ছয় দিন পর কারামুক্ত সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে

0
83

গড়াই নিউজ ২৪.কম::জামিনে কারামুক্ত প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। এরপর বাসায় না নিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হাসপাতালে পৌঁছার পর তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সাত শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু। স্বামী ছাড়াও রোজিনা ইসলামের মেয়ে আলভিনা ইসলাম (৯) তার সঙ্গে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেছেন। ঢাকা পোস্ট

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ ও ‘রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার’ অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জামিন পান প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম।

দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই মামলায় রোজিনার জামিন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি শুনানি নেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকি বিল্লাহ। আদেশের জন্য তিনি আজ রোববার দিন ঠিক করেছিলেন। আজ দুপুরে জামিনের আদেশ দেন তিনি।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন বলেন, ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জামিনের শর্ত হিসেবে বিচারক রোজিনার পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখার নির্দেশ দেন।

গত সপ্তাহের সোমবার (১৭ মে) পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন সকালে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। একই সময় জামিন আবেদন করা হলেও আদালত সে বিষয়ে শুনানি করেননি। পরে বৃহস্পতিবার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রেফতার হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার আদালত থেকে বের হওয়ার সময় রোজিনা ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে রিপোর্ট করায় তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।

রোজিনা ইসলামকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে ১৭ মে রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন সাংবাদিকরা। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। রোজিনা ইসলামের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মত দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। রোজিনা ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ বিষয়ে বলেছিলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি সরিয়েছিলেন, যেগুলো প্রকাশ হলে দেশের ক্ষতি হতে পারত।

রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের পরদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিকরা তা বর্জন করেন।

রোজিনা ইসলামকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অর্থাৎ অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টটি প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো আইন।

এদিকে ১৭ মে রোজিনা ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওযার পর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়- এক নারী তার গলা চেপে ধরেছেন।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা, তাকে গ্রেফতার ও তার জামিন হবে কি হবে না- এ বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে সাংবাদিক সমাজসহ সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

শারমিন আক্তার সোমা/গড়াই নিউজ ২৪.কম::