৭টা সৃজনশীলঃ বারবার পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের আত্মিক অপমৃত্যু!

0
2254

গড়াইনিউজ২৪.কম:: প্রমথ চৌধুরী তাঁর বই পড়া প্রবন্ধে যথার্থই বলেছিলেন, ‘দেহের মৃত্যুও রেজিস্টারি রাখা হয় আত্মার হয় না।’ বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তারা হয়তো শিক্ষার্থীদের মানুষই মনে করেননা। এজন্যই হয়তো গত ৮ সেপ্টেম্বরের এই নতুন নম্বর বিভাজন দেওয়া হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার মাত্র এক মাস আগে। কি অমানবিক আর হাস্যকর আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থা! শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যই কি এইসব? না শিক্ষাকে ধ্বংসের পরিকল্পনা? ৬টা সৃজনশীল নিয়েই যেখানে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ ছিল সেখানে আরও একটা বৃদ্ধি! তাও আবার এসএসসি পরীক্ষার মাত্র ৪মাস পূর্বে! ৬ টা সৃজনশীল লিখতেই যেখানে পরীক্ষার্থীরা হিমশিম খেতও সেখানে আরও একটা বৃদ্ধি তাদের মনের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন আমাদের শিক্ষামন্ত্রী? আর এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের কাছে ছেলেখেলা হতে পারে কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছে নয়। আমাদের দেশে সৃজনশীল ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিলো শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্যই। কিন্তু কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ব্যাহত হচ্ছে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার আসল উদ্দেশ্য। হ্যাঁ একজন পরীক্ষার্থীর কাছে ৭টা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কষ্টকরই বটে কিন্তু অসম্ভব নয়। কিন্তু যে ছেলেটা ক্লাস ৯ পার করে ফেলছে ৬ টা সৃজনশীলের উত্তর দিয়ে, ক্লাস ১০ ও প্রায় শেষের পথে এখন যদি তাকে বলা হয় তোমাকে ৭ টার উত্তর দিতে হবে তাহলে এটা তার জন্য শুধু কষ্টকরই নয় অসম্ভবই বলা চলে। তাই ৭ টা সৃজনশীল যদি সত্যিই শিক্ষার মানোন্নয়ন(!) এর জন্যই হয় তবে তা আরও ২ বছর পর থেকে কার্যকর করা হোক। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের আত্মিক মৃত্যু ঘটবে। আর শিক্ষার্থীদের আত্মিক মৃত্যু মানে পুরো জাতির আত্মিক মৃত্যু। আর আত্মাহীন জাতির পক্ষে কখনোই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বের হয়ে না আসলে দেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। লেখক: রাকিব হাসান।।