ডাঃ সুরেশ তুলসানের নানা অপকর্ম তুলে ধরতে বেসরকারী টেলিভিশনের অনুসন্ধান টিম আসছে কুষ্টিয়ায়

0
3114

মুখোশ টিম : কুষ্টিয়া জেলার এক মূর্তিমান আতঙ্ক ডাঃ সুরেশ তুলসান। কে এই সুরেশ তুলসান? তার ¶মতার উৎস কোথায়? আর এই ¶মতার উৎস কোথায় তা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে মুখোশ টিমের সহযোগীতায় বেসরকারী টেলিভিশনের অনুসন্ধান টিম আসছে কুষ্টিয়াতে। তাই আপডেট খবর পেতে বাংলাদেশী অনলাইন নিউজ পোর্টাল www.goraynews24.com এর সাথে থাকুন।

জানা যায়, সুরেশ তুলসান, নামে একজন ডাক্তার যার কাজ চিকিৎসা দেওয়া। কিন্তু নামে ডাক্তার বসিয়ে কাজে সে একজন ভূমিদস্যু, মামলাবাজ, জাল ও প্রতারক। যার কাজই সবসময় জালিয়াতি করা। বিশ্ব¯— সূত্রে জানা যায়, এই জালিয়াতি করার জন্য ৭ মামলা পরিচালনা করার পাশাপাশি বর্তমানে আরো একটি মামলা করেছেন। এই নিয়ে ডাঃ সুরেশ তুলসান বর্তমানে মোট ৮টি মামলা পরিচালনা করছেন। সূত্র মতে জানা যায়, মামলা গুলো হলো- কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ দেং ২০৮/১৩, কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ দেং ৭৮/২০১৩, মিস কেস ৪/১৪, এন.জি.আর ৩১/২০১৫, কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ দেং ৩/২০০৭, কুষ্টিয়া যুগ্ম জেলা জজ দেং ৮/২০০৫, জি.আর ১৪৫/২০০৫। ডাঃ সুরেশ তুলসান এই সম¯— মামলা নিয়ে মাসে ১৫ দিন কোর্টে ব্যা¯— সময় পার করেন। ডাঃ সুরেশ তুলসান কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে বর্তমানে নিয়োজিত আছেন এইজন্য তিনি কিছু সময় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে বসেন এবং রোগী দেখেন। হাসপাতালে রোগী দেখার পাশাপাশি সহজ সরল মানুষ পেলে সেই মানুষদের সাথে জালিয়াতি করায় তার প্রধান কাজ। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন একটাই? তাহলে তিনি চিকিৎসা সেবায় সময় দেন কখন? তাহলে কি ডাঃ সুরেশ তুলসান নামে মাত্র সরকারী ডাক্তার? জানা যায় দুপুরের পরে তিনি চৌধুরী নুর“ন্নাহার ক্লিনিকে বসেন। ডাঃ সুরেশের সদর হাসপাতালে একটি রোগী ধরার দালাল চক্র আছে। দুপুর ২টার পরে সদর হাসপাতালে কোন ইমারজেন্সী অপারেশনের রোগী আসলে ডাঃ সুরেশের দালালরা সেই রোগীর লোকজনকে বুঝায় যে এখানে অপারেশন অনেক দেরীতে হবে তাই এখানে না করে আমার সাথে চলেন দ্র“ত অপারেশন করিয়ে দিবো বলে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে চৌধুরী নুর“ন্নাহার হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ভাবে ডা ঃ সুরেশের দালালচক্র দিনে ৪/৫টি রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যায়। যেন দেখার কেউ নেই! সে দালালদের মাধ্যমে সদর হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে তার ব্যাক্তিগত চেম্বার অর্থাৎ চৌধূরী নুর“ন্নাহার ক্লিনিকে নিয়ে এসে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। এবং সেই সাথে তিনি বিভিন্ন মানুষের জমির দলিল জাল করে ক্রয় ও বিক্রয় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। স¤প্রতি একটি জালিয়াতির ঘটনায় বেরিয়ে আসে ডাঃ সুরেশ তুলসানের থলের বিড়াল। ভুক্তভোগীদের কাছে থেকে জানা যায়,
ডাঃ সুরেশ কুমার তুলসান কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেটের মরহুম এ্যাডঃ মাহাতাব উদ্দীনের বাড়ি তার পুত্র মিজানুর রহমানের কাছে থেকে বাড়ি ভাড়া নেয় এবং সেই সাথে কিছু টাকা অগ্রিম ভাড়া হিসাবে মিজানুর রহমান মজনুকে দেয়। তার কিছু দিন পরে ডাঃ সুরেশ তুলসান কৌশলে অগ্রিম ভাড়া চুক্তিনামা করার নামে বাড়িটির জাল বায়না নামা তৈরী করে। চার কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি নামমাত্র দামে ৪০ ল¶ টাকায় মিজানুর রহমানের কাছে থেকে এই বাড়িটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য অনবরত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। মিজানুর রহমান এক পর্যায়ে বাড়ি ভাড়ার অগ্রিম অর্থ সুরেশের বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ফেরত দিয়ে দেন, কিন্তু তা সত্তে¡ও সুরেশ বারবার মিজানুর রহমান কে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাপ দিতে থাকে ও সুরেশের ক্যাডারবাহিনী দিয়ে বাড়িটি দখল নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সেই সাথে তিনি ফৌজদারী মামলা সহ তিনটি মামলা করেন। