
দ্বন্দ্ব মেটাতে বিএনপির ৫১ টিম
এদিকে, ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপিতে স্বার্থ দ্বন্দ্ব-সংঘাত কম। তবে এত লম্বা সময় সরকারের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা না থাকায় দেশব্যাপী সাংগঠনিকভাবে অনেকটা অগোছালো হয়ে পড়েছে দলটি। ঝিমিয়ে থাকা দলকে জাগিয়ে তুলতে সম্প্রতি বেগম জিয়ার নির্দেশনায় ৫১ নেতার নেতৃত্বে পৃথক ৫১টি টিম গঠন করা হয়। এসব টিম সারাদেশে কর্মীসভা ও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে নির্দেশনা দেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পাশাপাশি সারাদেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে উঠান বৈঠকের কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, কেউ কেউ বলেন-অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নাকি বিএনপিকে আগামীতে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে যেতে হবে। তাদেরকে বলতে চাই-বিএনপি এমন দল নয় যে, নিবন্ধন রক্ষার জন্য নির্বাচনে যেতে হবে। বিএনপি এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, আমরা এখন নির্বাচন ও আন্দোলন-দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করে সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য করা হবে। সেজন্য আমরা দলকে গুছিয়ে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।
জেলায়-জেলায় গৃহবিবাদ আওয়ামী লীগে
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত থামছেই না। কিছুদিন পরপর কোথাও না কোথাও নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সঙ্গে জেলা সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর দ্বন্দ্ব রবিবার সংঘাতে রূপ নেয়। দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, দলের ভেতরে আধিপত্য বিস্তারের কোন্দল এত গভীরে চলে গেছে যে, সংঘাত থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে কুমিল্লার মুরাদনগরে এবং নরসিংদীর রায়পুরায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তিনজনের প্রাণ গেছে। এই সময়ে চট্টগ্রাম শহরে সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। যা ছিল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরের মধ্যে চলে আসা দীর্ঘদিনের বিরোধের ফল। কুমিল্লা উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। কুমিল্লা মহানগরে দলের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও প্রবীণ নেতা আফজল খান পরিবারের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। যার সর্বশেষ রূপ দেখা গেছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও। নরসিংদীতে জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম (হিরু) ও সাধারণ সম্পাদক মতিন ভূঁইয়ার সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের (রাজু) সমর্থক অনেকদিন ধরে বিপরীতমুখী অবস্থানে। অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে পুনরায় আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আবদুস সাত্তার সম্প্রতি নিজ নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি। টাঙ্গাইলে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান খুনের মামলায় কারাগারে, পরিবারের সদস্যরা পলাতক। এরপরও তাদের সঙ্গে কোন্দলের কারণে ঘাটাইল উপজেলার সম্মেলন তিনবার পেছানো হয়েছে। দলের বিরোধের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। সে হিসেবে এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু স্থানে যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। একথাও সত্য কয়েকজন সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধ নিরসনে দল কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিরোধপূর্ণ জেলাগুলোর নেতাদের ঢাকায় ডেকে কথা বলা হচ্ছে।






















