ইবিতে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় সাক্ষীদের নামসহ গোপন প্রতিবেদন অভিযুক্তদের হাতে!

0
393

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফুলপরীকে নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মূল কপি ছড়িয়ে পড়েছে হাতে হাতে। মূল অংশের সঙ্গে সাক্ষীদের নামের তালিকা এবং তাদের দেওয়া তথ্য প্রমাণাদিও আছে প্রতিবেদনের সঙ্গে। অভিযুক্তসহ অনেকের কাছেই আছে সেই কপি।

প্রতিবেদনের একটি পৃষ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ফলে তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়া ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তা শঙ্কায় আছেন। উচ্চ আদালত থেকে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশনা সত্ত্বেও সাক্ষীদের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা মূল প্রতিবেদনের একটি পৃষ্ঠা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল প্রতিবেদনের কপি সরবরাহ করা না হলেও অভিযুক্তদের কাছে সংগ্রহে আছে। অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা বলেন, আমরা আদালত থেকে একটি মাধ্যমে প্রতিবেদনের কপি সংগ্রহ করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পেজে দিয়েছি সেখানে কারও নাম ছিল না। আর সাক্ষীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা ব্যর্থ হয়েছে, এখানে আমাদের তো কোনো দায় নেই। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তদন্ত শুরুর সময় গণবিজ্ঞপ্তিতে তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দাতাদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ায় সেই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করে এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের তথ্য গোপন রাখা হবে আশ্বাস দিয়ে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এখন নাম ও প্রদানকৃত তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের ডেকে নিয়ে এ পরিস্থিতিতে ফেললো।’ এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিটকারী আইনজীবী গাজী মো. মহসীন বলেন, আদালত থেকে কঠোর নির্দেশনা ছিল এসব নথি গোপন রাখার এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। আদালত থেকে বৈধভাবে এসব প্রতিবেদন নেওয়া সম্ভব নয়। এটি প্রকাশ্যে আসায় সাক্ষীরা নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকবে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল গোপনীয়তা রক্ষা করা। এখন সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়া ও তাদের কোনো ক্ষতির জন্য প্রশাসনই দায়ী থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সাক্ষ্যগ্রহণ করেছি এবং প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। এরপরও কীভাবে এটি বাইরে এলো এটি আমার অজানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রশাসক ড. আনিচুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা ছিল সাক্ষীদের তথ্য গোপন রাখা। এটি কোনোভাবেই বাইরে যেতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা একদমই ঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে প্রতিবেদনের এক কপি আছে এবং আরেকটি কপি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না এটি কীভাবে বাইরে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব সাক্ষ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান বলেন, আমার কাছে থাকা কপি খুলেও দেখিনি। যদি বাইরে এসে থাকে সেটি আদালত থেকে হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আর নিরাপত্তার বিষয় আগে থেকেই দুই জেলার পুলিশ প্রশাসনকে জানানো আছে। তারা ও প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি দেখবে।