কুষ্টিয়াবাসীর উন্নয়নের জন্য আমি আমার সাধ্য মতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি : মো: মজিবর রহমান

0
2387

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ১৪ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের যে আয়োজন করেছেন পৌর পিতা জননন্দিত পৌর মেয়র আনোয়ার আলী তা কল্পনাতীত কথাটি বলেছেন কুষ্টিয়া বিআরবি গ্র“পের চেয়ারম্যান মো: মজিবর রহমান।  আজ রবিবার সপ্তম দিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার পৌর এলাকা এখন আরও অনেক বেড়ে গেছে, জানজটও বেড়েছে অনেক, কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশন তৈরী করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পৌর মেয়র, আমি মনে করি এই কুষ্টিয়া এক সময় সিটি কর্পোরেশন হয়ে যাবে। পৌর মেয়র আনোয়ার আলী ইতিমধ্যে অনেক উন্নয়ন করেছেন আরও করে যাচ্ছেন। এই কুষ্টিয়া পৌরসভার রয়েছে গৌরবান্বিত ইতিহাস। নানামুখি কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে এই পৌরসভাটি তার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পৌর মেয়র কুষ্টিয়া বড় ষ্টেশনের পার্শ্বে একটি পার্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি তাকে সাধুবাদ জানাই সেইসাথে আমার কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হলে আমি সহযোগীতা করবো। তিনি বলেন, পৌর মেয়রের কাছে আমার অনুরোধ রইল বর্জ্য ফেলানোর জন্য আলাদা একটি জায়গা নির্ধারন করেন, পৌরসভার বাজেট বা গর্ভমেন্ট এর কোন প্রজেক্ট দিয়ে বর্জ্য নিস্কাসনের ব্যবস্থা করুন নইলে পরবর্তীতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। অন্যদিকে কুষ্টিয়া শহরে যানবাহনের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় রাস্তায় অনেক জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে, তার দিকে নজর দিতে হবে বলে পৌর মেয়রকে বলেন। সেক্ষেত্রে আমাদের যদি কোন ধরনের সহযোগীতার প্রয়োজন পড়ে সেটা আমি দেখব। সপ্তম দিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমার সম্পর্কে আপনারা যা বলেছেন তা অতটা নয় তবে কুষ্টিয়াবাসীর উন্নয়নের জন্য আমি আমার সাধ্য মতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের দোয়া ও সহযোগীতায় আজ আমি অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান করতে পেরেছি তাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমার ইচ্ছা ছিল কুষ্টিয়াতে একটি হসপিটাল তৈরী করার, তার আগেই ঢাকাতে একটি হসপিটাল তৈরী করেছি। বর্তমানে কুষ্টিয়া কাষ্টমমোড়ে একটি হাসপাতাল তৈরীর কাজ করে যাচ্ছি সেটি প্রস্তুত হতে আরও অনেক সময় লেগে যাবে, কারন বৃহত পরিসরে যে হসপিটালটি হচ্ছে তা কোন ছোট খাট হসপিটাল নয়। পূর্ণাঙ্গরূপে করতে হলে আরও ভবনের প্রয়োজন। যে ভবনটি হচ্ছে এই ভবনের মত সেখানে আরও এখনো ৫টি ভবন নির্মান করতে হবে। সমস্যা হল একটাই সেটা হল জমি পাওয়া যাচ্ছে না, জমি পেলেও ১ টাকার জমি ২০ টাকা দাম হাকিয়ে বসছে বিক্রেতারা। তিনি আরও বলেন, আমার কারনে কুষ্টিয়াতেনাকি জমির দাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি কুষ্টিয়ার জন্য আরও অনেক কিছু করতে চাই কিন্তু আপনাদের সহযোগীতা আমার প্রয়োজন। অন্যদিকে আপনাদের কোন সমস্যার কথা বলার আগেই আমি সেটার দিকে হাত বাড়িয়ে দিই। সাহায্য সহযোগীতার কোন ত্র“টি রাখিনা। বর্তমানে যে হসপিটালটি নির্মিত হচ্ছে তাতে সেবার কোন ধরনের ক্রুটি থাকবেনা না সর্ব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হবে, চিকিৎসার জন্য আর কোন রোগীকে বাইরে যাওয়া লাগবেনা। পৌর মেয়র আনোয়র আলী তিনি আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন তাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই এতবড় একটা অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য। সপ্তম দিনের অনুষ্ঠান মালার সভাপতি পৌর মেয়র আনোয়ার আলী প্রধান অতিথি মো: মজিবর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি একজন উদার মনের মানুষ তার কাছে যে বিষয় নিয়ে গিয়েছি তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার সমাধান করে দিয়েছেন, স্কুল কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থানসহ একাধিক সেবামুলক প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়েছেন। আমি তার দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করি তিনি যেন কুষ্টিয়াসহ দেশের মানুষের জন্য আরও জনকল্যানকর কাজ করে যেতে পারেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো: আব্দুল মুহিত, তিনিও পৌর মেয়য়ের উদ্দেশে বলেন, বর্জ্য নিস্কাশন ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দিতে উৎসাহ প্রদান করেন। এছাড়াও কুষ্টিয়া পৌরসভা মানব বর্জদিয়ে সার তৈরি করে বাংলাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভা এবার তরকারীর উচ্ছিষ্ট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশন করেন দেশবরেণ্য শিল্পীবৃন্দ। রাত ১০ টায় মনোমুগ্ধকর যাত্রা পরিবেশিত হয়। উল্লেখ্য অনুষ্ঠানটি আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিনই থাকছে আলোচনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান। এদিকে গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতি সর্ম্পকে শহুরে মানুষকে পরিচিত করাতে পৌর চত্বরে বসেছে মেলা। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন কুষ্টিয়া পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ রানভীর আহমেদ ও পৌর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাবিনা ইসলাম।