২৯০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ১০০ শিক্ষার্থী

0
718

গড়াইনিউজ২৪:: ৪-৫টি চেয়ার। ৫০ স্বয়ার ফুটের জায়গা, ৬০-৭০টি বই। ২৯০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে একশ’ শিক্ষার্থী উপস্থিত। শিক্ষক! যা শুধু দুইজন কর্মকর্তাই। ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার কারো দেখা নেই। টেক্সটাইল বিভাগের ৪ সেমিস্টারের ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থী এক রুমে। শিক্ষক একজন। কোনো ল্যাব নেই। ৭০ স্কয়ার ফুটের ছোট্ট এক রুমের লাইব্রেরি। সব মিলিয়ে ৬০-৭০টি বই। এইচএসসি পর্যায়ের একটি কলেজে হয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ল্যাব প্র্যাকটিস। তাও সপ্তাহে একদিন। এক ঘণ্ট। এটি রাজধানীর বনানী ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার চিত্র। (৭ আগষ্ট) সরজমিন পরির্দশন করতে যান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি টিম। টিমের নেতৃত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) জেসমিন পারভিন, ডেপুটি সেক্রেটারি শাহীন সিরাজ ও ডিলিং কর্মকর্তা শাহনাজ সুলতানা। ইউনিভার্সিটি পরিবেশ দেখে ইউজিসির কর্মকর্তারা রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। এই বিষয়ে জানার জন্য সাউথ এশিয়ার ভিসি, প্রো-ভিসিকে টেলিফোনে পাওয়া যায়নি। সহকারী রেজিস্ট্রার (জনসংযোগ) জহিরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। এর মধ্যে আমরা ব্যাপক পরিসরে কাজ করছি।
অন্যদিকে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, যা দেখে আসলাম তাতে এটাকে কোনো অবস্থায় ইউভার্সিটি বলা যায় না। তিনি বলেন, ২৯০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সবমিলিয়ে একশ’ শিক্ষার্থীকে আমরা পাইনি। কোনো ল্যাবের দেখা পাইনি। ৬০-৭০ স্কয়ার ফুটের ছোট্ট একটি রুমের লাইব্রেরিতে ৬০-৭০ বই আছে। কবুতরের খাঁচার মতো ক্লাস রুম। আড়াই ঘণ্টা অবস্থানকালে কোনো শিক্ষকের দেখা মিলেনি। এটাকে কোনোভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় না। তিনি বলেন, এর আগেও এই বিশ্ববিদ্যালয় পরির্দশন করে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একটি সুপারিশের অগ্রগতি করতে পারেনি। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
একই রুমে চার সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কীভাবে ক্লাস নেয়া হয় জানতে চান চেয়ারম্যান। উত্তরে শিক্ষার্থীরা জানান, এইভাবে ক্লাস হয়। একজন শিক্ষক চার সেমিস্টারে ক্লাস নেন। ক্লাসরুম, শিক্ষক সংকটের কারণে এইভাবে ক্লাস নেন তারা। এরপর লাইব্রেরি রুমে ঢুকে রীতিমত আশ্চর্য হয়ে যান চেয়ারম্যান। ল্যাব, লাইব্রেরি বলতে কিছু নেই সেখানে।এ সময় দুইজন ছাত্র অভিযোগ করেন গত দুই সেমিস্টার থেকে তাদের টিউশন ফিসহ অন্যান্য টাকা নগদ নিচ্ছে ইউনিভার্সিটি। কোনো রিসিট, ভাউচার দেয়া হচ্ছে না। গত মাসে বিনা নোটিশে বিলম্ব ফি দিতে হয়েছে। সফটওয়ারের সমস্যার কারণে এটা হচ্ছে বলে জানান তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, উত্তরা একটি টেক্সটাইল কলেজে সপ্তাহ এক-দুইদিন ল্যাবে নিয়ে প্র্যাকটিস করানো হয়। তাও মাত্র এক ঘণ্টা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জনসংযোগ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সেমিস্টারে একই কোর্স থাকে। তাদের এক সঙ্গে করে একই রুমে একজন শিক্ষক ক্লাস নেন। তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ক্লাসের নজির আছে। তিনি আরো জানান, প্রো-ভিসি এক সময় লন্ডন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন। সেই চাকরি ছেড়ে এখন এখানে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি বিদেশে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নেয়ার কারণে দেশের বাইরে থাকতে হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