পেট্রোলপাম্পে ফের ধর্মঘট শুক্রবারের মধ্যে দাবি না মানলে

0
2100
গড়াইনিউজ২৪.কম::ইজারা মাশুল বাড়ানোর প্রতিবাদ এবং ১২ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল রবিবার সারাদেশে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট পালিত হয়েছে। পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে ৯ ঘন্টার এ ধর্মঘট পালিত হয়। আগামী শুক্রবারের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে রবিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের সকল জেলায় পেট্রোলপাম্পগুলো বন্ধ থাকে। অনেক গাড়ির মালিক ও চালককে তেল ছাড়াই পেট্রোল পাম্প থেকে ফিরতে হয়েছে। তবে সরকারি পাম্পগুলো খোলা থাকায় ও ৩টার পর বেসরকারি পাম্পগুলোতেও বিক্রি শুরু হওয়ায় ভোগান্তির মাত্রা কিছুটা কম ছিল। সরকারি পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি মূল রাস্তায়ও উঠে আসে। ফলে যানজটও সৃষ্টি হয়। এদিকে ২০ আগস্ট গতকালের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষিত হলেও অনেকেই তা জানতেন না। ফলে বিপাকে পড়তে হয় তাদেরকে। রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান মতিঝিলে তার অফিসে যাওয়ার আগে তিনটি পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে পরে পথেই চালকসহ গাড়ি রেখে অফিসে যান। মহাখালী, যাত্রাবাড়ী ও মগবাজার এলাকায়ও এমন হয়রানির তথ্য পাওয়া গেছে। দুপুর ১টার দিকে পরীবাগের মেঘনা অয়েলের পাম্পে গিয়ে তেল নিতে আসা গাড়ি ও মোটর সাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পাম্পের কর্মচারী মিল্টন বলেন, বেসরকারি পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় তাদের ওপর চাপ বেড়েছে। সকাল থেকেই ভিড় ছিল।  বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. নাজমুল হক তার মালিকানাধীন রমনা পেট্রোল পাম্পে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পাম্পে তেল নিতে আসেন অনেক গাড়ি ও মোটর সাইকেল চালক। পাম্প বন্ধ থাকায় তাদের ফেরত যেতে হয়। নাজমুল হক বলেন, আমরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসলেও সুরাহা না হওয়ায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও বিপিসির কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের সমস্যা ও দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার ঐক্য পরিষদের সভা ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী শনি বা রবিবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পরিষদের ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ইজারা নেওয়া জমির বর্ধিত মাসুল কমানো, জ্বালানি তেল পরিবহনে ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, তেল বিক্রিতে পাম্পের কমিশন বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লক্ষ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ভেজাল রোধে বেসরকারি রিফাইনারির বাজারে তেল বিক্রয় বন্ধ করা নয়তো তাদের সরবরাহকৃত তেল বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান।  পেট্রোল পাম্প মালিক-শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা বলেন, পেট্রোল পাম্পের মালিক-শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে। শিগগিরই সমাধানে আসা যাবে বলে আশা করছি।