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই বাড়িটি মরহুম এ্যাডঃ মাহাতাব উদ্দিনের স্ত্রীর নামে এবং এই বাড়ির আরো অনেক শরীক আছেন। এই শরীকরা বাড়িতে বসবাস করেন না। মরহুম এ্যাডঃ মাহাতাব উদ্দিনের স্ত্রীর এবং সš—ানরা ঢাকায় এবং কেউ কেউ কাজের জন্য বিদেশ থাকেন। আর এরই সুযোগে ডাঃ সুরেশ তুলসান সুযোগের সদ্বব্যবহার করেন। কিন্তু কিভাবে ডাঃ সুরেশ তুলসান ভূয়া মিথ্যা ও জাল নামকরনে নিজ প্রভাব খাটিয়ে অন্যের মূল্যবান জমিসহ বাড়ি জোর পূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তার খুঁটির জোর কোথায়? জানা যায়, এই জমিসহ বাড়িটি রেজিস্টি করেছে সুরেশের বোন দীপা রানীর নামে।
সম্পত্তি ক্রয় সংক্রাš— জটিলতায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এখানে দিপা রাণী কখনও বাদী আবার কখনও বিবাদী। দিপা রাণীর একটি ঘনিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে ৪ মামলায় দিপা রাণীর নাম থাকলেও এ সংক্রাš— বিষয়ে তার সংশি¬ষ্টতা নেই। মামলা চালাচ্ছে জমির মুল মালিক ডাঃ সুরেশ তুলসান। এই বিষয়ে দীপা রানীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের হাসপাতাল মোড়ের সাড়ে ৮ কাঠা জমি দিপা রাণীর নামে ক্রয় করে ডাঃ সুরেশ তুলসান। জমিটির অন্যতম মালিক ইয়াসমিন ইসলামের নামে জাল করার কারনে মামলা হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। স্পষ্ট হয়ে উঠে মূল মালিক সুরেশ তুলসান। মামলার বাদী দিপা রাণী উপস্থিত না থাকলেও হাজিরায় তার নাম ব্যবহার করে সা¶রের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা যায়। কুষ্টিয়া জেলা যুগ্ম জজ আদালতে এ মামলার বাদী ইয়াসমিন ইসলাম। তিনি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সাড়ে ৪ শতক জমি ফিরে পাওয়ার জন্য সুরেশের বোন দিপা রাণীর নামে মামলা করেছিলেন যার মামলা নং দেং ৭৮/২০১৩। শহরের বাবর আলী গেট সংলগ্ন এ্যাড. মাহাতাব উদ্দিনের বাড়ির ৮ কাঠা জমি তার পুত্র মিজানুর রহমান মজনুর নিকট থেকে দিপা রাণী আগরওয়ালার নামে ক্রয় করা হয়েছে বলে দাবী ডাঃ সুরেশ তুলসানের। কথিত বায়নায় জমিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৪০ ল¶ টাকা। অথচ যার বর্তমান প্রকৃত মূল্য কয়েক কোটি টাকা। চার কোটি টাকা দামের জমি মাত্র ৪০ ল¶ টাকায় ভুয়া রেজিস্ট্রি করে ভয় ভীতি দেখিয়ে। এ সংক্রাš— বিষয়ে তার বির“দ্ধে দিপা রাণীর নাম ব্যবহার করে ৩ টি দেওয়ানী ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করছেন ডাঃ সুরেশ তুলসান। যার মামলা নং,দেং ৭৮/২০১৩, দেং ২০৮/১৩ কুষ্টিয়া জেলা যুগ্ম জজ আদালত এবং নন জি আর ৩১/২০১৫। সুরেশ তুলসানের একটি বিশ্ব¯— সূত্রে জানা যায়, জমি জালিয়াতি করে নামে বেনামে বর্তমানে তিনি প্রায় একশ কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন। সরকারী চাকুরী করেন বিধায় সংশি¬ষ্ট দপ্তরের চোখ ফাঁকি দিতে নিজ বোন দিপা রাণী আগরওয়ালার নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় ও মামলা পরিচালনার গুর“ত্বও অভিযোগ করেন তার বিশ্ব¯— সূত্র ও ভুক্তভোগীরা। এলাকার জনগণের সম্পদ ও জীবনকে ধ্বংসের হাত থেকে র¶ার্থে জেলা প্রশাসক সহ সংশি¬¬ষ্ট কর্তৃপ¶ের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। তা না হলে, যে কোন সময় ঘটাতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা এমনটি ধারনা করছেন অনেকে। (চলমান)