“আমি আট মাসের বাচ্চা বলছি”

0
215

একদিন দুপুরে হঠাৎ খালামনি আমাদের বাসায় আসলো, আম্মুর খুব কাশি হচ্ছে শুনে, সাথে নিয়ে তুলশি পাতা। আমি তখন মাত্র ঘুম থেকে উঠেছি। আমাদের ঘরটা বড্ড এলোমেলো ছিলো, মা এখানে ওখানে টিসু আর প্যামপাস ফেলে রেখেছে। কয়দিন যাবৎ মা এতো অসুস্থ যে কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারছিল না এমন কি আমার যতœও না। খালামনি আমাকে একটু কোলে নিলো আদর করলো কিন্তু চুমু দিলো না। আমি বারে বারে খালামনির মাস্কটা খুলার চেষ্টা করছি কিন্তু খালামনি বলে, না বাবা এটা খোলা যাবে না তোমার মা কে দেখে আমার খুব অস্থির লাগছে। আমি খালামনির কোলে বসে আছি আর মা সামনে বসে সমানে খক খক করে কাশি দিয়েই যাচ্ছে। আমাকে একটু আদর করেই খালামনি চলে গেল।
তার দুই দিন পরই বেশ রাতে খালামনি আর খালু আমাকে নিতে আসলো। বাবা আমাকে খালামনির কোলে দিয়ে দিল, আমার খুবই কষ্ট হচ্ছিলো কিন্তু আমি বলতে পারছিলাম না আমি মাকে ছাড়া যাবো না। খালামনির বাসায় এসেই, আমার পোশাক চেঞ্জ করে আমাকে ফিডার খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম খালামনির বাসায় আছি। আমি আমার খেলনা খুজছি, মা কে খুজছি। খালামনি আমাকে যখন কোলে নিলো আমি কান্না করলাম বোঝাতে চাইলাম আমার মা কোথায়? খালামনি বুঝে নিলো আমি ক্ষুধায় কান্না করছি। তাই আমার জন্য খাবার নিয়ে আসলো। আমি মন খারাপ করে বসে বসে খাচ্ছি। একটু পর পর আমি কান্না করছি কারন আমার মা আমাকে খাওয়ানোর সময় মোবাইলে ছড়া গানের ভিডিও দিত আমি ওগুলা দেখে মজা করে খেতাম, খালামনিকে এটা কিছুতেই বুঝাতে পারছি না। খালামনি একটু পর ভাইয়ার অনেকগুলা খেলনা এনে দিল, আমি খেলনাগুলা পেয়ে মহা খুশি।
বেশ কিছুক্ষণ পর খালামনি আমাকে সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করিয়ে দিল। দুপুরে যখন খালামনি আমাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছিলো আমি এতো মজা করে ভাত খাচ্ছিলাম, আমি খালামনিকে বুঝাতেই পারছিলাম না যে আমি ১০/১২ দিন পর আজ ভাত খেলাম। আমার মা এতোটাই অসুস্থ যে আমাকে ঠিক মতো যতœই করতে পারিনি।
আমার খালাতো ভাই (বয়স ৭ বছর) দেখতাম আমাকে দূর থেকে দেখতো কিন্তু কাছে আসতো না। আমি ভাইয়াকে দেখে খুব খুশি হতাম, চাইতাম ভাইয়া কাছে আসুক আমার সাথে খেলা করুক। খালামনির কাছেও ভাইয়ার আসা নিষেধ ছিল। তাই খালামনি দূর থেকেই ভাইয়াকে যা যা বলতো ভাইয়া সময়মতো তাই তাই করতো। আমার জন্য খালামনিকে চার পাঁচ দিন আলাদা থাকতে হয়েছে, ভাইয়াকে এই কয়দিন খালামনিও আদর করতে পারিনি। ভাইয়া শুধু দূর থেকেই আমাদের দেখে যেতো।
