
স্টাফ রিপোর্টার, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু গুড়ের মোকাম, যেন দেখার কেউ নেই । বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাষীদের মাড়ায়কৃত গুড় কেমিক্যাল মিশিয়ে টিনবদ্ধ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাজারজাত করছে কারখানা মালিকরা। এসব মোকামে মাড়ায়কৃত গুড় সোডা, সার, চিনি ও অন্যান্য কেমিক্যাল মিশিয়ে গুড়ের রং পাল্টিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। গুড়ের মোকামে গুড় প্রসেসিং করা হচ্ছে অত্যান্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। গুড়ের কারখানা পরিদর্শনে দেখা যায়, ময়লা আর্বজনাযুক্ত কারখানা অপরিছন্ন জায়গায় টিনজাত করা হচ্ছে গুড়। কারখানার কোথাও পোকা মরে পড়ে আছে, কোথায় ময়লার স্তুপ, কাদা মাটি ও যারা গুড় প্রসেসিং কাজে জড়িত তাদের হাতে, পায়ে, গায়ে প্রচুর ময়লা থাকে। গুড় তৈরীতে মানা হচ্ছেনা কোন রকম নিয়ম কানুন। শুধুমাত্র অর্থ লালসায় নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করে গুড় তৈরী করে মানুষের জীবন নিয়ে মেতেছে গুড় ব্যবসায়ীরা। গত ২০/২৫ বছর ধরে খোকসা বাজারে গুড় তৈরী হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এসব গুড় প্রসেসিং করার পর দেশের বিভিন্ন পান্তে সরবরাহ করছে কারখানার মালিকরা। মানুষ কোন রকম যাচাই বাছাই না করেই প্রয়োজনের খাতিরে অন্ধ বিশ্বাসে শারিরীক উপকারের আশায় হারহামেসেই খাচ্ছে স্বাস্থ্য হানিকর এসমস্ত গুড়। এই গুড় খাওয়ার প্রভাব সাথে সাথে না বুজলেও সময়ের পরিবর্তনে মানুষের স্বাস্থ্যেও ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। ফলে ক্যানসার, ফুসফুসের রোগসহ নানা ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। কোনরকম বিএসটিআই এর অনুমোদন ছাড়াই বাজারে সরবরাহকৃত ভেজাল গুড় সম্পর্কে না জেনেই গুড় খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। অপরদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুড় বাজারজাত করনের জন্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন বারবার তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনলেও মানছেনা নিয়মনীতি। শুধুমাত্র জড়িমানা দিয়ে তারা পুনরায় দ্বিগুন উৎসাহে গুড়বাজারজাত করছে। সূত্র মতে জানা যায়, খোকসা বাজারের ভাই ভাই এন্টার প্রাইজ এর মালিক আলমাস দীর্ঘ ১৮ বছর গুড় প্রসেসিং করে আসছে। তার কারখানার পরিবেশ অত্যান্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন তাকে বারবার জড়িমানা ও কারখানা সীলগালা করলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তার গুড় কারখানা। জানা যায়, আলমাস এক সময় মালিকগঞ্জ জেলায় নানা রকম অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য লিপ্ত থাকায় জেল জড়িমানা করা হয় তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া এলাকায় তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্গকারী অভিযোগও রয়েছে। সে বর্তমানে খোকসা বাজারে গড়াই নদীর ধারে তার অবৈধ গুড়ের কারখানায় গুড়ের ব্যবসার অন্তরালে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। অপরদিকে আরও কয়েকটি গুড় প্রসেসিং কারখানা রয়েছে তারাও একইভাবে ভেজাল গুড় সরবরাহ করে আসছে বছরের পর বছর । এছাড়া সরকারী ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের নোংরা পরিবেশের গুড় ব্যবসা। তারা প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকার গুড়ের ব্যবসা করলেও সরকারের ভ্যাট দিচ্ছেনা বলে জানা যায়। শুধুমাত্র পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসা কার্য পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ সনদ, ফায়ার সার্ভিস সনদ, স্বাস্থ্য সনদ কোন কিছুই নেই তাদের। খোকসা বাজারের প্রসেসিংকৃত গুড় সাড়া দেশে সরবরাহ হওয়ায় উক্ত গুড়ের মান নিয়ন্ত্রন না করলে জেলা সহ দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই উক্ত গুড়ে মোকামগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভূক্তভোগিরা।
গড়াইনিউজ২৪.কম/মিলন

























