“মা দিবসের চাওয়া”

0
1072

ঢাকা অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: সবাইকে মা দিবসের শুভেচ্ছা। মা পৃথিবীর মধুরতম শব্দ। একটি মাত্র অক্ষরের শব্দ ‘মা’, অথচ তাতেই যেন সমস্ত ভালোবাসা, আবেগের সম্মিলন। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এ দিবসটি পালন করা হয়। আর এই মা এর কথায় ব্যাক্ত করছেন দৈনিক প্রতিজ্ঞার কলামিষ্ট ও লেকচারার নিলুফা আক্তার।
বর্তমানে আমরা আমরা বাচ্চা নিয়ে বাসায় বন্দি হয়ে আছি। সে সকল মায়েরা বড়ই চিন্তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। একদিকে এই মহামারী করোনা ভাইরাসের চিন্তা। আর একদিকে বাচ্চার বায়না, জেদ, বেয়াড়াপনা আর পড়াশোনার অবহেলা। এইসব নিয়ে আছি মহা সমস্যায়। সংসারের চাপে হয়তো এখন বাচ্চার দিকে বেশি নজর দিতে পারছিনা। হয়তো এটাই মূল কারণ আমরা বুঝতে পারছি না। সংসারে একজন মায়ের ভূমিকা থাকে অপরিসীম। সবকিছু সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আমরা মায়েরা বাড়ির কাজের জন্য বুয়া। আর বাচ্চার পড়াশোনা আর গান অথবা কোরআনের শিক্ষার জন্য প্রাইভেট টিউটর রাখি। কিন্তু বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমরা বাচ্চার নিরাপত্তার কথা ভেবে সব বাদ দিয়ে এখন সকল মায়েরা একাই একশ হয়ে উঠেছি।
আমি একজন ভালো মা এবং তার সাথে সাথে আমি একজন ডাক্তার, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষক, বন্ধুও বটে কেন বলছি?
* যখন বাচ্চার একটু খাওয়ার অসুবিধা হয় অথবা তার পেট ব্যাথা অথবা গা গরম যে সমস্যাই থাক না কেন সাথে সাথে নিজের ডাক্তারি কাজে লাগিয়ে দিই। বোঝার চেষ্টা করি কি করলে আমার কলিজাটা তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে উঠবে।
* যদি ঠান্ডা লাগে তাহলে ঘরোয়া ঘরোয়া চিকিৎসা কাজে লাগিয়ে দেই। আদা, তেজপাতা, লবণ, রসুন আর গরম গরম স্যুপের কোন বিকল্প নেই।
* পেট খারাপ হলে সাথে সাথে গরম যাও ভাত, সাথে কাঁচা কলা অথবা লবণ দিয়ে কাঁচা কলা কুচি করে চটকে তার রস খাইয়ে দেয়া।
* আর যদি ২/৩ দিনেও বাথরুম না করে তাহলে একটা কাঁচা পেঁপে ভর্তা করে খাওয়ানো।
আর এইসব ছোট ছোট ডাক্তারের কারণে আমি আমার ছেলের কাছে ডাক্তার।
* একটি জিনিষ মায়েদের মনে রাখেতে হবে বিভিন্ন বয়সে বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে এই পরিবর্তনগুলো শারীরিক ও মানসিক। বাচ্চার আচরণ আর তার কথা বলার ধরণ দেখলেই আমরা সচেতন হবো মায়েরা। বুঝতে পারি বাচ্চার মনে কি চলছে। খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে এগুলো সামাল দিতে হয়।
আর এখন যেহেতু বাচ্চারা ঘরে বন্দি তাই তাদের মনের উপর এমনিতে চাপ আছে, আমরা মায়েরা এমন কোন আচরণ করব না যাতে বাচ্চার মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। বাচ্চার মানসিকতা বুঝে তার সাথে সে রকম আচরণ করাই শ্রেয়।
* আমার যখন মন চাইলো তখন বাচ্চাকে পড়তে বসালাম এমনটা যেন না করি। এমন ভাবে পড়াতে হবে যেন বাচ্চা মজা পাই। আর এটা যার বাচ্চা সেই ভালো বুঝবে। বাচ্চা ঠিকমতো বুঝলো কি না সেটা বোঝার জন্য আপনি নিজেও কখনও কখনও স্টুডেন্ট হয়ে যান বাচ্চার।
* টিচার হলে খুব মজা পাবে, বাচ্চা কতটুকু বুঝলো সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন।
* প্রত্যেক মা তাদের সন্তানদের স্বার্থহীনভাবে লালন পালন করেন। নিজের সামর্থের সর্বোচ্চটা দিয়ে তারা সন্তানের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য চেষ্টা করেন। প্রত্যেক সন্তান তার মা-বাবার কাছে চির ঋণী। যে ঋণ কোনো কিছুর বিনিময়ে শোধ করার নয়। তাই আমাদেরও উচিত মাকে তাদের প্রাপ্ত সম্মান দেওয়া। কোনো অবস্থায়ই তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না। এমন কাজ করা যাবে না যাতে তারা মনে কষ্ট পায়। কোনো মতেই তাদের মনে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
মা দিবসের শ্লোগান হোক একটাই আর তা হল- সন্তান থাকতে বৃদ্ধাশ্রম যেন একজন মা-বাবারও আশ্রয়স্থল না হয়।

একা একা বন্ধু ছাড়া কতদিনই বা ভালো লাগে আমাদের তো তাও বিনোদনের জন্য ফেসবুক আছে। একটু সময় পেলেই অথবা টুংটাং শব্দে মনোযোগ দিচ্ছি ফেসবুকে। এতে আপনার বাচ্চার দিকে মনোযোগ কম দেওয়া হচ্ছে না তো? আপনার রাত জেগে ফেসবুকের কারণে আপনার বাচ্চা মন খারাপ করে একা একা ঘুমিয়ে পড়ছে না তো? তার ঘুমানোর আগে রূপকথার গল্প শোনা বন্ধ হয়ে যায়নি তো। যদি এইসব হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার বাচ্চার সব নষ্ট করছেন নিজেই।
একটু ভেবে দেখুন আপনি আজ বাসায় বন্দী জীবনযাপন করছেন। আপনার বাচ্চার নিরাপত্তার কথা ভেবে আপনার ভালো সময় পার করেছেন। আপনার বাচ্চার জন্য তার সময় যেন ভালো কাটে সে যেন আপনাকে বন্ধু হিসাবে কাছে পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
নানা ধরনের পথ পাড়ি দিয়ে একজন মেয়ের মা হয়ে ওঠা আর একজন মা-ই হয় বাচ্চার সব থেকে নিরাপদ আশ্রয়। সকল শিশু সকল মায়ের কাছে সুস্থ থাকুক ভালো থাকুক সকল মায়ের হয়ে উঠুক একজন আদর্শ মা। সকল মায়ের প্রতি অনেক অনেক ভালোবাসা।
নিলুফা আক্তার
লেকচারার:এ.আই.বি.টি
পার্টনার-(টাচশপবিডি.২৪)।