তীরে এসে তরী ডোবালো বাংলাদেশ!!

0
2531

ক্রীড়া প্রতিবেদক, গড়াইনিউজ২৪.কম :: জয়ের পথে থাকলে বড় শট না খেলে সিঙ্গেলের দিকে নজর দিতে হয়-সাকিবের মুখে এই কথা এখন প্রায়ই শোনা যায়। সেই সাকিব (৫৫ বলে ৭৯) ইমরুলের সঙ্গে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলে খেই হারালেন। ইমরুল ১১২ রানের পর ‘ডাউন দ্য ট্রাকে’ এসে ক্লান্তি নিয়ে সাজঘর ধরেন। সাকিব ফিরতেই ‘তাসের ঘর’ হয়ে ধসে যায় ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ৩০৯ রানের কঠিন সাগর পাড়ি দিতে যেয়ে ২১ রান দূরে ডুবে যায় তরি।
তামিম (১৭), সাব্বির (১৮), মুশফিক (১২), রিয়াদ (২৫) ফিরে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ অসহায় আত্মসমর্পণ করবে। সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন ছয় বছর পর সেঞ্চুরি করা ইমরুল। তাকে সঙ্গে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। সাকিব যখন সাজঘর ধরেন তখন দলীয় স্কোর ৫ উইকেটে ২৭১। জয় হাতের নাগলে। তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক এসেই বোল্ড হন। এরপর অনেক ঝড় দেখা মাশরাফিও রশিদের লেগ স্পিন লেটকাট করতে যেয়ে পেছনে ধরা পড়েন। ম্যাচ হেলে পরে ইংলিশদের দিকে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে তালগোল পাকানো মোশাররফ যখন ইমরুলের সঙ্গে এসে যোগ দেন, তখন বাংলাদেশের দরকার ৩৯ বলে ৩৩। ইমরুল ফিরে যাওয়ার পরপর বিদায় নেন শফিউল। তারপর শুধু সময় পার করেন তাসকিন-মোশাররফ।
এর আগের গল্পটা বাজে ফিল্ডিংয়ের, আরো সহজ করে বললে ক্যাচ মিসের মহড়ার। স্টোকস দুইবার জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করে বেরিয়ে যান। ডাকেটও দুইবার মরতে চেয়ে দুইবারই বাঁচেন। তিনি ফেরেন অর্ধশতকের পর, ৭৮ বলে ৬০। এছাড়া বেশ কয়েকটি সিঙ্গেলও বেরিয়ে যায় যার কল্যাণে টস জিতে আগে ব্যাটে করে বাংলাদেশের সামনে ‘ভয়ে’র স্কোর দাঁড় করায় ইংল্যান্ড, ৩০৯।
এদিন শুরুতে বেশ সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন দুই ইংলিশ ওপেনার জেমস ভিঞ্চ এবং জ্যাসন রয়। সেই সঙ্গে সমানতালে রানও তুলছিলেন।  প্রথম ৫ ওভারে দুজনে ২৯ করে ফেলেন। অষ্টম ওভারে এসে ভিঞ্চকে থামান শফিউল (১৬)।
ওভারের দ্বিতীয় বলে শফিউলকে সোজা ব্যাটে খেলতে চেয়েছিলেন ভিঞ্চ। কিন্তু শট খেলার জন্য বলটি বেশ শর্ট ছিল। ব্যাটের উপরের দিকে লেগে চলে যায় মিডঅনে দাঁড়ানো মাশরাফির হাতে।
বোলিংয়ের গোড়াপত্তন করতে এসেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম ওভারে দিয়ে যান ৫। রয় এই ওভারেই আভাস দেন মেরে খেলার। দুটি বাইরের বলেই পা নিয়ে চালিয়েছিলেন। কিন্তু নাগাল পাননি।
শফিউলকে নিয়ে প্রথম চার ওভার শেষ করেন অধিনায়ক। উইকেটের দেখা না পাওয়ায় স্মরণ করেন সাকিব আল হাসানকে।
পঞ্চম ওভারে পঞ্চম বলে ভিঞ্চকে কিছুটা বিব্রত করতে সমর্থ হন তিনি। শর্ট লংঅফে ক্যাচের মতো বলে নিজেই এক হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু মাটি ছুঁয়ে যায় হাত।

১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ডাউন দ্য ট্রাকে এসে বড় শটে গিয়েছিলেন রয়। টাইমিংয়ের অভাব ছিল। বাউন্ডারি লাইনে ঠাণ্ডা মাথায় বল তালুবন্দি করেন সাব্বির।

তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউটের শিকার হন জনি ব্যারিস্টো। ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে মোসাদ্দেককে মিডঅফে পুশ করে দ্রুত জায়গা বদল করতে চেয়েছিলেন ব্যারিস্টো-ডাকেট। ওখানে ছিলেন সাব্বির। চোখের পলকে ‘থ্র’ করেন। বল লেগেও যায়। থার্ডআম্পায়ার জানিয়ে দেন ফিরতে হবে ১৭  বলে ৭ রান করা ব্যারিস্টোকে।

এরপর দৃশ্যপটে হাজির হন স্টোকস আর ব্যারিস্টো।

৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিনকে বেন স্টোকস ডাউন দ্য ট্রাকে এসে হাফভলি বানিয়েছিলেন। মিডঅনে রিয়াদ প্রস্তুতও ছিলেন। ধরেই মাটিতে শুয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল বেরিয়ে যায়। স্টোকস তখন ৫৯ রানে।

পরের ওভারে মাশরাফিকে বড় শট খেলতে যেয়ে বল আকাশে উঠিয়েছিলেন এই স্টোকস। এবার হাত ফসকায় মোশাররফ রুবেলের।

এই স্টোকস শেষ পর্যন্ত থামেন ব্যক্তিগত ১০১ রানে। ৪১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাশরাফিকে পুল করেছিলেন। কিন্তু বল শেষ মুহূর্তে নিচু হয়ে যায়। বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন সাব্বিরের হাতে।

৪৮তম তৃতীয় বলে বাটলার লং লেগে মরতে মারতে বেঁচে যান। এবার বলের লাইনে ছিলেন তাসকিন। তেমন কিছু করার ছিল না তার। অনেকটা পথ দৌড়ে এসে বলের নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু হাতে নিতে পারেননি। এই ক্যাচ ধরতে হলে তাসকিনে এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু করতে হতো। ৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে সেই করার ক্ষমতা তার না থাকাই স্বাভাবিক।

ধারাবাহিকভাবে এদিন অবাক করে গেলেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। ৪৮ ওভারের ভেতর তাকে বোলিং মার্কে ডাকা হয় ৩ বার। বাকিটা সময় আউটফিল্ডে ফিল্ডিং মিস করে গেলেন। তারচেয়ে বেশি অবাক করলেন মাশরাফি। ঠাণ্ডা মাথার অধিনায়ক সতীর্থদের কাজকারবার দেখে বার কয়েক মেজাজ হারালেন।

তাসকিনের বলে ক্যাচ উঠবে আর সতীর্থরা মিস করবেন; এটাই যেন নিয়তি। ৪৮তম ওভারে এসে তাকে দ্বিতীয়বারের মতো হতাশ করেন মুশফিক-মোসাদ্দেক। মিডউইকেটে ওঠা ওকসের ক্যাচ ‘আমি-তুমি’ করতে করতে মাটিতে লুটায়।

এই ফাঁকে বাটলার ৩৭ বলে ৬৩ করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরান সাকিব। বাউন্ডারি লাইনে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
পরের গল্পটা তীরে এসে তরি ডোবার!