কুষ্টিয়া র‌্যাব ১২’র অভিযানে ৩ জন আসামি গ্রেফতার

0
567

মোঃ সেলিম রেজা সালাম, গড়াইনিউজ২৪.কম:: আজ ১৮ই সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১১ টায় গত ১০ই সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮.০০ সময় কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) নামে ভুমি অফিসের এক অফিস সহকারীকে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা গুরুতর আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের আগের রাতে একজন সন্দেহভাজন চোরকে আশ্রয় দেওয়া ও পুলিশের নিকট সোপর্দ করাকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউ.পি সদস্য ও সাবেক ইউ.পি সদস্যদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নিহত আব্দুর রাজ্জাক পরের দিন সকালে কোমরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় আসামি পক্ষের লোকজন সেখানে উপস্থিত হলে পুর্বের রাতের ঘটনা নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে নিহত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী মোছাঃ রেবেকা বেগম বাদী হয়ে পরদিন ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখ কুমারখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নাম্বার ১৭ তারিখ ১১/০৯/২০২২ ধারা ,১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/ ৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় সংঘটিত হত্যাকান্ডটি বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপকচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রæতিতে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব-১২ উদ্যোগী হয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। তারই ধারাবাহিকতায়, সি.পি.সি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প এর র‌্যাব-১২’র আভিযানিক দল কুষ্টিয়া জেলার পাশর্^বর্তী পাবনা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি সহ আরও কয়েকজন ঢাকা শহরে আত্মগোপন করে আছে বলে জানা যায়। অবশেষে গত ১৭ সেপ্টম্বর ২০২২ তারিখ রাতে সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে দক্ষিণখান থানা এলাকা হতে উক্ত হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি (১) শহিদুল বিশ্বাস (৪৭) পিতা, মৃত আকরাম বিশ্বাস, (২) মোঃ ছদ্দিন (৪০) পিতা মৃত আকবর শেখ, এবং (৩) মোঃ রাশেদ জোয়ার্দ্দার(৩৫) পিতা,লাচেন জোয়ার্দ্দার সর্ব সাং-কোমরকান্দি থানা কুমার খালি জেলা কুষ্টিয়া কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকান্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে। স্থানীয় লোকজন অনেকই গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করতে দেখেছে বলে জানা গেছে। আসামিগন এলাকায় দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসাবে ব্যাপক পরিচিত। আসামীদের আদালতে প্রেরন করত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানান, র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।