কুষ্টিয়া সদর আসনে হানিফ এমপির হাতেই কুষ্টিয়ার যত উন্নয়ন…

0
387

আতিকুর জামান ছন্দ, গড়াইনিউজ২৪.কম:: পদ্মা-গড়াই বিধৌত বিস্তীর্ণ এক জনপদ কুষ্টিয়া। সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এ জেলার উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তরে রয়েছে পদ্মা নদী। তার অপর তীরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলা। দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলা। পশ্চিমে রয়েছে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা। ভারত উপমহাদেশ বিভক্তির পূর্বে কুষ্টিয়া ছিল নদীয়া জেলার অধীন একটি মহকুমা শহর। ১৯৪৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার মর্যাদা লাভ করে। ওই সময় তিনটি মহকুমা কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর নিয়ে গঠিত হয় কুষ্টিয়া জেলা। ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর পৃথক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেলে কুষ্টিয়া মহকুমার ৬টি থানা নিয়ে গঠিত হয় বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। এ জেলার স্বাধীনতাকামী বীর মুক্তিযোদ্ধারা দখলদার পাক হানাদারদের খতম করে কুষ্টিয়া প্রথমবারের মতো হানাদার মুক্ত করে ৩১ মার্চ। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মেহেরপুর জেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান মুজিবনগর) গ্রামের ঐতিহাসিক আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। তা ছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই জেলা শিল্প ও সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন ও বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের তীর্থভূমি কুষ্টিয়া। কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুরে জন্মেছেন গীতিকার, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান। বিশিষ্ট কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক সমাজ সংস্কারক ও উদার হৃদয় সাধক পুরুষ ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ‘হরিনাথ মজুমদার’ ওরফে ‘কাঙাল হরিনাথ, নীল বিদ্রোহের নেত্রী প্যারী সুন্দরী, স্বদেশী আন্দোলনের নেতা বাঘা যতীন, শিল্পী আব্দুল জব্বারের জন্মস্থান এই জেলা। এমন অসংখ্য গুণীজনের পীঠস্থান সমৃদ্ধ করেছে এই জেলাকে। ৬টি উপজেলা ও ৭টি থানা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া জেলার মোট আয়তন ১ লাখ ৬শ’ ২১ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার। এখানকার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়া পৌরসভা স্থাপিত হয়। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আমলে কুষ্টিয়া ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত এক জনপদ। বলা যেতে পারে, বিমাতাসুলভ নির্মম আচরণের শিকার হয় এই জেলা। কিন্তু অবহেলিত কুষ্টিয়া জনপদের মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। দলের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্তে পাল্টে যেতে থাকে এখনকার দৃশ্যপট। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (কুষ্টিয়া সদর) আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক উন্নয়নের রূপকার মাহবুবউল আলম হানিফের হাতেই জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।
এসব দৃশ্যমান উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেল কুষ্টিয়া হরিপুর সংযোগ সেতু, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, শহর বাইপাস সড়ক, সুইমিংপুল কমপ্লেক্স, আধুনিক জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শেখ কামাল ষ্টেডিয়াম, হাইটেক পার্ট, লালন রবীন্দ্র পার্ক, ভারতীয় ভিসা প্রসেসিং সেন্টার, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ১০ তলা জেলা পরিষদ ভবন, আধুনিক অডিটোরিয়াম, কেন্দ্রী মডেল মসজিদ, আধুনিক জিউর মন্দির, ১০তলা চীফ জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন, সরকারি ট্রেনিং সেন্টার, আধুনিক সার্কিট হাউস, গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন অসংখ্য রাস্তা, কালভার্ট, ব্রীজ, ফোরলেন, ১০ তলা বিশিষ্ট সরকারি কলেজ একাডেমি ভবন এবং করোনাকালীন সময়ে পিসিআর ল্যাবসহ অসংখ্যা উন্নয়ন কুষ্টিয়াকে উন্নয়নের নগরীতে পরিণত করেছে।