বাউল সম্রাট মরমি সাধক গুরু লালন ফকির

0
4256

গড়াইনিউজ২৪: মোটামুটিভাবে ১৭ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে বাউল মতের উন্মেষ ঘটলেও এই মত ও পথকে জনপ্রিয় করে তোলেন বাউল সম্রাট মরমি সাধক গুরু লালন ফকির। বাউল সম্রাট লালন ফকিরই বাউল ধারণার একটি স্বতন্ত্র ধর্ম সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
লালন ছিলেন হিন্দু ধর্মালম্বী। অল্প বয়সে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি শ্রীক্ষেত্রে যাত্রা শুরু করেন। ফেরার পথে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাকে পথের মাঝে ফেলে রেখে যায় এবং তার মৃত্যু সংবাদ রটিয়ে দেয়। সিরাজ শাহ নামক এক নিঃসন্তান পালকিবাহক পথ থেকে লালনকে তুলে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে তোলে। সুস্থ হয়ে লালন বাড়ি ফিরে গেলে মুসলমানের ভাত খেয়েছে বলে তাকে ঘরে উঠতে দেয়া হয় না। তার বউও জাতিচ্যুত স্বামীকে অস্বীকার করে। উপায়ান্তর না দেখে লালন তার আশ্রয়দাতা সিরাজ শাহর কাছে ফিরে আসে এবং তাকে গুরু পদে বরণ করে নেয়। ১৮২৩ সালের দিকে লালন নানা তীর্থ ভ্রমণ শেষে কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেওড়িয়া গ্রামের এক মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করে এবং এখানেই আখড়া গড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ১৮৯০ সালে লালনের মৃত্যুর পর এখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। যা বর্তমানে লালন শাহর মাজার নামে ব্যাপক পরিচিত।
তার মাজার প্রাঙ্গণে যাওয়ার আগেই মনে মনে বেজে উঠল লালনের গান। গেট দিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই আপনা-আপনিই একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করছিল নিজের মধ্যে। চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বেশ গোছালো। সামনে মাজার যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মরমী সাধক গুরু লালন সাঁইজী। আরও কিছু সমাধী। বেশকিছু লালনভক্ত চেখে পড়ল। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে যে বকশিস পায় তা দিয়েই তাদের চলে। যেখানে চলে এই বিনোদন জানতে পারলাম এটা অডিটোরিয়ামের নিচতলা। উপরতলায় অডিটোরিয়ামের মূল কক্ষ। এখানে মাঝে মাঝেই নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। অডিটোরিয়ামটা বেশ উন্নত। পাশে একটা পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে। জাদুঘরে বেশকিছু লোকজ সংগ্রহশালার নিদর্শনসহ রয়েছে লালন ফকিরের ব্যবহƒত একটি একতারা। সাশ্রয় মূল্যের হস্তশিল্প সামগ্রীও কেনাকাটার আগ্রহ বাড়িয়ে দিল।