
তানভির আহমেদ সোহেল, গড়াইনিউজ২৪.কম:: নাগরিক সুবিধার জন্য গঠন করা হয় পৌরসভা। মানুষ যেন বাড়তি কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারে, তাদের জীবনযাত্রায় যেন একটু পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে; সে জন্যই গঠন করা হয় পৌরসভা। পৌরসভা গঠনের জন্য কিছু নিয়ম-নীতিও রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলেই কোথাও পৌরসভা গঠন করতে পারে না। পৌরসভা গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের পৌরসভা আইন রয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, স্থানীয় আয়ের উৎস, অকৃষি পেশার শতকরা হার এবং এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত¦ বিবেচনা করে সরকার কোনো পল্লী এলাকাকে শহর এলাকা ঘোষণা করবে। তবে শর্ত থাকে যে, ঘোষিত সেই শহর এলাকায় তিন-চতুর্থাংশ ব্যক্তিকে অকৃষি পেশায় নিয়োজিত থাকতে হবে, মোট ভূমির শতকরা ৩৩ ভাগ অকৃষি শ্রেণীর হবে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব দেড় হাজারের কম হবে না এবং মোট জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার থাকবে। এছাড়া যে এলাকা নিয়ে পৌরসভাটি গঠন করা হবে, সে এলাকার মধ্যে পৌরসভা গঠনের অব্যবহিত পূর্বের তিন বছরের রাজস্ব আয় ২০ লাখ টাকা হতে হবে। অথচ এগুলোর কোনোটিই বিবেচনা করা হয়নি অধিকাংশ পৌরসভা গঠনের ক্ষেত্রে। ফলে নাগরিক সুবিধা দেয়ার বদলে গঠিত পৌরসভাগুলোর অধিকাংশই হয়ে উঠেছে জনদুর্ভোগের অন্য নাম। একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৩২১টি পৌরসভার ৮৬টিতেই নেই সামান্যতম নাগরিক সুবিধা। রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠিত এসব পৌরসভা এখন নিজেই ধুঁকছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়তি করের বোঝা। এই পৌরসভাগুলোতে পয়ঃনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা যেমন নেই, তেমনি নেই সড়ক বাতি। আবার অনেক পৌরসভার নিজস্ব পৌর ভবনও নেই, যা আছে তা ব্যবহৃত হয় মেয়রের দলের রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে। দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে গত সাড়ে ৯ বছরে দেশে ৮৬টি পৌরসভা গঠন করা হয়, যেগুলো এখন হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনদুর্ভোগের অন্য নাম। আমাদের প্রত্যাশা, শুধু ভোটের প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য নতুন করে কোনো পৌরসভা যেন গঠিত না হয়। স্থানীয় সরকার আইনের ধারা মেনে বিদ্যমান শর্তগুলো পূরণ করা হলেই যেন পৌরসভার অনুমোদন দেয়া হয়।একই সঙ্গে যেসব পৌরসভায় এখন পর্যন্ত নাগরিক সুবিধার কোনো অংশই বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষকে নাগরিক সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। এসব পৌরসভার সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের সার্বিক তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। নাগরিক সুবিধা দিতে অক্ষম পৌরসভার বিষয়ে যদি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণও জরুরী হয়ে ওঠে, তাহলে শুধু সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য সেগুলো টিকিয়ে রেখে জনদুর্ভোগ বাড়ানো অর্থহীন প্রক্রিয়া বন্ধেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। আমরা মনে করি, শুধু সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি পৌরসভায় নিজস্ব আয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

























