দিনাজপুর আদর্শ কলেজের শিক্ষকদের বকেয়া বেতন আদায়ের দাবীতে অধ‍্যক্ষকে অবরুদ্ধ!

0
606

চন্দন মিত্র, দিনাজপুর প্রতিনিধি, গড়াইনিউজ২৪.কম:: অধ‍্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বে উদাসিনতার কারনে দীর্ঘ ৯মাস যাবৎ দিনাজপুর আদর্শ কলেজের অনার্স শিক্ষক ও কর্মচারিরা তাদের ন‍্যায‍্য পারিশ্রমিক তথা বেতন থেকে বঞ্চিত বলে এর প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতন আদায়ের দাবীতে ১০এপ্রিল সকাল ১১টায় দিনাজপুর আদর্শ কলেজের অনার্স বিভাগের শিক্ষকরা অধ‍্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।এ সময় অনার্স ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা সাংবাদিকদের বলেন গর্ভানিং বডির মিটিং রেজুলেশন সবকিছুকেই উপেক্ষা করে অধ‍্যক্ষ ড.রেদওয়ানুর রহমান নিজের খেয়াল খুশিমত চলছে এবং শিক্ষক কর্মচারিরা যে দীর্ঘদিন যাবৎ বেতন পাচ্ছে না শিক্ষকরা কতটা দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে সেদিকে তার বিন্দুমাত্র কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।।ইতিপূর্বে গর্ভনিং বডির মিটিং এ অনার্স শিক্ষকদের চার মাসের বেতন প্রদান করা হবে মর্মে রেজুলেশন করে শুধুমাত্র শিক্ষকদের বেতন প্রদানের চেক কলেজের গর্ভানিং বডির সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরনের এজেন্ডায় উল্লেখ থাকলেও অধ‍্যক্ষ তার নিজের স্বার্থকে চরিতার্থ করার উদ্দেশ‍্যে অনার্স শিক্ষকদের বেতন প্রদানের চেকের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পিএফ প্রদানের চেক এবং আনুসঙ্গিক খরচাবলির চেক সভাপতি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রেরনের ফলে অনার্স শিক্ষকদের বেতন প্রদানের চেকটিও আটকে যায়।ফলে অনার্স শিক্ষকদের বেতন প্রদানের বিষয়টি আবারও অনিশ্চিত হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন আদর্শ কলেজের অনার্স শিক্ষক পরিষদের সভাপতি শহীদুল্লা সাদি,সাধারন সম্পাদক মোঃ জসীম উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আসাদ আলী।এছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস‍্য শিক্ষক প্রতিনিধি সাজমিন সুলতানর সাথে কথা বললে তিনি প্রতিনিধিকে জানান যে দীর্ঘ করোনাকালিন সময় আমরা পিএফ থেকে ৫০হাজার টাকা করে লোন নিয়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করেছি।কিন্তু দীর্ঘ নয় মাস যাবৎ আমরা শুধুমাত্র অধ‍্যক্ষের কারনে বেতন থেকে বঞ্চিত।মানুষ গড়ার কারিগর নাকি শিক্ষকদের বলা হয়।অথচ এই মানুষ গড়ার কারিগর গুলোই আজ ন‍্যায‍্য অধিকার থেকে বারংবার বঞ্চিত হচ্ছে।তাদের পারিশ্রমিকটা নিতেও করতে হচ্ছে আন্দোলন।শিক্ষকরা কতটা অসহায়ত্ত্ব জীবন যাপন করছে সেদিকে অধ‍্যক্ষের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।বরং অধ‍্যক্ষ দিব‍্যি নাকে তেল ঘুমাচ্ছেন। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক ও অনার্স শিক্ষকদের মধ‍্যে বৈষ‍ম‍্য সৃষ্টি করাই বর্তমান অধ‍্যক্ষের মুল উদ্দেশ‍্য হয়ে দারিয়েছে।এর কারন হিসেবে তিনি বলেছেন জেনারেল শিক্ষার্থীদের আদায়কৃত হিসাব ও অনার্স শিক্ষার্থীদের আদায়কৃত অর্থের হিসাব একই ব‍্যাংক হিসাবের মাধ‍্যমে পরিচালনা করা।দ্বিতীয়ত গত ২০২০-২১অর্থবছরে অনার্স শিক্ষার্থীদের ব‍্যাংক হিসেব ছিল ২কোটি ২০লক্ষ টাকা যেই টাকায় আমাদের বেতন বকেয়া থাকার কথা নয়। কিন্তু বর্তমানে এসে দারিয়েছে কোটি টাকায়।যা অডিট করলেই বেরিয়ে আসবে তার স্বেচ্ছাচারিতার আসল রহস‍্য।এছাড়াও তার সহধর্মনীকে এমপিও ভুক্তির আগে খন্ডকালিন শিক্ষক দেখিয়ে বেতন প্রদান যে কোন ডিপার্টমেন্টের নিয়োগকৃত পরীক্ষায় কলেজের শিক্ষকদের প্রাধ‍ান‍্য না দিয়ে তার মহিলা কলেজে কর্মরত তার বোন ও স্ত্রীকে দায়িত্বে নিয়োজিত করা। জাতীয় বিশ্ব বিদ‍্যালয়ের অধীনে অনার্স পরীক্ষাগুলোতে  বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষকরা পায় ৪থেকে ৫টি ডিউটি।কিন্তু তার সহধর্মনী নাদিরা পারভিন পায় ৭থেকে ৮টি।শুধু এখানেই শেষ নয় এরকম আরো অনেক তার স্বেচ্ছাচারিতা রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না বলে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন।অনার্স বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষক ও কর্মচারি পিয়নসহ ৭২জনের দীর্ঘদিন বেতন বন্ধের কারন জানতে চাইলে আদর্শ কলেজের অধ‍্যক্ষ‍্য ড.সৈয়দ রেদওয়ানুর রহমান বলেন শিক্ষকরা বেতন পাক আমিও চাই।কিন্তু জেলা প্রশাসক এর দপ্তরে শিক্ষকদের চার মাসের বেতন প্রদানের চেকের সাথে কলেজের প্রাত‍্যিহিক ও আনুসঙ্গিক খরচের বিল ভাউচারকৃত চেক প্রেরনের ফলে শিক্ষকদের বেতনের চেকটি পাশ না হওয়ায় তাদের বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।তবে আজ ১০এপ্রিল শিক্ষকদের চার মাসের বেতন প্রদানের চেক প্রেরন করা হয়েছে তা পাশ হয়ে এলেই সকলে বেতন পেয়ে যাবে।তবে  উল্লেখিত যে শিক্ষকদের আজ দাবীর মুখে এবং অধ‍্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার কারনেই অনার্স শিক্ষদের বেতন প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন এবং শিক্ষকদের সংগে কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে  উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রদানে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহনের উদ‍্যোগ নিয়েছেন।