সুন্দরবনে মৌয়ালমধু ও মোমআহরণে ব্যাস্ত মৌয়ালরা

0
1437

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে : সুন্দরবনে মধু ও মোম আহরণের মৌসুম শুরু হয়েছে। এ নিয়ে উপকূল এলাকায় মৌয়ালদেরমধ্যে ব্যাপকতৎপরতা দেখা দিয়েছে। ১লা এপ্রিল থেকে ১৫ই জুন পর্যন্তবনে মধু আহরণ চলবে। আড়াইমাসব্যাপী মৌয়ালরা সুন্দরবনে মধু আহরণ করবে। তবে এখন সনাতন পদ্ধতিতে মধু আহরণ করায় মধুর পরিমাণ কমছে; ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বন। মশালদিয়ে ধোয়া দেওয়ার সময় অনেক মৌমাছি আগুনে পুড়ে মারা যায়। আবার অনেক সময় না বুঝেপুরো মৌচাক কেঁটে ফেলেন মৌয়ালরা। এসব কারনে সুন্দরবনের মধু সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে। বনবিভাগ সূত্রে জানাগেছে, মৌয়ালরা বোটলাইসেন্সসার্টিফিকেট (বিএলসি) এবংপাস পারমিটনিতে শুরু করেছে। ১লা এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৫ই জুন পর্যন্ত মধু ও মোমআরহণ চলবে। গত বছর একবারপাসনিয়ে এক মাসবনে থাকতেপারতো মৌয়ালরা। এ বছর থাকতেপারবে ২ সপ্তাহ। এরপরআবারও ২ সপ্তাহপাসনিয়েবনেঢুকতেহবে। সুন্দরবনবনবিভাগ থেকে জানাগেছে, সুন্দরবনপশ্চিম ও পূর্ব বিভাগেএবছর মধু আহরণলক্ষ্যমাত্রাধরাহয়েছে ৩ হাজার ১৬০ কুইন্টালএবং মোম ৭৯৩ কুইন্টাল। এরমধ্যে পশ্চিমবনবিভাগে ২ হাজার ২৫০ কুইন্টাল ও মোম ৫৬৫ কুইন্টাল। এরমধ্যে খুলনা রেঞ্জে ৭৫০ কুইন্টাল ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১৫’শ কুইন্টাল মধু আহরণেরলক্ষ্যমাত্রাধরাহয়েছে। প্রতিকুইন্টাল মধু আহরণেরজন্য ৭৫০ টাকাএবং মোমেরজন্য ১ হাজারটাকারাজস্ব দিতেহবেবনবিভাগকে। সুন্দরবনেপ্রবেশেরজন্য মৌয়ালদেরমাথাপিছু ৮ টাকারাজস্ব নির্ধারণকরাহয়েছে। সুন্দরবন থেকে সুন্দরী, খলিসা, গরাণ, গেওয়া, বাইন ও কেওড়াগাছের মধু আহরণকরাহয়। জলবায়ুপরিবর্তনের কারণেবনেরজীববৈচিত্রেরউপরপ্রভারপড়েছে। এরপাশাপাশিএখনোসনাতনপদ্ধতিতে মধু আহরণকরায়মধুরপরিমাণকমছে। বনবিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মধু আহরণহয়েছিল ২ হাজার ২৩১ কুইন্টাল ও মোম ৫৩১ কুইন্টাল। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তাকমে দাড়ায় ১ হাজার ৯২০ কুইন্টাল ও মোম ৪৮৭ কুইন্টাল। মৌয়ালদেরকাছ থেকে জানাগেছে, এখনো তারা সনাতন পদ্ধতিতে মধু আহরণকরছেন। মৌচাক থেকে মৌমাছি তাড়া তেখড়-কুটোবাবনেরলতা-পাতাদিয়েমশাল তৈরীকরেন। মৌচাক কাটার সম য়মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরীকরে মৌচাকে ধোয়াদিয়ে মৌমাছিতাড়ানোহয়। এ সময় মৌয়ালদেরমাথায়টুপি, হাতে ও মুখেকাপড় পেটিয়ে মৌচাক কাঁটতে হয়। তাড়াহুড়োর কারণে অনেক মৌচাক আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। এরকারনেঅনেক মৌমাছিমারাযায়। এছাড়া না বুঝে পুরোচাক কেঁটে ফেলেতারা। এতে মৌমাছিরবাচ্চা ও ডিমনষ্টহয়েযায়। এসবকারনেআগেরতুলনায় মৌচাককমেগেছে। মৌয়ালরাজানান, আগুননাজ্বালিয়ে মেশিনেরসাহায্যে ধোয়াদিয়ে মৌচাককাটাযায়কিন্তু মেশিন ও মুখেরমাক্সের দাম বেশিহওয়ারকারনেতারা মেশিনকিনতেপারেনা। তাছাড়ামহাজনেরঅধিনে যেসব মৌয়ালরা মধু আহরণকরতেযায়তাদেরকেও মেশিনবামাক্স না দেয়ায়সনাতনপদ্ধতিতে মধু আহরণ করতে হচ্ছে। এছাড়া অসর্তকতার কারনে মশালের আগুনে পুড়ে বাম শালবনের মধ্যে ফেলে দেওয়ায় ইতোপূর্বে একাধিকবার বনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিমবনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলীজানান, মৌয়ালরা কেউ যাতে মৌমাছিনা পোড়ায়, পুরোচাকনা কেঁটে ফেলেনএবংব্যবহৃতমশাল যেনবনেরমধ্যে ফেলেনা দেয় সেজন্য প্রতিবছরকিছুসংখ্যাক মৌয়ালকেপ্রশিক্ষক দেওয়াহয়। তবেনানাসীমাবদ্ধতারকারনে সব মৌয়ালকেএখনোপ্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাঘেরহামলাএড়াতেসতর্ক ও দলবদ্ধভাবে মৌয়ালদেরচলাফেরাকরারপরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়াচলতি মধু আহরণ মৌসুমে মৌয়ালদেরনির্বিঘেœ মধু আহরনে বনদস্যুদের তৎপরতা রোধেটহল জোরদার করা হয়েছে।