বিপাকে শ্রমিকেরা লঞ্চ বন্ধ

0
769

গড়াইনিউজ ২৪.কম::করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের লঞ্চ চলাচল। ফলে লঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে।

সামনে ঈদ। অথচ কাজ নেই। উপার্জনও বন্ধ। সব মিলিয়ে এ ঈদ মৌসুমে বিপাকে পড়েছেন লঞ্চ শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্যমতে নৌরুটে ৮৬টি ছোট-বড় লঞ্চ রয়েছে। আর এসব লঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কমপক্ষে এক হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবিকা। ঈদকে সামনে রেখে উপার্জন বন্ধ থাকায় এ শ্রমিকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

বাংলাবাজার ঘাটের লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, গত ৫ এপ্রিল প্রথমে লকডাউন ঘোষণা করায় গণপরিবহনের সঙ্গে নৌরুটের সব লঞ্চ ও স্পিডবোট সরকারি নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়। এদিকে লঞ্চ বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের পারাপার বন্ধ হয়নি। লঞ্চ বন্ধের সুযোগে কিছু ট্রলারমালিক পদ্মায় যাত্রী পারাপার শুরু করেন। তারা যাত্রী প্রতি এক/দেড়শ’ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন। এদিকে কিছু কিছু স্পিডবোটও যাত্রী পারাপার চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আয় রোজগার বরং বেড়েছে লকডাউনে। অথচ লঞ্চ বন্ধ থাকায় আমাদের মতো শ্রমিকদের রোজগার বন্ধ। লঞ্চ চললে আমাদের উপার্জন হতো। লঞ্চও বন্ধ উপার্জনও বন্ধ। ঈদে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বাড়তি খরচ। গত ২০ দিন ধরে বেকার হয়ে আছি আমরা।

বিআইডব্লিউটিএ’র বাংলাবাজার লঞ্চঘাট সূত্রে জানা গেছে, গণপরিবহন চালু হলেই লঞ্চ চালু হবে। আপাতত বন্ধ থাকছে লঞ্চ। ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে লঞ্চগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেরামত-ত্রুটি সেড়ে নিচ্ছে অনেকেই। কারণ ঈদের কয়েকদিন আগে ও পরে যাত্রীদের বড় ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হবে। লঞ্চগুলো ঘাটসহ ঘাটসংলগ্ন নদীর বিভিন্ন স্থানে নোঙর করে রাখা আছে। সরকারি নির্দেশনা এলেই চলাচল শুরু হবে। ’
শিবচরের বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রী শূন্য লঞ্চঘাট নিরব-নিস্তব্ধ। পল্টুনের অন্যপাশে নদীর মধ্যেও কিছু লঞ্চ নোঙর করে রাখা হয়েছে। অনেকে আবার ধোয়া-মোছার কাজও করছেন।

লঞ্চ কর্মচারী মো. রাকিব নামের এক যুবক বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন একবার ঘাটে আসি। মাঝে মধ্যে ধোয়া মোছা করি। টুকটাক মেরামতের কাজও অনেকে করতেছে। শুনতেছি সামনের সপ্তাহে লঞ্চ চালু হবে। চালু হইলেই বাঁচি। পকেটে পয়সা নাই।

অপর এক শ্রমিক রাসেল বলেন, লঞ্চে কাজ করি। লঞ্চ চালু থাকলে আমাদের ইনকাম চালু থাকে। এখন কোনো ইনকাম নাই। সারা বছর যেহেতু লঞ্চে কাজ করছি, তাই এখন অন্য কোথাও যাই নাই। অপেক্ষায় আছি লঞ্চ চালু হওয়ার।

তিনি আরও বলেন, কষ্ট হইতাছে। আমরা গরিব মানুষ। আমাদের তো আর টাকা পয়সা বেশি জমানো থাকে না। এতোদিন জমানো টাকাই খরচ করছি। সংসারের খরচ তো আর কম না। ঈদে আরও বেশি খরচ। আসলে কষ্টে আছি।

বিআইডব্লিউটিএ’র বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, লঞ্চ বন্ধ থাকায় লঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারী-শ্রমিকদের রোজগারও বন্ধ। অনেকে দিনমুজুরিও করছেন বলে শুনেছি। লঞ্চের বেশির ভাগ কর্মচারী-শ্রমিকেরা পদ্মার চরাঞ্চল এলাকার। লঞ্চ বন্ধ থাকায় অনেকে বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ ভিন্ন কাজ করে উপার্জনের চেষ্টা করছেন। লঞ্চ চালু হলে তাদের স্থায়ী উপার্জনের পথও সচল হবে।