শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে টাইগারদের লিড

0
1641

গড়াইনিউজ২৪.কম:: রাত পোহালেই মহান স্বাধীনতা দিবস। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে লঙ্কানদের পরাজিত করে বিশাল জয় উদযাপন করল লাল-সবুজের বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছেন, টস জিতলে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন তিনি।  শেষ টেস্টে জয়ের আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশ বয়ে আনল ওয়ানডেতেও। দুর্দান্ত ব্যাটিং, দারুণ বোলিং আর উদ্দীপ্ত ফিল্ডিং মিলিয়ে প্রায় পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। প্রথম ওয়ানডেতে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ‘প্রথম’ তিনশ

তামিম-সাকিবরা ফিরলেন, মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেক ছিলেন যেন সুযোগের অপেক্ষায়। বিশেষ করে মোসাদ্দেক খেললেন ৯ বলের টর্নেডো ইনিংস। শেষ দিকে রান উঠল বানের জলের মতো। বাংলাদেশ পৌঁছে গেল এমন ঠিকানায়, যেটির দেখা তারা আগে পায়নি কখনোই! ৫০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই প্রথমবার তিনশ রান করল বাংলাদেশ। আগে কখনও যেতে পারেনি কাছাকাছিও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ ছিল সেই ১১ বছর আগে। ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মোহালিতে ২৬৫। শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৩ সালে হাম্বানতোতায় ২৫৯। এই মাঠ তো বটেই, শ্রীলঙ্কার মাটিতেই ২৯০ রানের বেশি তাড়া করে জেতেনি কোনো দল। অসাধারণ সেঞ্চুরিতে দলকে টেনেছেন তামিম। দারুণ অর্ধশতকে সঙ্গ দিয়েছেন সাব্বির-সাকিব। শেষ দিকে মোসাদ্দেকের ছোট্ট তাণ্ডব। ৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক, ৭ বলে ১৩ রানে মাহমুদউল্লাহ। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ১০৯ রান। শেষ ৫ ওভারেই ৬৮! আগের বলটিতেই সম্ভাব্য ক্যাচকে ছক্কা বানিয়েছেন সিরিবর্ধনা। কিন্তু শেষ সময়ে ভাবাভাবির কিছু নেই। শুধু চাই রান। পরে বলে আবার উড়িয়ে মেরে লংঅনে ধরা পড়লেন তামিম ইকবাল। ফিরলেন ১২৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে। শহিদ আফ্রিদির ১২৪ ছাড়িয়ে এই মাঠের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তামিমের। আফ্রিদির ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১০ এশিয়া কাপে। ১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১৪২ বলে ১২৭। ইনিংসের ১৩ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ২৮৯।  লাহিরু কুমারার বল লেগ সাইডে ঘুরিয়েই সিঙ্গেল নিলেন তামিম। একটু সময় নিয়ে যেন ফেললেন স্বস্তির নি:শ্বাস। খানিকপর খুললেন হেলমেট, উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট। সেঞ্চুরি! ১২৭ বলে তামিম ছুঁলেন সেঞ্চুরি। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও তামিমের সেঞ্চুরি এখন আটটি। জুটির সেঞ্চুরি হয়েছে এর আগেই। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, ওয়ানডেতে ২৪ ইনিংস এক সঙ্গে ব্যাট করে সাকিব ও তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি জুটি এটিই! এর আগে অর্ধশত জুটি ছিল মাত্র চারটি। সবশেষটি ২০১২ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৬। যেটি ছিল জুটিতে দুজনের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের রান ৪৩ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৩৪। তামিম খেলছেন ১০১ রানে, সাকিব ৪৯। জুটির রান ১১৪।  ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে তরুণ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের। রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মিরাজের মাথায় টুপি পড়িয়ে দেন আরেক অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ। ১৯ বছর বয়সী মিরাজ বাংলাদেশের ১২৩তম ওয়ানডে ক্রিকেটার।  টেস্ট সিরিজের পর দেশে ফিরেছিলেন মিরাজ। খেলার কথা ছিল ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে। কলম্বোয় প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে হঠাৎ ডাকা হয় তাকে। এখন পর্যন্ত ৭ টেস্ট খেলা এই তরুণ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এখনও ততটা সফল নন। ২৭ ম্যাচে ২৯.১৪ গড়ে নিয়েছেন ২৭ উইকেট। সেরা ২/১৯। দুর্দান্ত ব্যাটিং, দারুণ বোলিং আর উদ্দীপ্ত ফিল্ডিং মিলিয়ে প্রায় পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। প্রথম ওয়ানডেতে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মেহেদি হাসান মিরাজের। তার মাথায় ওয়ানডে অভিষেকের ক্যাপ পড়িয়ে দেন আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বছর বয়সী মিরাজ বাংলাদেশের ১২৩তম ওয়ানডে ক্রিকেটার। ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশের হয়ে বোলিং শুরু করেন মাশরাফি। লঙ্কানদের হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন দাসুনকা গুনাথিলাকা এবং উপুল থারাঙ্গা। ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ম্যাশের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন গুনাথিলাকা। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। দলীয় শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। মাশরাফি প্রথম ওভারে কোনো রান না দিয়েই উইকেট তুলে নেন। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে কুশল মেন্ডিসকে (৪) বিদায় করেন অভিষিক্ত মিরাজ। আগেই একবার মেন্ডিসকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেললেও এবার শুভাগতর তালুবন্দি করেন। দলীয় ১৫ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এরপর টিকতে পারেননি ওপেনার উপুল থারাঙ্গা (১৯)। তাসকিনের করা দলীয় ১১তম ওভারের শেষ বলে মাশরাফির তালুবন্দি হয়ে ফেরেন থারাঙ্গা। দলীয় ৩১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর জুটি গড়ে ৫৬ রান যোগ করেন আসেলা গুনারত্নে এবং চান্দিমাল। ইনিংসের ২৪তম ওভারে সাকিবের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে মোসাদ্দেকের দারুণ এক ক্যাচে ফেরেন ২৪ রান করা গুনারত্নে। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর আবারো মিরাজের আঘাত। বিদায় নেন দিনেশ চান্দিমাল (৫৯)। সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। দলীয় ১২১ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। দলীয় ১৫৩ রানের মাথায় বিদায় নেন মিলিন্দা সিরিবর্ধানে। ব্যক্তিগত ২২ রান করে বিদায় নেন মোস্তাফিজের বলে তুলে মারতে গিয়ে। বদলি খেলোয়াড় শুভাগত হোমের তালুবন্দি হন তিনি। ইনিংসের ৩৮তম ওভারে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে বোলিংয়ে আসেন মাশরাফি। প্রথম বলেই তুলে নেন সাচিথ পাথিরানাকে। ৩১ রান করে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যাচে বিদায় নেন তিনি। দলীয় ১৭১ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। ইনিংসের ৪১তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন সুরাঙ্গা লাকমলকে। ব্যক্তিগত ৮ রানে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়েন লাকমল। দলীয় ২০৮ রানের মাথায় অষ্টম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। নবম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন রান আউট হওয়া সান্দাকান (৩)। থিসারা পেরেরা ৩৫ বলে ৫৫ রান করে মোস্তাফিজের শিকারে শেষ ব্যাটসম্যান হয়ে বিদায় নেন। মোস্তাফিজ তিনটি উইকেট দখল করেন। এছাড়া, মাশরাফি এবং মেহেদি মিরাজ দুটি করে উইকেট লাভ করেন। তাসকিন ও সাকিব একটি করে উইকেট তুলে নেন।