
গড়াইনিউজ২৪.কম:: কিছু দিন আগে অনুশীলনের সময় মারামারিতে লিপ্ত হয়েছিলেন জার্মান ফুটবলাররা।প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হেরে এবার নতুন ঝামেলা আর অশান্তি শুরু হয়েছে জার্মান শিবিরে। কোচ ও ফুটবলাররা পরস্পরের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। জার্মানি কোচ জোয়াকিম লোর মুখে কখনও ফুটবলারদের পারফরমেন্স নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করতে শোনা যায়নি। কিন্তু মেক্সিকোর কাছে হারের পর লো একবারও নিজের কাঁধে ব্যর্থতার দায় তুলে নেননি। বরং তিনি আগাগোড়াই দুষেছেন তাঁর ফুটবলারদের। ফুটবলাররা পরিকল্পনামাফিক খেলতে পারেনি বলেই ডুবেছে দল, এটাই লোর সাফ কথা। এটা ফুটবলারদের কানে দেরি হয়নি। ফলে সরাসরি কোচের নাম করে কিছু না বললেও দলের দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ম্যাটস হামেলস ও টনি ক্রুজ ঘুরিয়ে কোচ লোর স্ট্র্যাটেজির সমালোচনা যেমন করেছেন, তেমন সতীর্থদের একহাত নিয়েছেন, নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায়। হামেলসের মতে, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা মোটেই ভাল খেলিনি। এ নিয়ে আমি টিম মিটিংয়ে সকলকে সতর্ক করেছিলাম। কেউ কানেই তোলেনি আমার কথা। সে কারণে এখন ভুগতে হচ্ছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ২–১ গোলে জিতলেও, ওটা আমাদের সেরা খেলা ছিল না। সেদিন উতরে গেলেও দলের সবেইকে বলেছিলাম, এভাবে খেললে বিশ্বকাপে সমস্যা হবে। কারণ বিশ্বকাপে আমাদের গ্রুপে সৌদি আরবের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আছে। সৌদি ম্যাচের মতোই সাদামাটা খেলে ডুবলাম। আগেই বলেছিলাম, আমরা খুব সহজেই প্রতিপক্ষের পায়ে বল জমা দিচ্ছি। পাসিংয়ে ত্রুটি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, কভারিং ঠিক হচ্ছে না। এতে প্রতিপক্ষ দলের সমানে আক্রমণ হানার অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে। দুর্ভাগ্য, আমরা সে বিষয়ে আমল দিইনি।’ হামেলসের মতো টনি ক্রুজও বিরক্ত দলের খেলা নিয়ে। বলেন, ‘প্রথমার্ধে খেলাটা ধরতেই পারিনি আমরা। ঢেউয়ের মতো বারবার ধেয়ে আসা মেক্সিকোর আক্রমণ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি নিজেদের সেরা দূরে থাক, স্বাভাবিক খেলা তুলে ধরতে না পারায়। এত ভুল সাম্প্রতিককালে আমাদের খেলায় হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আমরা নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে খেলায় ফিরেছিলাম। মেক্সিকো ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। গোলের সুযোগও পেয়েছিলাম। কিন্তু ফায়দা তুলতে পারিনি। অন্তত একটা গোল আমাদের করা উচিত ছিল। এখন নিঃসন্দেহে আমরা চাপে। পরের দুটো ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট পেতেই হবে বিশ্বকাপে টিকে থাকতে।’দুই ফুটবলার যা বলেছেন, এতে দলগত সংহতির সত্যনাশ হলে বলার কিছু নেই। আর তার জেরে পরের সুইডেন ম্যাচ না জিতে বিশ্বকাপ থেকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ছিটকে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ সাম্প্রতিক কালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত চার বিশ্বকাপে তিন চ্যাম্পিয়ন দল প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকাতে পারেনি। ২০০২-এ ফ্রান্স, ২০১০-এ ইতালি, ২০১৪-এ স্পেন। এবার কি তবে জার্মানি এমন একটা অকাল বিদায়ের মুখে পড়তে চলেছে? সেটা অবশ্য সময়ই বলবে। ’৮২–তে আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডে শেষবার হেরেছে জার্মানি বিশ্বকাপের আসরে। তারপর এবার মেক্সিকোর কাছে হার। এটা একটা অশনিসঙ্কেত মনে করছেন অনেকেই। জার্মানির কোচ লোর কাছেও প্রশ্নটা রেখেছিল সংবাদমাধ্যম। তাহলে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনের মতো এবার রাশিয়ায় প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হবে না তো জার্মানিকে?

























