আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

0
1788

গড়াইনিউজ২৪.কম:: বাংলাদেশের অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অটিজম মোকাবিলায় পরিবারগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনব্যাপী অধিকতর সাশ্রয়ী, টেকসই ও সহায়ক আন্তঃখাত কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিসে (আইপিএস) শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘অটিজম মোকাবিলায় এমন কোনো সহজ সমাধান নেই যার মাধ্যমে বিদ্যমান চিকিত্সা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে তা বাস্তবায়িত করা যায়। এর পরিবর্তে, পরিবারগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনব্যাপী অধিকতর সাশ্রয়ী, টেকসই ও সহায়ক আন্তঃখাত কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে।’ আজ রবিবার বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হচ্ছে। প্রবন্ধটি দিবসটি উপলক্ষে আইপিএস ইস্যুকৃত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ। সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বিগত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক সমর্থন ও জাতীয় শিক্ষার নীতির কারণে বাংলাদেশে অটিজমের ওপর সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও তহবিল ও সম্পদের অভাবে তাদেরকে যথাযথ সেবা প্রদান করা এখন সম্ভব হয়নি। তবে অব্যাহত অগ্রগতির ফলে আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। আমাদের অসামান্য এই সাফল্যের পেছনে জনসচেতনতা ও যেসব পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত অটিজমকে মোকাবিলা করছে তাদের কৃতিত্ব রয়েছে। ১৯৯০ এর দশকে সমন্বিত প্রতিবন্ধী নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ধরনের পরিবারগুলোর জন্য আমাদের মিশন শুরু হয়। পাশাপাশি জাতীয় ফোরাম ও প্রতিবন্ধী সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী সচেতনতা এবং অটিজম বোঝার ক্ষেত্রে ধারণা বৃদ্ধির ফলে রোগ নির্ণয়ে উন্নতি, চিকিত্সার চাহিদা এবং উদ্ভাবনী পন্থার মধ্যে অনেকগুলো বৈজ্ঞানিক পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার যোগ্য। সায়মা বলেন, এই এপ্রিলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা-এসইএআরও কে সঙ্গে নিয়ে সূচনা ফাউন্ডেশন ভুটান ও বাংলাদেশ পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভুটানে অটিজম বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সংগঠিত করে এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে। বিশেষজ্ঞ, স্ব-প্রচারণাকারী, পরিচর্যাকারী ও নীতি নির্ধারকরা অটিজম নিয়ে আলোচনার জন্য থিম্পুতে তিন দিনের এক বৈঠকে মিলিত হবেন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা অত্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তিনি রাজনৈতিক সমর্থন এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধন্যবাদ জানান। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াটিক নিউরোডিজঅর্ডার এন্ড অটিজমের (ইপনা) উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অটিস্টিক শিশুদের অংশগ্রহণে ‘আপন আনন্দে আঁকি’ শীর্ষক এক আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ সচিব মো. জিল্লার রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জো হিয়ুন গ্যিয়ু। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইপনা’র প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার, আর্ট ক্যাম্পের বিচারক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এবং বিশিষ্ট চিত্র ও নাট্য অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। আর্ট ক্যাম্পে ঢাকাসহ সারাদেশের বিশেষায়িত স্কুলের দেড় শতাধিক অটিস্টিক শিশু অংশ নেয়। সেরা দশ শিশুকে পুরস্কৃত করা হয়। বাসস।