কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা!

0
113

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে শিপন আলী (৩০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২২ মে) রাতে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পিতম্বর বশি গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।  শিপন আলী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পিতম্বর বশি গ্রামের উত্তরপাড়ার আলতাব শেখের ছেলে। তিনি গদিয়ার বাজারে ডেকোরেশনের ব্যবসা করতেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী। তিনি গদিয়ার বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিপন আলী দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত তাকে ধরে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শিপন আলী বুকের ওপর আঘাত করে পালিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দেখেন, শিপন মারা গেছেন। সকালে মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, শনিবার রাতে ডেকোরেশনের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাচ্ছিলেন শিপন। এ সময় সুমনের নেতৃত্বে দুবৃত্তরা তাকে রাস্তায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। শিপন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মাসুদ মোল্লার সমর্থক। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর বলেন, প্রতিপক্ষের নেতা শনিবার বিকেলে গোদের বাজারে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করেন। আর রাতে আমার সমর্থিত শিপনকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।  নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের নেতৃত্বে মৃত আকবরের ছেলে কবির, কালাইয়ের ছেলে মিজান, বাবলু মাস্টার, ময়েনসহ ১০-১২ জন শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় শিপনকে রাস্তার পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ বিষয়ে জানতে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। পরে সুমনের বড় ভাই মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমার ছোট ভাই একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়। সে কারণে যেকোন ঘটনায় সুমনের দোষ হয়। তবে এ ঘটনায় সমুনের কোনো হাত নেই। তিনি আরও বলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, পিতম্বর বশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে শিপনের ওপর হামলা হয়েছে। ধারালো কুড়াল দিয়ে শিপনের বুকে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ এলাকা পরিদর্শন ও বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিহত শিপনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিপনের পরিবার হত্যা মামলা করবে বলে জানিয়েছে। মামলাটি করা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।