খালামনি আমাকে সারাদিন ভালোই রাখতে পারতো কিন্তু রাতে আমাকে একটুও বুঝতো না। আমি অনেক রাত পর্যন্ত খুব কান্না করতাম। পরে অবশ্য খালামনি আবিষ্কার করলো আমি ফিডারে সুজি না খেয়ে ঘুমাতে পারি না। তারপরও আমি রাতে একটু একটু কান্না করতাম মাকে ছাড়া ঘুমাতে আমার খুব কষ্ট হতো। তবে চার পাঁচ দিন পর যখন ভাইয়া আমার ঘরে আসতো আমার সাথে খেলা করতো তখন আমার খুবই ভালো লাগতো। আমার দিনগুলা খুব মজায় কাটতে লাগলো। আমি মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতাম, মাকে দেখে খুব অভিমান হতো, পরে মা যখন বললো আমি একটু সুস্থ হলেই তোমাকে দিয়ে যেতে বলবো, তুমি মন খারাপ করো না আমার কলিজা। পরে অবশ্য মাকে ভিডিও কলে দেখে খুবই খুশি লাগতো।
প্রিয় পাঠক এতো সময় আট মাসের বাচ্চার অনুভুতি গুলা আমি আমার কলমের দ্বারা প্রকাশ করেছি। বাচ্চাটা তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে পেরেছে কিনা তা পরে বলছি। তার আগে কঠিন বাস্তবতার একটা ঘটনা শেয়ার করি।
আমার সেজ বোন লালমাটিয়ার কোন এক স্কুল এন্ড কলেজে চাকুরী করে, প্রতিষ্ঠানের নামটা প্রকাশ করছি না। সেই প্রতিষ্ঠানের দুইজন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়া অবস্থায়ই ডিউটি করতে বাধ্য হয় আর সেখান থেকেই করোনা ছড়াই। বোনের যখন জ্বর হয় সাথে প্রচুর কাশি। এভাবে পাঁচ সাত দিন যাওয়ার পর জ্বর একটু কমলেও কাশি কমে না, অসহনীয় কাশি। আমি বারে বারে ফোনে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তুই কি কোন গন্ধ পাস খাবারের বা পেট খারাপ করেছে কিনা?? সঠিক ভাবে কিছু বলতে পারলো না। আমি ভাবলাম এতো কাশি যাই একটু তুলশি পাতা নিয়ে, যদি কাশিটা কমে! আপুকে দেখে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম সমানে কাশি দিচ্ছে, চোখগুলা ফুলে গেছে, ঠোঁটগুলা শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে। আমি কিছু তুলসি পাতা ধুয়ে ওকে বললাম তুই চিবিয়েই খা যদি একটু উপকার হয়। ওর তুলসি পাতা চিবানো দেখেই আমি বুঝে গেছিলাম ওর করোনা হয়েছে, কারন ওর মুখে কোন স্বাদই ছিল না। আমি ততক্ষণে ওর পাশে বসা তবে আমার মাক্স পড়া ছিল একটু দূরেই বসে ছিলাম। ওকে দেখে আমার এতোটায় অস্থির লাগছিল যে আমি বেশি সময় থাকতে পারিনি। যখন ওর বাসা থেকে আসি তখন আমাকে কেক দিয়ে বলে এটা নিয়ে যা এটা খেলে আমার পেট খারাপ করছে। আমি তখন আরও শিয়র হয়ে গেলাম যে করোনায় হয়েছে। বাসায় এসেই সরাসরি গোসল করলাম। মনটা খুবই খারাপ, আমার কয়েকটা বন্ধুকে ফোন দিলাম যাদের আগে করোনা হয়েছিল। তাদেরকে বিস্তারিত বলতেই তারা বললো ১০০% শিয়র তোমার বোনের করোনা হয়েছে। মেজ আপুকে ফোন দিলাম বললাম সেজ আপুর তো করোনা হয়েছে। আপু বললো হুম আমি আর তোর দুলাভাই সেটাই ভেবেছিলাম তাই গতরাত থেকেই ওকে ফোনে ঔষধ কি কি খেতে হবে বলে দিয়েছি। আমি বললাম ওকে কি বলেছো যে ওর করোনা হয়েছে?? আপু বলে না, আমি বললাম না বললে সাবধান হবে কিভাবে?? আর সিরিয়াসলি সময় মতো সব কিছু করবেও না, যেমন গরম পানির ভাপ নেয়া, ম্যানথল এর ভাপ নেয়া, মশলা চা খাওয়া, গরম স্যুপ খাওয়া। আবার সেজ আপুকে ফোন দিলাম বললাম তোর তো করোনা হয়েছে ও তখন আমাকে বলে কি করে বুঝলি? আমি বললাম তোর মুখে কোন স্বাধ নাই গন্ধ পাস না পাতলা পায়খানা হয়েছে, জ্বর হয়েছে, কাশি অতিমাএায় আর কি বুঝার বাকি থাকে। তখন ও হাওমাও করে কান্না করে বলে তাহলে আমার ছেলের কি হবে?? আমি তখন একটু রাগ করেই বললাম নিজেকে সুস্থ করতে হবে, ছেলের জন্যই মনোবল বাড়াতে হবে, আর নিয়ম করে সব পালন করতে হবে।
