দৌলতপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ পেতে মরিয়া বোমারু জাহিদের ভাই জহুরুল!

0
685
দৌলতপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ পেতে মরিয়া বোমারু জাহিদের ছোট ভাই জহুরুল!

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: সাবেক এমপি আফাজ উদ্দীন আহমেদ হত্যা চেষ্টা মামলার সদ্য যাবজ্জীবন কারাদন্ড সাজাপ্রাপ্ত ফ্রীডম পার্টির নেতা বোমারু জাহিদ’র ছোট ভাই জহুরুল আলম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জহুরুল আলম ছাত্রজীবনে ফ্রিডম পার্টি, জাকের পার্টি, দৌলতপুর কলেজ ছাত্রসমাজ’র সভাপতি ও জাতীয় পার্টির দৌলতপুর উপজেলা ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ জাতীয় পার্টি থেকে কুরবান আলীর সঙ্গে যোগ দিয়ে দৌলতপুর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহŸায়ক হন জহুরুল আলম। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের মধ্য কোন সভা-সমাবেশ করতে তো পারেই নি এছাড়াও ইউনিয়ন কমিটিও দিতে পারেনি জহুরুল আলম। জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে দৌলতপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হওয়ার তদবিরে ব্যস্ত তিনি। কয়েকদিন আগে দৌলতপুর আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ শাখা’র কর্মী সমাবেশে দৌলতপুরের সমস্ত নেতাকর্মী জহরুল আলমের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং বক্তারা বলেছেন কোন দলছুট ব্যক্তিকে দিয়ে কমিটি করালে দৌলতপুর উপজেলার তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মেনে নেবে না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফ্রিডম পার্টি করা পরিবারের সদস্যদের দল থেকে বিতারিত করতে হবে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে জহুরুল আলম জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কার বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী নির্বাচন করেন। এছাড়াও ফ্রিডম পার্টি থেকে জাতীয় সাংসদ নির্বাচন করেছেন তার বড় ভাই জাহিদ। এখনই সময় জহুরুল আলম’র পরিবার কে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা তা না হলে তাদের পরিবার আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এই বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবু বলেন, দৌলতপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের জন্য অনেকে আবেদন করেছে, দলের বদনাম হবে এমন কোন ব্যক্তিকে কমিটিতে জায়গা দেয়া হবেনা এবং কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকেও নয়। ঝড় যখন উঠেছে তখন তখন অনেক কিছু উঠে আসছে তো ঝড় থামলে কি করনীয় তখন বোঝা যাবে।
দৌলতপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী, মাদক, অস্ত্র, বোমা ব্যবসায়ী, ফ্রিডম পার্টির নেতা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ওরফে বোমারু জাহিদ এর সাবেক সাংসদ সদস্য আফাজ উদ্দীন আহমেদ হত্যা মামলায় যাবজীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার সময় সাবেক সাংসদ সদস্য আফাজ উদ্দীন আহমেদের তারাগুনিয়ার বাসভবনে মামলার প্রধান আসামি জাহিদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন বোমা বহনকারী আহাদুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক ও এমপির কাছে কাজে আসা তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমত আলী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বোমার স্পিলন্টারে সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ ও স্কুল শিক্ষক হামিদুল ইসলামসহ ৫ জন আহত হন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য ১৯৮৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে কুড়াল মার্কা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দল সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দল ফ্রীডম পার্টি অংশ নেয়। ফ্রীডম পার্টির একমাত্র প্রার্থী কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুরে মোঃ জাহিদুল ইসালাম (বোমারু জাহিদ মাস্তান)। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ফ্রীডম পার্টির, এই গডফাদার জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ মাস্তান) আওয়ামীলীগের ছত্রছায়া থাকে এবং আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদেরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে আসছেন। জাহিদ মাস্তান দৌলতপুরের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি থাকাকালীন সময়ে আফাজ উদ্দীন বিশ্বাস কে হত্যার উদেশ্যে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। আল্লাহর অশেষ রহমতে সাবেক সংসদ সদস্য প্রাণে বেঁচে যায় কিন্তু এই জাহিদের আত্মঘাতী বোমার আঘাতে প্রাণ হারান স্কুল শিক্ষক। যারা একসময় বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী বাসায় অন্যায় অত্যাচার, জুলুম চালিয়েছেন তারা এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। সন্ত্রাসী জাহিদ কিভাবে আওয়ামীলীগের নেতা হন এবং নৌকার ব্যানারে ছত্রছায়া তলে থাকেন কিভাবে। এই জাহিদের ছোট ভাই মোঃ জহুরুল আলম সদ্য জাতীয় পার্টি থেকে এসে স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন আহŸায়ক (দৌলতপুর) পদ নিয়ে সে এখন আওয়ামী লীগ নেতা। মোঃ জহুরুল আলম সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন তবুও তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন দৌলতপুর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ প্রয়াত নেতা আফাজ উদ্দীন আহমেদ হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান আসামী জাহিদ সহ এক জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডদেশ হওয়ায় নেতা কর্মীরা খুশি, কিন্তু তার ছোট ভাই জহুরুল আলম কে শীঘ্রই দল থেকে বহিষ্কার করা না হলে আবারও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে তার পরিবার। স্থানীয়রা এই বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ মহোদয় ও দৌলতপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য আ.ক.ম সরওয়ার জাহান বাদশা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষনসহ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রকাশ সময়: বাংলাদেশ: ০৩.২২পিএম
গড়াইনিউজ/রাব্বী