খুলনার ভোটকে জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি

0
1454

খুলনা অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ। রাজধানীতেও কথার লড়াই তুই প্রধান দলে। তাকিয়ে অন্য জেলার দুই প্রধান দলের কর্মী সমর্থকরাও। একই অবস্থা নির্বাচন কমিশনের। তারাও এই নির্বাচনকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত দুটি আলোচিত সিটি নির্বাচনে তারা পাস করেছে বেশ ভালোভাবেই। কুমিল্লা এবং রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উঠেনি বলার মতো কোনো অভিযোগ। তবে কমিশনের ‘আসল পরীক্ষা’ খুলনাসহ পাঁচ সিটি নির্বাচনে, এটা বলাবলি হচ্ছে ৩১ মার্চ খুলনা ও গাজীপুরে ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই।গাজীপুরের ভোট আইনি জটিলতায় আটকে যাওয়ার পর দৃষ্টিতে এখন খুলনা। আর কমিশনও একে জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছে। ভোটকে সামনে রেখে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান নূরুল হুদা বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন।’আক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল হবে বলে জানিয়েছে ইসি। সেই হিসেবে বছর শেষে একাদশ সংসদ নির্বাচন। এর আগে গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটের ভোট আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পাঁচ সিটির ভোট শেষ করার কথা জানিয়েছেন সিইসি নূরুল হুদা। আর এসব নির্বাচনের আগে খুলনা নির্বাচন ইসির জন্য একটি প্রস্তুতিও মনে করছেন অনেকে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্নসচিব ও জনসংযোগ পরিচালক এম এম আসাদুজ্জামান সোববার রাতে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন  খুলনায় ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল নিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাগণ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।’ মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হবে। এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

নিরাপত্তার চাদরে খুলনা             

বিএনপি চাপাচাপি করেলেও নির্বাচন কমিশন শুরুতেই বলে দিয়েছিল স্থানীয় সরকারে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে না। প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে। ১৩ মে থেকে খুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়। তারা থাকবে ১৬ মে পর্যন্ত। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, ব্যাটালিয়ন আনসারসহ নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা ভোটের নিরাপত্তায় কাজ করবেন। প্রতিটি সাধারণ কেন্দে ২২ (বাইশ) জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ (চব্বিশ) জন করে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে পুলিশের মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি করে দল টহল দিচ্ছে। মোতায়েন আছে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। ৬০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হচ্ছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী এলাকার সাথে যোগাযোগ এবং নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে ভোট

এই নির্বাচনে ৩১ টি সাধারণ ওয়ার্ড, ১০ টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯ টি। মোট ভোটকক্ষ এক হাজার ৫৬১ টি। মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন আর নারী ভোটার দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জনসহ মোট ১৯১ জন প্রার্থী লড়াই করছেন।

মেয়র প্রার্থী ও প্রতীক:

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নৌকা, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলনের মুজ্জাম্মিল হক হাত পাখা, সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু কাস্তে ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ইসির চ্যালেঞ্জ

কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন যোগ দেওয়ার পর গেল বছর কুমিল্লা ও রংপুর ভোট করে সব মহলের প্রশংসা কুড়ায়।  কুমিল্লায় বিএনপি ও রংপুরে জয় পায় জাতীয় পার্টি। কিন্তু এ বছরের শুরুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ নির্বাচন এবং উত্তর-দক্ষিণের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের ভোট আটকে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ইসি। এ অবস্থায় ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ দেওয়া হয়। মাঝপথেই গাজীপুরের ভোট আটকে গেলেও  ২৬ জুন নতুন তারিখ দেয়া হয়। সুষ্ঠুভাবে খুলনা নির্বাচন করতে পারলে স্বস্তি আসবে ইসিতে। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, ‘আশা রাখি খুলনা সিটি নির্বাচন হবে নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচনের মতো।

কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্ন দুই দলেই

খুলনা ভোটে সবার সমান সুযোগ বা ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে। নির্বাচন কমিসনে এসে দুই দলের প্রতিনিধিরা সিইসিকে তাদের অভিযোগের জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ জানায়, এমপি-মন্ত্রীরা প্রচারে নামতে পারেনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। আবার রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি-জামায়াত অনুসারী। বিএনিপর অভিযোগ পুলিশকে নিয়ে। মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ নগরীর পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে ভোটের আগের রাতেও দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

দুই কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট

খুলনা সিটি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোট হবে দুই কেন্দ্রে। ১০টি ভোটকক্ষের প্রতিটিতে একটি করে ইভিএম থাকবে। তাতে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ভোট দেবেন ভোটাররা। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে ১০টি ইভিএম থাকবে। শেরেবাংলা রোডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০৯৯ জন ভোটারের জন্য চারটি ভোটকক্ষে ও খানজাহান আলী রোডের পিটিআই জসিম উদ্দীন হোস্টেলের নিচতলার কেন্দ্রে ১৮৭২ ভোটারের জন্য ছয়টি ভোটকক্ষ রয়েছে।