
মেহেরপুর প্রতিনিধি,গড়াইনিউজ২৪.কম:: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রুগীর খাবার লুটপাট ও রুগী তার স্বজনদের সাথে অসৌজন্য আচরন করছেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম। করোনা সংক্রামনের কারনে রুগীর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও প্রতিদিনই ৫০ জনের খাদ্য কাগজ কলমে দেখিয়ে টাকা লুটপাট করছেন। লুটপাটের প্রতিবাদ করায় ইতোমধ্যে তিনজন ডাক্তারকে গাংনী হাসপাতাল ছাড়তে হয়েছে। এদিকে ডা: রিয়াজুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তার বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা জানায়, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চরমে পৌছেছে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম যোগদানের পর থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নিকট আতœীয় পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ডাক্তার নার্স থেকে শুরু করে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরন করছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে অসদাচরণ করায় ইতোমধ্যে তিনজন ডাক্তার আমিরুজ্জামান আরেফীন ও বুদাদীপ্ত দাস ও শাকিলা আফরোজ হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র ডাক্তারদের বাদ দিয়ে জুনিয়র ডাক্তার সাদিয়াকে আরএমও দায়িত্ব দেওয়ায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। সম্প্িরত রুগীর সংখ্য কম থাকলেও প্রতিদিনই ৫০ জনের খাবার দেখিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। গত ১ মাসের রুগী ও খাবারের তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত করলে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়বে বলে জানান স্থানীয়রা। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী জানান, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম বিভিন্ন ভুয়া বিল করে লুটপাট করতে সকলকে জিম্মি করার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের একজন কর্মী ভুয়াবিল করতে না চাওয়ায় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে বদলীর হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া ভুয়াবিল ও অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই বদলী ও পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। যুবলীগ নেতা ও সদ্য বিদায়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও এইচ এম ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক দেলোয়ার হোসেন মিঠু বলেন,মেহেরপুরের সিভিল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী তার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সকল তথ্য দিথে গেলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম তার সাথে অসৌজন্য মুলক আচরন করেন। তিনি বলেন ডা: রিয়াজুল আলমের বিরুদ্ধে উঠা অনিয়ম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। হাসপাতালের ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত একজন বয়স্ক মানুষ সজিনার ডাটা কুড়ানোর অপরাধে তার সাথে অসৌজন্য মুলক আচরন করেন। বয়স্ক ব্যক্তির ছেলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলমের বিচার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ষ্টাটার্স দিয়েছে। হাসপাতালের তথ্য চাওয়ায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম এক সাংবাদিককে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঐ সাংবাদিক। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচার দাবি করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন করোনা সংক্রামনে কোন পরামর্শ নেওয়ার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলমের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে অপরিচিত নম্বর হওয়ায় বøক করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও লুটপাটের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় শনিবার দুপুরে সরকারী ফেলে রেখে রুগীদের সেবা দেয়া বাদ দিয়ে হাসপাতালের সামনে জড়ো করে ঐ কর্মকর্তা। এদিকে হাসপাতাল ছেড়ে কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী জোট বেঁেধ যেতে না চাইলে বদলীর হুমকি দিয়ে তাদের একত্রিত করা হয়। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন হাসপাতাল চত্তরে উপস্থিত হয়ে রুগীদের চিকিৎসা সেবা বাদ দিয়ে কেন হাসপাতাল চত্তরে জড়ো হয়েছেন তা জানতে চান। বিষয়টি এড়িয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে দাবি করে জড়ো হয়েছে বলে জানান ডা: রিয়াজুল আলম। সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন,সেবা বাদ দিয়ে একত্রিত হওয়া প্রতিবাদের মধ্যে পড়েনা। একটা সংবাদ হতেই পারে তার জন্য প্রতিবাদের জন্য বিভিন্ন পন্থা আছে। সেবা বাদ দিয়ে হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া ঠিক হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আপনারা ডাক্তার মানুষ আপনাদের এত মাথা গরম কেন। আপনাদের মাথা হতে হবে ঠান্ডা। যদি ভুল সংবাদ পরিবেশন করে থাকে তাহলে সাংবাদিকদের ডাকেন বলেন যে সংবাদটি সঠিক নয়। খুলনার স্থানীয় এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই নাম ভাঙ্গাতে পারে। তবে যারা মাননীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা লুটতে চাই তাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ব্যবস্থাও নিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬.৩৮ ঘন্টা, ১১ই এপ্রিল ২০২০।

