দুই দিন যাওয়ার পর আপুর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেলো। বাচ্চা নিয়ে একা একা নিজের শরীরের যতœ নেয়া সম্ভব হলো না। তাই আমার ছোটবোনের কঠিন সিদ্ধান্তে সেজ আপুর আট মাসের বাচ্চাকে আমার কাছে নিয়ে চলে আসি। এতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম আমরা, যে ইচ্ছা করলেই রুগীকে নিজের বাসায় আনতে পারছিলাম না কারন নিজের যে ইচ্ছা করলেই রুগীকে নিজের বাসায় আনতে পারছিলাম না কারন নিজের সংসার, সন্তান…..। সব কিছু মিলিয়ে তাকে আমরা ফোনে ফোনে মনের শক্তি যোগাচ্ছি আর খবর নিচ্ছি সব কিছু ঠিক মতো করছে কিনা। এভাবে কেটে গেলো আরও দুটোদিন। আপুর অবস্থার কোন উন্নতি নাই। একপর্যায়ে আমি পরিচিত এক ডাঃ কে ফোন দিলাম আপুর অবস্থার কথা জানালাম, ডাঃ আমাকে বললেন আগে রুগীর অক্সিজেন লেভেল কত সেটা জানাতে তারপর উনি সিদ্ধান্ত দিবেন কি করতে হবে। আমি সেজ আপুকে ফোন দিলাম বললাম তোকে নিচে গিয়ে অক্সিজেন লেভেলটা মাপতে হবে পারবি?? আপু বললো এমনিতেই আমাকে নিচে যেতে হবে ঔষধ কিনতে তোর দুলাভাই যেতে পারবে না তার মাথা ঘুরছে। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেললাম সেই মুহুর্তে। ফোনটা রেখে দিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলাম। তারপর আবার ফোন দিলাম জিজ্ঞাসা করলাম তুই একা যেতে পারবি তো নাকি আমি আসবো? আপু বললো না থাক আমি আস্তে আস্তে যাই পাশেই তো পারবো। কিছুক্ষণ পর আপু ফোন দিলো বললো অক্সিজেন লেভেল ৯২% তখনও আমি জানতাম না এটা খারাপ নাকি ভালো। সাথে সাথে আবার ডাঃ কে ফোন দিলাম ডাঃ শুনে বললো যে কোন সময় অক্সিজেন ফল করতে পারে, তাই অক্সিজেন এর ব্যবস্থা করুন বাসাতেই। আর যদি হাসপাতালে নিতে চান নিতে পারেন। হাসপাতালে নেয়ার মতো সাহস আমাদের ছিল না। তাই ডাঃ কে বললাম বাসা থেকেই সব ট্রিটমেন্ট করতে চাই, ডাঃ আমাকে বললেন আপনি চাইলে আমি একজন মানুষ ঠিক করতে পারি যে বাসায় গিয়ে গিয়ে রুগীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে আমার ডিরেকশনে। আমি আপাতত ডাঃ কে পরে জানাচ্ছি বলে রেখে দিলাম। সেজ আপুকে আবার ফোন দিলাম বললাম ওখানে অক্সিজেন নেয়া যাই কিনা দেখে আসিস, সব খবর নিয়ে আসিস এমার্জেন্সিতে কাজে লাগবে। ততক্ষণে মেজো আপুকে ফোনে বিস্তারিত বলায় আপু একটু রেগেই গেলো। মেজো আপু আমাকে বললো যে রুগী নিজে থেকেই হাসপাতালে গিয়ে তার অক্সিজেন লেভেল মাপতে পারে ঔষধ কিনতে পারে তার কিভাবে অক্সিজেন লাগে? মেজ আপু সবসময়ই সব কিছু লজিক দিয়ে ভাবে। মেজ আপু বললো যার এখনও এন্টিবায়োটিক শেষ হয়নি সে কিভাবে এতো তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে??
