কুষ্টিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কমলাপুরের গিরিজানাথ মজুমদার সড়কের বেহাল দশা!

0
605
কুষ্টিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কমলাপুরের গিরিজানাথ মজুমদার সড়কের বেহাল দশা! যেন দেখার কেউ নেই!

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: গত এক যুগের উপরে সংস্কার করা হয়নি কুষ্টিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কমলাপুরের গিরিজানাথ মজুমদার সড়ক। রাস্তা বলতে এখন আর কিছুই পাওয়া যায় না। শীতকালে রাস্তার রেখা চোখে পড়ে জায়গায় জায়গায় ইট ও পিচ বা বিটুমিনের ছেঁড়া অংশ দেখলে মনে হয় কোন একদিন এখানে রাস্তা ছিলো। কিন্তু বর্তমানে তার আর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। কতকাল আগে এই রাস্তার শেষ সংস্কারের কাজ হয়েছে তা এলাকার বাসিন্দারা মনে করতে পারে না। গল্পটা কুষ্টিয়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কমলাপুরের গির্জানাথ মজুমদার সড়কের। শহরের প্রান কেন্দ্র কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন, কুষ্টিয়া পৌরসভার পাশ দিয়ে শহরের সাথে যুক্ত হয়েছে কুষ্টিয়া -মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-উত্তর বঙ্গ মহা সড়কের প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে চলাচল করে। বিশেষ করে এই সড়ক শহর বাইপাসের কাজ করে থাকে। এই রাস্তার সাথে যুক্ত কমলাপুর হাজী ওয়াজেদ আলী হাফেজিয়া মাদ্রাসা, কমলাপুর জামে মসজিদ, পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ, জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রেনউইকএন্ড যজ্ঞেশ্বর কোম্পানি, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস, কুষ্টিয়া পৌরসভ, কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি, টেলিফোন অফিস, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, শহর ও সদর ভুমি অফিস সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র ব্যবসা কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বড়বাজার এর সাথে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ এর মাধ্যম এই রাস্তা। এছাড়াও কমলাপুর ব্রীজ দিয়ে শহরে চলাচল করে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৩-১৪-১৫-১৬ নং ওয়ার্ডের দশটি গ্রাম মিরপুর থানার তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন এর ও বিশেষ করে পদ্মার পাড়ের লোকজনের কর্ম,শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। রাস্তার অবস্থা দেখলেই মনে হয় কয়েক যুগ সংস্কার করা হয় নি। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের পুরাতন আলফার মোড় পার হলে হাতের ডান দিক দিয়ে যে রাস্তা শহরের ভিতর চলে গেলো সেটাই জি.এন.এম সড়ক বা গিরিজানাথ মজুমদার সড়ক নামে পরিচিত। এই রাস্তার শুরু থেকে নাইমুল কাউন্সিলর এর বাড়ি পর্যন্ত দুইটি মসজিদ ও দুইটি মাদ্রাসা থাকায় প্রতিদিন ৫ বার হাজার হাজার মুসল্লী নামাজ আদায়ের জন্য যাতায়াত করে, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা পানির তলায় তলিয়ে যায়, সারা বর্ষা মৌসুমে রাস্তা থাকে জলমগ্ন অবস্থায়। অনুমানের উপর নির্ভর করে মুসল্লীদের চলাফেরা করতে হয়, তার উপর রাস্তা দিয়ে সবসময় রিক্সা, অটো রিক্সা, ইট,বালুর ট্রলি, নছিমন, করিমন, সিএনজি, মালের ট্রাক চলচলের কারনে রাস্তার ময়লা পানি ছিটকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। এই রাস্তার ড্রেন গুলো ও এক এক জাগায় এক এক রকম। সম্প্রতি চাঁনমারির মাঠের শুরু থেকে রেনউইক মোড় পর্যন্ত যে নতুন ড্রেন নির্মান করা হচ্ছে তার গভীরতা দেখলে অনায়াশয়ে বোঝা যায় যে এই ড্রেন পানি নিস্কাষন নয় বরং ডেঙ্গুর প্রজনন নিশ্চিত করতে কাজ করবে। আর এই রাস্তার শুরু থেকে চাঁনমাড়ীর মাঠ পর্যন্ত ড্রেন এর বেশির ভাগ মানুষে মানুষের দখলে গড়ে উঠেছে টাওয়ার। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় রাস্তা বর্ষা মৌসুমে জলমগ্ন থাকার কারন বলে মনে করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা। এলাকা বাসির কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনের সময় আমরা শুনেছি এই রাস্তার টেন্ডারের কাজ শেষ হয়েছে অচিরেই রাস্তার কাজ শেষ করা হবে, কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই অচিরেই শেষ হয় নি। আমাদের ভোগান্তিরও শেষ হয় নি। এলাকা বাসি অবিলম্বে গিরিজানাথ মজুমদার সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে সঠিক জরিপ অনুযায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য মাননীয় মেয়র জন নন্দীত নগর পিতা জননেতা আনোয়ার আলীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।