স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও আমাদের ভাগ্যে জোটেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি

0
1331

বরিশাল অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: আগৈলঝাড়া উপজেলায় অধিকাংশ বধ্যভূমি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে এখানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। স্বাধীনতা যুদ্ধের নীরব সাক্ষী উপজেলার কাঠিরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র রায় (৬৭) বলেন, আমার বাবা শ্যাম কান্ত রায়সহ ৪৫ জনকে ১৯৭১ সালের ২০মে কাঠিরা গ্রামে গুলি করে হত্যা করে পাকসেনারা। বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আমি ভারতে মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে যুদ্ধে যোগ দেই। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও আমাদের ভাগ্যে জোটেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি। এমনকি আমার নিজের নামও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পায়নি। তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও তিনি কোনো সুফল পাননি। গ্রামের মনোহর অধিকারী (৯০) জানান, কাঠিরা গ্রামে সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা আশ্রয় নিয়েছিল। স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে পাকসেনারা এমন খবর পেয়ে ২০ মে সকালে কাঠিরা বাজারে দু’জন ভিক্ষুককে হত্যা করে গ্রামের চারদিক ঘেরাও করে। পরবর্তীতে মুক্তিবাহিনীদের আশ্রয় দেয়ায় কাঠিরা গ্রামের ১৫জন, ঘোড়ারপাড় গ্রামের সাতজনসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের ৪৫ জন নিরীহ নারী-পুরুষকে ফায়ার স্কট দিয়ে হত্যা করে। পাকসেনারা ওই ৪৫ জনের লাশ কাঠিরা গ্রামের গীর্জার পাশের একটি ডোবার মধ্যে ফেলে রাখে। পরে এলাকাবাসী সুযোগ বুঝে ফিরে এসে ওই ডোবার মধ্যেই লাশগুলো মাটি চাপা দিয়ে রাখেন। দেশ স্বাধীনের পর এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দাবি ছিলো ওই বধ্যভূমির ওপর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের। কিন্তু আজও তা নির্মিত হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত্ বধ্যভূমি কেতনার বিল। যুদ্ধচলাকালে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের কেতনার বিলে পাকসেনাদের নির্মম বুলেটে দুই সহস্রাধিক নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হয়েছিলেন। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত্ বধ্যভূমি কেতনার বিল এলাকায় এখনো ওই শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। এরকম আরো অনেক বধ্যভূমি রয়েছে যা কিনা পড়ে আছে অরক্ষিত অবস্থায়।