তারপর থেকেই ফোনে ফোনে মেজ আপু সেজ আপুর যতœ নেয়া শুরু করলো। প্রতি বেলায়, প্রতি সময়ে ঔষধ থেকে শুরু করে গরম পানির ভাপ আরও অনেক কিছু দেখাশুনা করলো। গতবছর মেজ আপুর মেয়ে ও দুলাভাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল, আ

ল্লাহর অশেষ রহমতে আর আপুর সঠিক সময়ে সঠিক যতেœর জন্যই তারা অল্পতেই ভালো হয়ে গিয়েছিল। তাই আপুর কনিফডেন্স লেভেলটাও খুব শক্ত ছিল। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেজআপু একটু ভালো হতে শুরু করলো।
প্রতিদিন সিজদায় কেঁদেছি আমরা সবাইই। কিন্তু কেউই কারও সাথে শেয়ার করিনি, যদি মনোবল হারিয়ে ফেলি। আল্লাহর অশেষ রহমত, বাচ্চাটির মুখের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ আপুকে ধীরে ধীরে সুস্থের দিকে নিয়ে গেছেন। আল্লাহর দরবারে অনেক অনেক শুকরিয়া যে বাচ্চাটা তার মায়ের কোলে ফিরে গেছে।
প্রিয় পাঠক এমন কঠিন বাস্তবতা থেকেই আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। এখান থেকে যে বিষয়গুলো শিক্ষনীয়:-
* আমরা এখনও মাস্ক পড়ে বাইরে যাই না।
* মাক্স ঠিক নিয়মে বা জায়গায় পড়ি না।
* বাইরে থেকে এসে হাত ধুই না।
* অপ্রয়োজনে বাইরে যাচ্ছি এখনও।
* শরীরে জ্বর অনুভব

নিলুফা আক্তার,
লেখক ও কলামিস্ট

করলেই আলাদা হচ্ছি না পরিবার থেকে। ধরে নিলাম এটা সাধারন জ্বর তারপরও যদি দুইচার দিন সবার কথা চিন্তা করে যদি আলাদা থাকা যাই তাহলে ক্ষতি তো নাই। আর যদি সাধারন জ্বর না হয়…….!…… কত জনকে হারাতে হবে তার হিসাব নাই।
* সবথেকে যেটা বড় বিষয় জ্বর কাশিতে নিজের শরীর দূর্বল হয়েই যাচ্ছে তারপরও নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করেই যাচ্ছি যে আমার করোনা হয়নি। এতে কতটা সময় নিজের হাত থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে বুঝতেই পারছি না, আর যখন বুঝতে পারছি তখন আর সময় থাকছে না, শক্তি থাকছে না করোনার সাথে লড়ার।
* তার থেকেও বড় সমস্যা যার করোনা পজেটিভ হচ্ছে সে এবং তার পরিবার বিষয়টি গোপন রাখছেন। এতে তার থেকে আরও ছড়ানোর ঝুকিটা থেকেই যাচ্ছে। এমনকি গোপনীয়তার কারনে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটাও নিতে পারছে না। এতে রুগীর ঝুঁকিটাও বেড়েই চলেছে।
* করোনা পজেটিভ রুগীর সবার আগে যে বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার সেটা হলো তার থেকে যেন আর দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির না হয়।
* দুইচার দিনের বেশি জ্বর থাকলেই আর দেড়ি না করে ডাঃ এর পরামর্শ নেয়া উচিত। আর জ্বরের প্রথম দিন থেকেই গরম পানির ভাপ, মশলা চা একটু পর পর গমর পানি খাওয়া এগুলা তো শুরু করা যেতেই পারে।
এখনও সময় আছে সাবধান হয়ে যান। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল। কত বাচ্চা যে আজ এতিম হয়েছে, বাবা মায়ের সামনে সন্তান অক্সিজেন এর অভাবে মারা যাচ্ছে, তার হিসাব আমরা কয়জন রাখছি। এখনও আমরা থুতনির নিচে মাক্স দিয়ে বীরের মতো রাস্তা দিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছি, একবার যদি কঠিন বাস্তবতা আপনার মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় বুঝতেও পারবেন না কি থেকে কি হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হন। করোনা মুক্ত পৃথিবী একদিন আসবেই, ইনশাআল্লাহ। তবে দিন শেষে যা হারাবার আপনিই হারাবেন।
তাই আবারও বলছি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করুন, মাস্ক ব্যবহার করুন, অন্যকে মাস্ক পড়তে উৎসাহিত করুন, সাবান পানি দিয়ে বারে বারে হাত ভালো করে পরিষ্কার করুন। বাসায় থাকুন পরিবার নিয়ে নিরাপদে থাকুন।
নিলুফা আক্তার
লেখক ও কলামিস্ট
দৈনিক প্রতিজ্ঞা।