মীর কাসেমকে দাফন মানিকগঞ্জে

0
2202

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, গড়াইনিউজ২৪.কম:: মীর কাসেমের মানিকগঞ্জের বাড়ি চালা গ্রামে পৌঁছেছেন তার স্বজনরা, যারা বিকালেই কাশিমপুরে কারাগারে তার সঙ্গে শেষ দেখা করে এসেছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় একাত্তরে চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত বদর নেতা কাসেমকে। রাত সাড়ে ১০টায় মৃত‌্যুদণ্ড কার্যকরের পর কাশিমপুরের জ‌্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক কারাফটকে সাংবাদিকদের বলেন, মীর কাসেমের লাশ মানিকগঞ্জে পাঠানো হবে। ফাঁসি কার্যকরের আগে তিনটি অ‌্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। এই অ‌্যাম্বুলেন্সে করেই লাশ বের করা হবে।  মীর কাসেমের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে হলেও তার পৈত্রিক এলাকা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায়। ১৯৫২ সালে তার জন্মও সেখানে। পৈত্রিক বাড়ি সূতালড়ি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী গ্রামে হলেও নদী ভাঙনে ভিটে হারিয়ে যাওয়ার পর চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে জমি কিনেছিলেন কাসেম। মীর কাসেমের বাড়ি চালা গ্রাম থেকে চার কিলোমিটার দূরে ঘিওর উপজেলার কলতাবাজারে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা ছাড়া অন‌্য কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না তারা। সেখানে থাকা ঘিওর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে চারটি গাড়িতে করে মীর কাসেমের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই পুত্রবধূসহ ৪০ জনের মতো স্বজন চালা গ্রামে গেছেন।  মানিকগঞ্জ শহর থেকে হরিরামপুরের চালা গ্রামের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটারের মতো। শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে ঘিওর উপজেলার কলতাবাজারের উপর দিয়ে যেতে হয় চালা গ্রামে। মানিকগঞ্জ ডিএসবির সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ও ঘিওর থানার ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন পুলিশ রয়েছেন কলতাবাজারে। মীর কাসেমের স্বজনরা কলতাবাজার পৌঁছেন পাঁচটি গাড়ি নিয়ে। ওই  সময় সেখানে পুলিশ তাদের থামিয়ে ১৫ মিনিটের মতো কথা বলে। পরে চারটি গাড়ি যেতে দেওয়া হয়।  রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মীর কাসেম ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর জামায়াতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি নানা ব‌্যবসার মাধ‌্যমে দলটির ‘আর্থিক মেরুদণ্ডে’ পরিণত হন। তিনি ইসলামী ব‌্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস চেয়ারম‌্যান ছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন তিনি। রাবেতা আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মীর কাসেম দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন। কেয়ারি গ্রুপের কর্ণধার হিসেবেও তার নাম আসে। মীর কাসেম চালা ইউনিয়নে কেনা জমিতে বাড়ি না করলেও একটি মসজিদ তৈরি করেছেন। বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে তিনি ওই এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হতে চেয়েছিলেন। মীর কাসেমকে মানিকগঞ্জে দাফন করতে তার স্ত্রীর পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন গণমাধ‌্যমে এলে সন্ধ‌্যার পর জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তাদের সমাবেশ থেকে এই যুদ্ধাপরাধীর লাশ মানিকগঞ্জে না নেওয়ার দাবি জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা তোবারক হোসেন লুডু বলেন, “মীর কাসেম আলীর জন্ম মানিকগঞ্জে হওয়ায় আমরা লজ্জিত। শুনতে পাচ্ছি তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর হরিরামপুরের চালা গ্রামে মরদেহ দাফন করা হতে পারে।