
কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা পাচার করছে ভারতে। এলাকাবাসী জানায়, বাবু মাদকের গডফাদার। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা। তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মাদকসহ দুইটি চলমান মামলা রয়েছে। সে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওপেন এই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুড় ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ কপট নগরের সাবেক মেম্বার ইসাহকের ছেলে এলাকার মূর্তিমান ত্রাস প্রভাবশালী বাবু(৩৮) মাদক অস্ত্র ও হুন্ডির ব্যবসায় কোটিপতি বনে গেছে। ভারতীয় সীমান্ত থেকে ফেন্সিডিল গাঁজা অস্ত্র ও হেরোইন পাচার করে দৌলতপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা বাংলাবাজার, কায়মারি, কল্যাণপুর ও তারাগুনিয়ায় এই সব মাদক সরবরাহ করছে বাবু ও তার লোকজন। জানাযায়, বাবুর এই মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীর পার্টনার মুন্সীগঞ্জের বিপ্লব সাতদিন আগে দৌলতপুর থানার এস আই খসরু আটক করলেও বাবু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় সকল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে থাকে। সে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে প্রতি মাসে মাসোহারা দিয়ে হেরোইন ফেন্সিডিল গাঁজা অস্ত্র ও হুন্ডির ব্যবসা করছে। চোরাকারবারিদের ভারত থেকে ব্লাকে মাদক অস্ত্রের সমস্ত টাকা যোগান দেন এই বাবু। গত এক মাস আগে মুন্সীগঞ্জের বিপ্লব জাহাঙ্গীর ও বাবু পদ্মা নদীতে ট্রলার যোগে ১হাজার ৩শত বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে ঢাকায় পাচার করতে গেলে পাটুরিয়া ঘাট থেকে প্রশাসন ১হাজার ৩শত বোতল ফেন্সিডিল সহ জাহাঙ্গীরকে আটক করে। মাদক গড ফাদার বাবু ও বিপ্লব পালিয়ে যায়। আন্তজেলাঃ মাদক ও অস্ত্র দীর্ঘদিন এই চক্র ভারত থেকে এই মাদক ও অস্ত্র পাচার করে আসছে। ভারতের সীমান্ত জলঙ্গিনী থেকে এই মাদক অস্ত্র পাচার করে মাথা ভাঙ্গা নদী হয়ে ভারতের সরকার পাড়া কাচারি নদীয়া বাইশমারি নাসিরপাড়া হয়ে ভারত রুট থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে মূন্সীগঞ্জ বর্ডার জামালপুর বর্ডার, চল্লিশপাড়া মরার চর, বাংলাবাজার হয়ে মুন্সীগঞ্জে এই মাদক ও অস্ত্র পৌছে যায়। মাদক গড ফাদার বাবু মুন্সীগঞ্জে অবৈধ হুন্ডির রমরমা ব্যবসা করছে। কথিত মিনি ব্যাংক নামে পরিচিত বাবুর এই হুন্ডির ব্যবসা। দৌলতপুরের অনেক লোক ভারতের ক্যারেলা প্রদেশে রয়েছে। তারা ক্যারেলা প্রদেশ থেকে মাদক ও অস্ত্র পাঠায়। বাবু তাদের পরিবার পরিজনকে এখানে টাকা দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী বাবুর হুন্ডির মিনিব্যাংকখ্যাত অফিসে নেটওয়ার্কের সিগনাল পাওয়ার জন্যে রয়েছে বড় দুই-তিনটি এন্টেনা, এবং ভারতের অভ্যান্তরে যোগাযোগের জন্যে রয়েছে শতাধিক সীমকার্ড। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কাছে এলাকাবাসির আবেদন সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে মাদক অস্ত্র ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার কাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুন্সীগঞ্জ এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া জেলার অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার মূলস্থান বাবুর মুন্সীগঞ্জের হুন্ডিখ্যাত মিনিব্যাংক অফিসে। এখানে চোরাকারবারি মাদক ব্যবসা সহ কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠায়। ১ লক্ষ টাকা পাচার করলে বাবুকে ২ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। প্রতিদিন শতাধিক লোক এইভাবে অবৈধ উপায়ে ভারতে টাকা পাঠায়। এখানে স্থানীয় প্রশাসন এই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার তো দূরের ব্যাপার পাহারা দিয়ে রাখে বলে জানাযায়। এব্যাপারে অভিযুক্ত বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ দারা খানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বাবু একজন মাদক ব্যবসায়ী। আমার থানার এস আই শাহাদত বাবুর বিরুদ্ধে মাদক মামলার চার্জশীট দাখিল করেছে। অতি দ্রুত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হতে যাচ্ছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























