ফুডপ্যান্ডায় ভুক্তভোগীর উকিল নোটিশ

0
811

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়ন্তী, গড়াইনিউজ ২৪.কম: ফুডপ্যান্ডায় অনলাইনে খাবার অর্ডার করেছিলেন ইকরাম হোসেন। সরবরাহের সময় দেখিয়েছিল এক ঘণ্টা। খাবারের টাকাও তার ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নিয়েছিল ফুডপ্যান্ডা। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলেও সেই খাবার আর সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি কোনো যোগাযোগও করা হয়নি গ্রাহকের সঙ্গে। এমন অভিযোগ করেছেন গ্রাহক নিজেই। এ ঘটনায় অনলাইন ভিত্তিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপ্যান্ডাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন গ্রাহক ইকরাম হোসেন। সেই সঙ্গে, পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ মে এই ঘটনা ছাড়া আগেও তার একই অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে। দ্যা লিগ্যাল ফ্যাসিলিটেশনের প্যাডে ফুডপ্যান্ডার কান্ট্রি ডিরেক্টর বরাবর উকিল নোটিশটি পাঠিয়েছেন আইনজীবী মুহাম্মদ। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ১৪ মে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বগুড়ার ‘ফুডল্যান্ড’ নামের একটি খাবার দোকান থেকে ফুডপ্যান্ডার মাধ্যমে দুটি চিকেন বার্গার অর্ডার করেন ইকরাম হোসেন। যার অর্ডার নম্বর- t3qr-dam8। তিনি তখন বগুড়াতে ছিলেন। খাবারটি যেই ঠিকানায় সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করা হয় সেটি ‘ফুডল্যান্ড’ থেকে ১০ মিনিটের পথ। অথচ সেখানে খাবারটি সরবরাহের জন্য ৬০ মিনিট সময় দেখানো হয়। সেই সঙ্গে, খাবারের দাম হিসেবে দুইশ ২২টাকাও কেটে নেওয়া হয় অর্ডারকারীর ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে। গত ২২ মে পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইকরাম হোসেন খাবারগুলো তার সন্তান ও ভাতিজা/ভাগ্নের (নেফিউ) জন্য অর্ডার করেছিলেন। অর্ডারের পর থেকে তারা খাবারের অপেক্ষায় ছিল। এক পর্যায়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় কান্নাকাটি করে তারা রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। ইকরাম হোসেনও অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আরও একঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু তখনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি পরে আর কোনো যোগাযোগও করেনি ফুড প্যান্ডা কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেদিন রাতে খাবার না পেয়ে তার সন্তান এবং ভাতিজা/ভাগ্নির শিশু মনে আঘাত পেয়েছে। এর আর্থিক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নোটিশটি গ্রহণের তারিখ থেকে সাতদিনের মধ্যে এই টাকা পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এর আগেও ১২ মে তার সঙ্গে একই আচরণ করে ফুডপ্যান্ডা কর্তৃপক্ষ। সেদিনও তিনি ‘শেক অ্যান্ড মেক’ নামে একটি দোকান থেকে খাবার অর্ডার করেছিলেন তিনি। যার অর্ডার নম্বর ছিল- t8es-dxwn।  জানতে চাইলে আইনজীবী মুহাম্মদ বলেন, ‘ফুডপ্যান্ডা যা করেছে তা অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ শিশুরা অপেক্ষা করে করে খাবার না পেয়ে কান্না করেছে। এক পর্যায়ে তারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। এতে তারা শিশু মনে যে আঘাত পেয়েছে, তা অপূরণীয় ক্ষতি। তাই ক্ষতিপূরণের যে পাঁচ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়।’ আইনজীবী জানান, ডাকের মাধ্যমে পাঠানো উকিল নোটিশটি ফুডপ্যান্ডা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। তার প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। তাদেরকে সাতদিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। যদি তারা তা না করে তাহলে ভুক্তভোগী মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ইকরাম হোসেন বলেন, ‘ফুডপ্যান্ডার কাছ থেকে এমন আচরণ আমি কখনো আশা করি না। তারা যা করেছে তা রীতিমতো দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। বাচ্চাদের কাছে আমাকে অনেক ছোট হয়ে যেতে হয়েছে। তাদের কান্না দেখে আমিও চোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি। এর আইনী প্রতিকার চাওয়ার অধিকার আমার আছে। তাই আইনী পথেই এগোচ্ছি।’এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের জনসংযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফোরথট পিআরের মাধ্যমে ফুডপ্যান্ডা কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা উকিল নোটিশটি পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে তারা এর ব্যাখ্যা করবেন। গ্রাহকের অভিযোগটির কারণ শনাক্ত করে দ্রুত তা সমাধান করা হবে বলেও জানায় ফুডপ্যান্ডা।২০১৩ সালে ঢাকা শহরে খাবার সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করে ফুডপ্যান্ডা। পরে তারা সারাদেশে এই সেবা চালু করে।