আ.লীগের সা: সম্পাদকের পদ পাওয়ার যোগ্যতা ও আলোচনার শীর্ষে আছেন হানিফ!

0
781
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ। ফাইল ছবি

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার যোগ্যতা ও আলোচনার শীর্ষে আছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দলের মুখপাত্র হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে সবকিছু সামলেছেন, একই সঙ্গে টানা চারবার তিনি প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব থেকে এবার সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার যোগ্যতা ও আলোচনার শীর্ষে আছেন। আলোচনায় যারা আছেন ওবায়দুল কাদের, মাহবুব উল আলম হানিফ, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাছান মাহমুদ, দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ, মির্জা আজম ও নুর ই আলম চৌধুরী। এ বছর শেষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মেলন, সারা দেশে চলছে সাংগঠনিক প্রস্তুতি। এবার দলটির সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে প্রায় ডজন খানেক নেতার নাম সামনে আসছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে মোকাবেলা করতে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা সামলানোর যোগ্য এ পদের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে সরব রাজনৈতিক অঙ্গন।
সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশে আওয়ামীলীগের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও মূল আলোচনা সাধারন সম্পাদক পদ নিয়ে। টানা দুই মেয়াদে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি এবার থাকছেন না, এটা ধরে নিয়েই পদটির জন্য প্রায় ডজনখানেক নেতা সরব হয়েছেন। টানা ১৩ বছর শাসন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তিনবার জাতীয় সম্মেলন করেছে। প্রতিবারই নেতৃত্ব নির্বাচন হয়েছে সমঝোতার ভিত্তিতে; গোপন ভোটে নয়। সম্মেলনের আগে কোনো পদে কেউ আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা ঘোষণা দেননি, প্রচারেও নামেননি কেউ। তবে ভেতরে-ভেতরে পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও ঘনিষ্ঠ পরিসরে আলোচনা করছেন। সভাপতি পদে শেখ হাসিনাই থাকছেন, এটা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, দল ও সরকার কে আলাদা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। অর্থাৎ যারা মন্ত্রিসভায় আছেন তাদের পারতপক্ষে দলের বড় পদে বিবেচনায় না নেওয়া। ২০১৯ সালের সম্মেলনেও এমন চেষ্টা দেখা গেছে। এজন্য বেশ কয়জন কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার পর দলের পদ হারান। ২০১৮ সালের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া অনেকে আবার দলের পদ পান। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এ সম্মেলন গঠিত কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে সব কিছু সামাল দিয়েছেন, একই সঙ্গে টানা তিনবার তিনি প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব থেকে এবার সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার শীর্ষ আলোচনায় আছেন। করোনাকালীন সময়েও তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগগুলোতে সাংগঠনিক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখে নেতাকর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। সম্প্রতি আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় হেফাজতের তান্ডব মোকাবেলায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ক্লিন ইমেজের এই নেতার গ্রহণযোগ্যতা অন্যদের থেকে বেশি। সমসাময়িক বিষয়ে কলাম লিখে তিনি মেধার পরিচয় দিয়েছেন, অন্যদিকে সাংগঠনিক কাজে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যে কোন প্রয়োজনে নেতাকর্মীরা তাকে পাশে পান এবং তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। আওয়ামী লীগের প্রবীণ-নবীন নেতা কর্মীদের সম্বনয় ও যোগসুত্র স্থাপনে সব সময় আস্থা নির্ভরতার পরিচয় দিয়ে আসা মাহবুব-উল-আলম হানিফ নিজের বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। দলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং সম্মেলনের কাউন্সিলরদের প্রতি অনুগত থেকে তিনি আগামীতেও প্রাপ্ত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে জানান। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নানা কারণেই এবারের সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীকদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি দলের অভ্যান্তরিণ ভেদাভেদ দূর করার জন্য সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণে সব দিক বিবেচনা করে নেত্রী যোগ্য ব্যক্তিকেই এ পদটি দেবেন বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে যারা এ পদের জন্য আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আব্দুর রাজ্জাক ও জাহাঙ্গীর কবির নানককে এগিয়ে রাখেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক বিষয়াদি এবং অভ্যন্তরীণ কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলের নেতাদের বড় ভূমিকা থাকে না। মাঠের বক্তৃতা টিভির টকশোতে অংশ নিয়ে দলের পক্ষে কথা বলা, বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে দলকে ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করাই জ্যেষ্ঠ নেতাদের বড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব বিবেচনায় নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, বর্তমান ৮১ সদস্যের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিষয়ভিত্তিক সম্পাদক পদে কিছু কিছু নেতা দীর্ঘদিন ধরে আছেন। তাদের অনেকে এবার বাদ পড়তে পারেন। কাউকে কাউকে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আবার সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা নেতাদের কেউ কেউ এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশ সময়: বাংলাদেশ: ১৭.০৫মিনিট।
গড়াইনিউজ/ছন্দ