বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

0
692

১৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল সাইড)’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার এমসিকিউ টেস্টের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরিকল্পনামাফিক লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরুর উপযুক্ত সময় এখনই। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, লিখিত পরীক্ষা ২ ঘণ্টায় ২০০ নম্বরের মধ্যে হয়ে থাকে, পরীক্ষার সময় থাকে ২ ঘণ্টা। এর মধ্যে সাধারণত ইংরেজিতে focused writing/essay তে ৩০ নম্বর, creative writing এ ৩০ নম্বর reading comprehension এ ৩০ নম্বর, গণিতে ৩০ নম্বর, বাংলায় নির্ধারিত বিষয়ের ওপর রচনায় ৩০ নম্বর এবং বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদে ২৫ নম্বর ও ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হয়ে থাকে।
প্রথমেই উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল সাইড)’ পদটি প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাডারের প্রবেশ পদ। বাংলাদেশ ব্যাংক এ পদে শক্ত ভিতসম্পন্ন চৌকস কর্মকর্তা চায়। এই পদে বিশেষ বিষয়ের শিক্ষার্থী নয়, বরং সার্বিকভাবে চৌকস জ্ঞানসম্পন্ন প্রার্থী আশা করা হয়। ফলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সেভাবে সাজানো হয়, যাতে স্নাতক পর্যায়ে যে বিষয় থেকে পাস করুন না কেন, প্রতিযোগিতার জন্য level playing অবস্থায় থাকেন। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিটি বিষয়েই ভালো নম্বর তোলা জরুরি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখলেই লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলা সম্ভব।
প্রথমত, ইংরেজিতে focused writing, creative writing ও বাংলায় নির্ধারিত বিষয়ের ওপর রচনা সাধারণত কোনো জাতীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আন্তর্জাতিক ইস্যু/সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর সাধারণ আলোচনা বা মতামত বা কাল্পনিক দুই ব্যক্তির মধ্যে সংলাপ আকারে লিখতে চাওয়া হয়। প্রতিটি ৩০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য সর্বোচ্চ ১-২ পৃষ্ঠা নির্ধারিত জায়গা বরাদ্দ থাকে। ফলে লেখার জায়গা ও সময় বিবেচনায় খুব বড় আকারের লেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং অল্প কথায় সঠিক ব্যাকরণে যথাযথ তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপনসহ গুছিয়ে লেখাটা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, প্রস্তুতির জন্য বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিকগুলোর পাশাপাশি দু-একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকা/সাময়িকী নিয়মিত পড়া এবং পরীক্ষার হলে প্রতিটি লেখা শুরু করার আগে অল্প সময় নিয়ে লেখার কাঠামোটা মনে মনে ঠিক করে তারপর লেখা শুরু করা। ইংরেজি reading comprehension-এ সাধারণত ৫টি প্রশ্ন থাকে। এ ক্ষেত্রে comprehensionটি ভালো করে পড়ে সংক্ষেপে যথাযথ (to-the-point) উত্তর করা ভালো। নিজের ধারণা থেকে নয়, বরং comprehension থেকে উত্তর করা আবশ্যক।
এবার আসা যাক গণিতে। গণিতে সাধারণত ৩টি সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত মানের সমস্যাগুলো অনুশীলন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পরীক্ষার হলে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর কোনো ভুল আছে কি না, তা পুনঃপরীক্ষা করা উচিত।
সবশেষে অনুবাদের প্রসঙ্গে আসি। বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদসমূহ সাধারণত বাক্য আকারে না হয়ে অনুচ্ছেদ আকারে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে যথাযথ শব্দচয়নে শুদ্ধ বাক্যগঠন জরুরি। অনুবাদকৃত অনুচ্ছেদটি যেন মূল অনুচ্ছেদের বক্তব্য ও ভাবকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। প্রস্তুতির জন্য দৈনিক সংবাদপত্র থেকে প্রতিদিন দু-একটি বাংলা সংবাদকে ইংরেজিতে অনুবাদ ও ইংরেজি সংবাদকে বাংলায় অনুবাদের অনুশীলন বেশ উপকারে আসতে পারে।
পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে সময়ের যথাযথ ব্যবহারই এনে দিতে পারে চূড়ান্ত সাফল্য। শুভকামনা থাকল।

•লেখক: উপপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
সহকারী পরিচালক-২০১২ ব্যাচের নিয়োগ পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম।

একটি উত্তর ত্যাগ