কুষ্টিয়ায় আলামপুর ইউনিয়নে এক জামায়াত শ্বশুড়ের কান্ড!

0
1710

ষ্টাফ রিপোর্টার, গড়াইনিউজ২৪.কম :: মুখে ইসলামের কথা কিন্তু কাজে সম্পূর্ন বিপরীত। নাম তার জমির হোসেন খাঁ। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের জামায়াতের নেতা। ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবীতে নিজের ছেলে বউ সানজিদা আফরোজ রুমা ওরফে লাবনীকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু তাড়িয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হননি এই জামায়াত নেতা। ভিকটিম সানজিদা আফরোজ রুমার গর্ভজাত সন্তানকেও কেড়ে রেখেছেন। আরও নিষ্ঠুরতা হচ্ছে ভিকটিম সানজিদা আফরোজ রুমার গর্ভজাত একটি সন্তান ২০১৪ সালের জুনের ২২ তারিখে কুষ্টিয়া আদ্-দীন হাসপাতালে জন্ম গ্রহন করে সেই সন্তানের পিতার নাম পরিবর্তন করে জন্ম নিবন্ধন তুলে নিজের মেয়ে জরিনার সন্তান দাবী করছে ওই জামাত নেতা । উল্লেখ্য এ জামাত নেতার সেই মেয়েটি নিঃসন্তান বলে জানা যায়। ভিকটিম সানজিদা আফরোজ রুমার বিচার দাবী করে ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এ জামাত নেতা সহ তার ছেলে তৌহিদুল হাসান তারেক খাঁ ও তার স্ত্রী খোদেজা খানমের নামে একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটির ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (ক) (গ)/৩০ ধারা অর্থাৎ যৌতুকের জন্য মারপিট করে সাধারন জখম, হত্যার চেষ্টা এবং উক্ত কাজে সহায়তার অপরাধ। কুষ্টিয়া মডেল থানা মামলা নম্বর ০২ মতান্তরে কুষ্টিয়া জি আর ২৩৩/১৬। মামলাটি বর্তমান তদন্তাধীন থাকায় এ জামাত নেতা তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে ভিকটিম সানজিদা আফরোজ রুমাকে হত্যার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ভিকটিম সানজিদা আফরোজ রুমা তার নাবালক সন্তানদের উদ্ধার চেয়ে কুষ্টিয়ার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০০ ধারা মতে সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যুর প্রার্থনায় নালিশী দরখাস্ত দায়ের করেন। যার নং কুষ্টিয়া মিস ৭১/২০১৬। বিজ্ঞ আদালত নাবালক সন্তানদের মঙ্গলের কথা বিবেচনায় এনে আসামী তৌহিদুল ইসলাম তারেক খাঁকে নাবালক সন্তানদের নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতে উপস্থিত হওয়ার তারিখটি ছিল ৫ অক্টোবর ২০১৬। কিন্তু বিধিবাম! আসামীপক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে লোক বলে বলীয়ান হয়ে আদালত চত্ত্বরে ভিকটিম সানজিদা আফরোজ রুমা ও তার পরিবারের উপর মারমুখী অবস্থান নেয়। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নাবালিকা সন্তানদের দাদীর মাধ্যমে আদালতে হাজির করে নানা তালবাহানা করতে থাকে। বিজ্ঞ আদালত বাস্তব অবস্থা পর্যাবেক্ষন করে আসামীপক্ষের অসৎ উদ্দেশ্যে উপলব্ধি করে মামলাটির শুনানীর জন্য আগামী ১০ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করে। এমতাবস্থায় আসামী পক্ষ বলে বেড়াচ্ছে যে, টাকা দিয়ে আইন আদালত সব কিনে নিয়েছি এমনকি কোর্টের সব উকিল আমাদের পক্ষে রয়েছে কাজেই নাবালিকা সন্তানকে কোনভাবেই মায়ের কাছে দিব না। কিন্তু আইন অনুযায়ী নাবালক সন্তানদের বিকাশ, মঙ্গল ও মানসিক প্রশান্তির জন্য মায়ের হেফাজতে থাকার পক্ষে আইন ও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। চলমান পর্ব…….