁড়ভাঙ্গা জখম প্রাপ্ত হয়। তখন ২নং আসামি সবুজ তার হাতে থাকা চলা কাঠ দিয়ে আমার ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করিয়া নীলাফোলা জখম করে। ৩নং আসামী হারুন তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আমার ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করিয়া মাটিতে ফেলে দেয়। সেময় আসামিগণ তার ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। প্রসঙ্গত, গত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টার সময় শহরের নিশান মোড়স্থ হাউজিং ডি-ব্লক মসজিদের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর থেকে আসামি রানা তার হাতে থাকা ধারালো ক্ষুর দিয়ে সাংবাদিক মিঠুর বুকে ও পিঠে উপর্যুপুরি আঘাত করে। হামলায় আহত মিঠুর পিঠে ৩৫টি সেলাই দিয়ে ক্ষত বন্ধ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর আহত মিঠু বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩৯১/২২। মামলা দায়েরের পর ৫ দিন অতিবাহিত হলেও আসামিকে আটক করতে ব্যর্থ হয় মডেল থানা পুলিশ। পরবর্তীতে হামলাকারী রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খাঁন’ জানান, ঘটনার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। না পেলে মামলার FRT দেওয়া হবে। তবে সাংবাদিকের উপর হামলাকারীকে কেন আটক করতে পারেননি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসামী ধরতে আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিলো না।

























