
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে বাস্তব প্রশিক্ষণ করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমান তত্বাবধায়ক এসে হঠাৎ সেটি বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করেন তারা। বন্ধের পরে যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইন্টার্র্নির অনুমতি নিয়ে আসলে উনি সুযোগ দিবেন। এরকম কোন বিধান না থাকার পরেও, শুধুমাত্র তার কথা রাখতে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেন। সেই আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, গত ১৮/৫/২২ তারিখ হঠাৎ কুষ্টিয়ার তিনি কুষ্টিয়ার ২ টি বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউট কে গোপনে বাস্তব প্রশিক্ষণ করার অনুমতি দেন। শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনটিরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বাস্তব প্রশিক্ষণের অনুমতিপত্র নেই। এরপর তার সাথে যোগাযোগ করি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট গভর্নর লবনি খাতুন তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি শিক্ষার্থী প্রতি ৩০ হাজার করে টাকা দাবি করেন। এটা দিতে পারলে ডিজি হেলথের অনুমতি ছাড়াই ইন্টার্র্নির সুযোগ করে দিবেন মর্মে জানান এমনটি অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, টাকা পয়সা দিতে হবে জেনে আমরা নার্সিং পড়তে আসিনি। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের এই পরিমাণ টাকা দেবার সামর্থ্যও নেই। কুষ্টিয়াতে সবগুলো বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউট এ প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিলে টাকার পরিমাণ হয় বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ। বিগত সময়ে এই চর্চা না থাকলেও, আমাদের মনে হচ্ছে, একটি চক্র নতুন করে এই ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা গরীব শিক্ষার্থীদের অত্যাচার করে হাতিয়ে নেবার চক্রান্ত করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে রাতদিন কারিগরি শিক্ষাকে আরও মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাবার কথা বলছেন। সকল শর্ত সহজতর করছেন। এছাড়া করোনার পরে আমাদের অনেকের অভিভাবকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে। সেখানে এরকম একটা অন্যায় আবদার মানতে গেলে গরীব শিক্ষার্থীদের অনেকেরই লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হবে। এই ঘটনার প্রতিবাদে (২১মে) সকালে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়কের কার্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা এবং তাদের পূর্বের মতো বাস্তব প্রশিক্ষণের সুযোগ না দেয়া পর্যন্ত এই অবস্থান ধর্মঘট চলবে বলে জানান।

























