
গড়াইনিউজ২৪.কম:: সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বাউল ভাবদর্শন অন্ধকারের শক্তি রুখে দিতে পারে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাউল দর্শনের মূলকথা মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা আর সম্প্রীতি।’ রবিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালায় আয়োজিত এক বাউল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর এ কথা বলেন। শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে ১১ আগস্ট থেকে জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয়েছে ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী লালন ভাবধারার ভাবশিষ্যদের নিয়ে ‘ভাবসঙ্গীত ও সম্মেলন’। এ আয়োজনের শেষদিনে রবিবার সকালে চিত্রশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ। অনুষ্ঠানে বাউল সাধক নহির শাহ, বাউল পাগলা বাবুল ও বাউল হৃদয় সাধু বক্তব্য দেন। এতে সারাদেশ থেকে আগত প্রায় ৩০০ জন বাউল উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাউলের যে দর্শন তা আমাদের জীবনেরই দর্শন, যে দর্শন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-পেশার মধ্যে ভেদাভেদ না করে সবাইকে মনুষ্যত্বের আহ্বানে একত্রিত করে। এটি সমগ্র মানবজাতির দর্শন, যার ছায়ায় সব ধর্মের-গোত্রের-সম্প্রদায়ের মানুষ সমবেত হতে পারে।’ মানুষ মানুষে যখন ভালবাসার ঘাটতি হয় তখন শুরু হয় সংকট, ঘটে নানা বিপর্যয় ও ধ্বংস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিস্থিতির উত্তরণে বাউল ভাবদর্শন পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বর্তমানে অন্ধকারের শক্তিগুলো বাংলাদেশে তাদের অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। তারা ধর্মের নামে মুক্তমনা মানুষ, ব্লগার, লেখক-প্রকাশক, শিল্পী-কবি-সাহিত্যিক, পুরোহিত, ইমাম, বিদেশীসহ নিরীহ মানুষ হত্যা করছে।’ অনুষ্ঠানের শেষদিকে বাউল সাধক নহির শাহের সাথে সমবেত সবাই লালন সাঁইয়ের ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি পরিবেশন করেন। পরে সংস্কৃতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় চিত্রশালা হতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ’ সম্বলিত ব্যানার, একতারা, দোতারাসহ দেশীয় বাদ্যযন্ত্র নিয়ে লালন সাঁইয়ের গানের তালে তালে বাউলদের পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতি সচিব ও শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক এতে অংশগ্রহণ করেন।






















