
গড়াইনিউজ২৪.কম:: দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় জমা দেয়া তিনটি আসনেই বাতিল হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা। এর মধ্যে একটি আসনে বিএনপির কোনো বৈধ প্রার্থী নেই। বাকিগুলোতে দলের বিকল্প প্রার্থী আছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের জন্য জমা দেয়া মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই হয় গতকাল। জমা পড়া তিন হাজারেরও বেশি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করে বাতিল হয় কয়েকশ প্রার্থী যাদের সিংহভাগই স্বতন্ত্র। আর দলীয় হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে বিএনপির। বিএনপির যারা বাদ পড়েছেন তারা মূলত ঋণখেলাপি এবং দুই বছরের বেশি সাজার কারণে বাদ পড়ে গেছেন। এদেরই একজন খালেদা জিয়া। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সাজা হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। খালেদা জিয়া দণ্ড হওয়া দুই মামলাতে আপিল করেছেন। তবে দলের পাঁচ জন দণ্ডিত নেতা তাদের সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার পর বিএনপি নেত্রীর ভোটে আসার পথ এক অর্থে বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পাওয়া আরেক নেত্রী দণ্ড স্থগিত করতে পারলেও পরে আপিলে আটকে যান তিনি। ফলে দণ্ডিতদের ভোটে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরকে জানিয়ছে, কেউ দণ্ড স্থগিত করতে না পারলে তার মনোনয়নপত্র যেন গ্রহণ করা না হয়।
ফেনী-১
সকালে প্রথম দফায় ফেনী-১ আসনে বিএনপি নেত্রীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তার মনোনয়নপত্রের সব কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলেও বিভিন্ন সংস্থার কাছে কোনো আপত্তি আছে কি না জানতে চান রিটানির্ং কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলায় ১৭ বছর সাজার কথা জানানো হয়। তখন রিটার্নিং কর্মকর্তা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৭২ এর ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। পুলিশের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’ এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোট ১৩ জন। এদের মধ্যে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১০ জনের প্রার্থিতা। খালেদা জিয়ার ছাড়াও বাতিল হয়েছে দলের আরেক নেতা ছাগলনাইয়া উপজেলা সভাপতি নূর আহমেদ মজুমদারের মনোনয়ন। তিনি ধানের শীষে ভোট করতে চাইলেও দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। তবে আসনটিতে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মজনুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জোটের শরিক জাসদের শিরীন আখতারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে। তিনি নৌকা প্রতীকে লড়বেন। বগুড়ায় বাতিল হওয়া দুই আসনের একটিতে বিএনপির বৈধ প্রার্থী নেই
দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ।
এর মধ্যে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপিতে দুই জন বিকল্প প্রার্থী আছেন। এরা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এই আসনে মোট ১১ জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে বাদ পড়ে যায় তিনটি। বিএনপি নেত্রী ছাড়া অন্য দুই জন হলেন দলের বিকল্প প্রার্থী এ কে এম মাহবুবুর রহমান এবং জাকের পার্টির ফয়সাল বিন শফিক।
মাহবুবুরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় তিনি পৌর মেয়রের দায়িত্ব না ছেড়ে প্রার্থিতা জমা দেয়ায়। অন্যদিকে জাকের পার্টির নেতার মনোনয়ন বাতিল হয় খেলাপি ঋণের কারণে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। ক্ষমতাসীনদের সমর্থনে সেখানে ভোটে লড়বেন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন এবং সরকার বাদলের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। ফলে সেখানে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকল না। মোরশেদ মিল্টন ভোটে দাঁড়াতে গত ২৮ নভেম্বর গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন মিল্টন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহাম্মদ জানান, তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে মিল্টন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
অন্যদিকে সরকার বাদল শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ না ছেড়েই প্রার্থিতা জমা দেন। আবার তার দলীয় প্রত্যয়নও ছিল না। এই আসনে মোট ১৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে বাতিল হয়ে যায় সাতটি। এখানে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জাতীয় পার্টিও আলতাফ আলী এবারও এই আসনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে ভোট করবেন। আওয়ামী লীগের মোস্তফা আলম নান্নু মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়।

























