
সোহেল খান, ঢাকা অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: ঢাকার অদূরে আশুলিয়া ইউনিয়নের কাঠগড়া দুর্গাপুর এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে একটি মাদকের সিন্ডিকেট। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশুলিয়া কাঠগড়ার দুর্গাপুর এলাকায় আলী আহম্মদের বাড়ির পিছনের বাঁশ বাগানে জমজমাট ইয়াবা,গাজা ও হিরোইনের ব্যাবসা চলে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। আর এর নেতৃত্বে রয়েছে কিশোর গ্যাং লিডার মাদক ব্যবসার মূলহোতা ইমরান, সম্রাট ও শাহীন মন্ডল। সঙ্গবদ্ধ ভাবে মাদকসহ ভয়াবহ অপরাধ কর্মকান্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। তাদের বিশৃঙ্খলা মুলক কাজে কেউ বাঁধা দিলেই হামলা।
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার আনাচে কানাচে মাদকে ছয়লাব করে ফেলেছে এরা। তাদের সাথে আরও ৮/১০ জন কিশোর গ্যাং এর সদস্য রয়েছে। মূলত এদের হাত ধরেই ইয়াবা, গাজা ও হিরোইন বিক্রি করে। তাদের প্রত্যকের বয়স ২০/২৫ বছর। তারা নেশা দ্রব্য বিক্রি ও সেবন করে এলাকার শান্তি শৃংখলা নষ্ট করছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্র যদি এখনই দমন করা না যায় তাহলে এলাকার যুব সমাজ খুব শিগগিরই নেশায় আসক্ত হয়ে পরবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, ২রা সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) আশুলিয়া ইউনিয়নের কাঠগড়া দুর্গাপুর এলাকায় জুম্মার নামাজের আগ মহূর্তে সরকার বাড়ির সামনে একদল মাদক সেবি এবং বিক্রেতার আনাগোণা দেখলে ষাটোর্দ্ধ বয়সি করিম সরকার তাদের কর্মকান্ডের ব্যাপারে অবগত বিধায় তাদের শুক্রবারের নামাজের দাওয়াত দেন এবং এলাকার মুরুব্বি হিসাবে ধমকের স্বরে কিছু উপদেশ মুলক কথা বলেন, এতে খিপ্ত হয়ে কিশোর গ্যাং সদস্য মাদক সেবি জুয়েল লাঠি দিয়ে বৃদ্ধ করিম সরকার কে আঘাত করে। এ সময় বৃদ্ধ করিম সরকার লোকজন ডাকাডাকি করলে ঘটনা স্থলে জুয়েলের সাথে থাকা মাদক ব্যাবসায়ী শাহিন মন্ডল -পিতা মোহাম্মদ আলি, ইমরান-পিতা অজ্ঞাত, সম্রাট -পিতা বাবু সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায় তবে মাদক সেবি জুয়েল-কে লোকজন ধরে ফেলে, তার মোবাইল ফোনে দেখা যায় মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে মাদক কারবারের নমুনা। এ ব্যাপারে আশুলিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার জাকির হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানানো হলে মাদক সেবি জুয়েল সব অপরাধ তার কাছে অকপটে স্বীকার করে এবং বলে মাদকের সাথে যারা জড়িত আছে তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং নিজে কখনো মাদক নিবেনা বলে স্বীকার করে। মেম্বার জাকির হোসেন জানান, মাদকের বিষয়ে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা আমি প্রশাসন কে অবগত করে কিশোর গ্যাং এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই কার্যকরী পদক্ষেপ নিবো। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমির মালিক ও পুলিশের তোয়াক্কা না করেই তারা তাদের ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনা কেউ। কথা বলতে গেলেই হামলা চালাই। মারধর ও হত্যার মত হুমকি ও দেয়। সম্প্রতি, এই গ্যাংয়ের এক সদস্যকে হেরোইনসহ স্থানীয়রা ধরে ফেলে এলাকাবাসী। পরে সে জানায় কাদের নেতৃত্বে চলে এই ব্যবসা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদক ব্যবসায়ী জানান, ইমরান ও শাহীন মন্ডলের নেতৃত্বে তারা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। যেকোন সমস্যা হলে তারাই দেখেন। পুলিশের ঝামেলা হলেও তারা টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। দ্রæত এইসব মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এলাকার সচেতন মহল।

























