এ মাটির গৌরব কর্মবীর একজন মজিবর রহমান!

0
845

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মোহিনী মিল সহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া শিল্পের ঐতিহ্য হারাতে বসে। ঠিক সে সময় ১৯৭৮ সালে ২৩ অক্টোবর কুষ্টিয়া শহরের বিসিক শিল্প নগরীতে বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদন শিল্প বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ প্রতিষ্ঠা করেন আলহাজ্ব মজিবর রহমান। মাত্র ৩১ বছর বয়সে ট্রেডিং ব্যবসা থেকে সরে এসে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যা আজ বাংলাদেশে শীর্ষে এবং অন্যতম বিশ্বে। কুষ্টিয়া আবার শিল্পের নগরীতে পরিণত হয়। শিয়াল ডাকা বিসিক আবার প্রাণ ফিরে পায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর কোলাহলে। কুষ্টিয়ার মাটি মানুষকে ভালোবেসে তিনি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এই মাটিতে। শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসে কুষ্টিয়ায়। বিআরবি নামের এই প্রতিষ্ঠান ভাই এর সাথে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৮৩ সালের পূনরায় নতুন ভাবে পথচলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন মজিবর রহমান নিজেই। বিআরবির পর এমআরএস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ, কিয়াম মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ, বিআরবি পলিমার লিঃ, বিআরবি সিকিউরিটিজ লিঃ, বিআরবি এয়ার লিঃ, বিআরবি হসপিটালস লিঃ, কিয়াম ছিরাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট, বিআরবি এনার্জি লিঃ, সেলিমা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল লিঃ, লাভলী হাউজিং লিঃ, হাসিব ড্রীম স্কুল কলেজ গড়ে তুলেছেন নিজের শ্রম, মেধা এবং দুরদর্শী শক্তি থেকে। শুধু কুষ্টিয়া নয় বাংলাদেশ গর্ব করে বিআরবি গ্র“প অব ইন্ডাষ্ট্রিজ কে নিয়ে। ১৯৯৪ সাল থেকে তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ সিআইপি মর্যাদা পেয়ে আসছেন। আলহাজ্ব মজিবর রহমান ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালে সেরা করদাতা, ২০১০ সালে খুলনা বিভাগে দীর্ঘমেয়াদী সেরা করদাতা এবং কর বাহাদুর সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৩ সালে মাদ্রিদ, স্পেনের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রফি ফর কোয়ালিটি এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ২০১২ সালে ইউরোপ বিজনেস এ্যাসেম্বিলি, অক্সফোর্ড, ইউকে কর্তৃক বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ বেষ্ট এন্টারপ্রাইজ এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন। ২০১৩ সালে দুবাই এর ব্রীজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ওয়ার্ল্ড বিজনেস লিডার এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন, শিল্পখাতে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৯ অর্জন করেন।আলহাজ্ব মজিবর রহমান কুষ্টিয়ার অর্থনৈতিক চেহারায় শুধু পরিবর্তন করেননি, শিল্প সাহিত্য সংবাদপত্র সংস্কৃতিতে তাঁর ভূমিকা অনন্য। শিক্ষা-ক্রীড়া, চিকিৎসায় তার অবদান অনেক। কর্মসংস্থান তৈরীর ক্ষেত্রে তিনি এক অনুপম দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমান করেছেন নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা, নিষ্ঠা এবং সততাই যথেষ্ট। যে সময়ে মানুষ চাউল আর আটার ব্যবসা করতো, বিদ্যুৎহীন সেই অন্ধকার যুগে বিদ্যুতের তার তৈরীর ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা এটি অত্যন্ত শক্তিশালী দুরদর্শী ভাবনা থেকেই সম্ভব।