
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, গড়াইনিউজ২৪.কম:: নারায়ণগঞ্জের সাথে গুম, খুন, অপহরন কথাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে। এ শহরে যে হারে নিয়মিত খুনের ঘটনা ঘটছে তাতে শুধু নারায়ণঞ্জ নয় সারা বাংলাদেশের মানুুষেরই আতকে উঠার কথা। অপরাধীরা এতটাই ক্ষমতাশীল যে তাদের বিচার তো দূরের কথা তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিতেও ভয় পায় প্রশাসন। এতে বাড়ছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের মতো ঘটনা। খুনের পাশাপাশি অপহরন ও অপমৃত্যুর ঘটনাও পিছিয়ে নেই। বছরের প্রথম ৩ মাসে জেলা জুড়ে অন্তত ৩ মাসে ৩৩ খুন, অপহরণ ১৩, অপমৃত্যু ১২ ঘটনা ঘটে। যা আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রমাণ স্বরুপ। এতে নগরবাসীর মনে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। তবে এ কয়টি ছাড়াও আরো অনেক ঘটনা অগোচরে রয়ে যায়। অনুসন্ধানি তথ্যমতে বছরের শুরুতে ২ জানুয়ারী শহরের মসিনাবন্ধন এলাকায় অন্তঃসত্বা মাকসুদা আক্তার (২৩) এর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জে মাহবুবুর রহমান (৩০) নামে একজনকে ছুরিঘাতে হত্যা করে দুর্বত্তরা। ৮ জানুয়ারী বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার হয়। ১০ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জে সিদ্দিকুরের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। ১৮ জানুয়ারী রুপগঞ্জে সুমাইয়া আক্তার (১৫) এর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ১৯ জানুয়ারী রুজিনা আক্তার (২৪) নামের গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একই দিনে রুপগঞ্জে পপি (১৪) নামের এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৩ জানুয়ারী বন্দরে নিখোঁজের ৩ দিন পরে রাব্বি ওরফে মৃদুল (৭) নামের শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ২৬ জানুয়ারী ফতুল্লার লালপুরে মানিক মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিনে রুপগঞ্জে নববধূ বাবলীকে যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ২৭ জানুয়ারী মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার ইসলাম বাবু (৩৫) খুন হয়। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারীর ৪ তারিখে সোনারগাঁয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার। ৬ ফেব্রুয়ারী পাগলায় ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই খুন হয়। ওই লাশ গুম হয়। ৯ ফেব্রুয়ারী বন্দরে গৃহবধূ তৃপ্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ ফেব্রুয়ারী ছোট ভাইয়ের জন্য বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ১৮ ফেব্রুয়ারী পারিবারিক কলহের জের ধরে সোনারগাঁ উপজেলার নাজমুল হাসান (২২) খুন হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারী গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোকন মিয়ার উপস্থিতিতে বাতেন (৩৫) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারী কিলার মোক্তার ও মানিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লায় নির্মানাধীন ভবনে নুরুল ইসলাম তানজীল (৪৫) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। ৮ মার্চ উত্তর চাষাড়ায় শাওন সাগর ভিলার প্রবাসী সাগর তার নিজ বাড়ির ছাদ থেকে মদ্যপ পান অবস্থায় রহস্যজনক ভাবে পড়ে মারা যায়। ১০ মার্চ বাবুরাইলে পারভিন আক্তার (৩৫) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাষন্ড স্বামী। ১৪ মার্চ হরুনুর রশিদ (২৮) গার্মেন্টস কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে। ১৫ মার্চ এক সাথে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় ৩টি খুন হয়। এই দিনে ফতুল্লায় প্রজন্মলীগ নেতার স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, হুশিয়ারী শ্রমিককে খুন এবং রুপায়নের ঝাড়–দার খুন হলে তার লাশ গুম করা হয়। ১৮ মার্চ রুপগঞ্জে মোজাম্মেল হক (২৭) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৯ মার্চ ফতুল্লায় ভগ্নিপতির কারখানায় শ্রমিক দ্বারা শ্যালক খুন ও একই দিনে রুপগঞ্জে ডোমের খাল থেকে মহিলার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৬ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে বিআরডিবি কর্মচারী মনিরুল ইসলাম (৪২) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিনে আড়াইহাজারে ছাত্রী উত্তক্ত্যের প্রতিবাদ করায় হামলা করে দুবৃত্তরা। এতে নাজমুল নামের এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়। ২৮মার্চ দেয়াল চাপায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। ৩০ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ মীম আক্তার (৩০)কে পুড়িয়ে মাওে পাষন্ড স্বামী। হত্যার লাশ গুমের চেষ্টা করে। এদিকে আত্মকেন্দ্রিক সমাজে মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। এটা যেন সামাজিক ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২ জানুয়ারী আয়নাল মিয়া (৪৩) স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করে। একই দিনে সদর উপজেলার মসিনাবন্ধ এলাকায় ৭ মাসের অন্তঃসত্বা মাকসুদা আক্তার (২৩) আত্মহত্যা করে। ৪ জানুয়ারী বন্দরে গৃহবধু শরিফার(১৮) আত্মহত্যা করে। ৭ জানুয়ারী আমলাপাড়ায় মনোয়ারা আক্তার (২০) আত্মহত্যা করেছে। একই দিনে আড়াইহাজারে পারিবারিক কলোহের জের ধরে কামাল হোসেন (৩৪) আত্মহত্যা করেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারী জল্লারপাড় এলাকাতে সুরাইয়া আক্তার (১৩) নামের এক স্কুল ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ২৮ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লায় প্রেমের বিয়ের ৩ মাসে স্বামীর উপর অভিমান করে আত্মহত্যা করে নববধূ রুপা (২০)। মার্চ মাসের ৩ তারিখে পাগলার নয়ামাটি এলাকায় নাদিম (৩২) আত্মহত্যা করে। ১৩ মার্চ সোনারগাঁয়ে সাবিকুন নাহার নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। ১৫ মার্চ একই এলাকায় নববধূ আত্মহত্যা করে। ১৮ মার্চ কোতালের বাগ এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে রুবেল (২৪) আত্মহত্যা করে। অপরদিকে, অপরাধ প্রবণ এ শহরে বাড়ছে অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনাও। বিভিন্ন কারণে বছরের শুরু থেকেই অপহরণ ঘটছে নিয়মিত। গত বছরের রেশ ধরে বছরের প্রথম ৩ মাসে ১৩টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বছরের শুরুতে ১৮ জানুয়ারী ফতুল্লায় এস.এস.সি পরীক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে। একই দিনে আড়াইহাজারে মোশাররফ হোসেন (৯) অপহৃত হয়েছে। ২২ জানুয়ারী পঞ্চবটিতে স্ত্রীকে অপহরণ করতে গিয়ে স্বামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৭ ফেব্রুয়ারী রুপগঞ্জে অপহরণের পর মুক্তিপন না পেয়ে গলা টিপে হত্যা করে। একই দিনে পরিচয়হীন কণ্যা (৮) শিশু গ্রেফতার। ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে বন্দরে প্রতিবন্ধী ও যুবক নিখোঁজ। ১৮ ফেব্রুয়ারী চাষাড়া থেকে চা দোকানী শরীফের স্ত্রী আয়েশা (৩৯) কে অপহরণ করার পর মৃতদেহ পাওয়া যায়। ২২ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী অপহৃত। ২৪ ফেব্রুয়ারী বন্দরে প্রতিবন্ধী যুবতী নিখোঁজ। ২৫ ফেব্রুয়ারী রুপগঞ্জ থেকে অপহরণ হওয়া স্কুল শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তারকে ১২ মার্চ জামালপুর থেকে উদ্ধার। ৯ মার্চ রুপগঞ্জে অপহৃত গার্মেন্টস শ্রমিক উদ্ধার। ২১ মার্চ র্যাব ১১ এর তৎপরতায় ২ নারীসহ অপহরণ চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার। ২৩ মার্চ কালীবাজার থেকে আব্দুর রহিম (৩০), ফরিদুল ইসলাম(১৬) ও রাকিব (২২) অপহৃত। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এর পরের দিন তাদের উদ্ধার করে ডিবি। ২৪ মার্চ শহরের দেওভোগ এলাকা থেকে অপহৃত ৩ জনকে উদ্ধারসহ ৫ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
























