কুষ্টিয়া চর আমলাপাড়ার মাদক সম্রাজ্ঞী মাফু’র রমরমা মাদক ব্যবসা!

0
651
মাদক সম্রাজ্ঞী মাফু’র চরে বিলাশ বহুল বাড়ি।

সাইফুল কাদেরী, গড়াইনিউজ২৪.কম:: কুষ্টিয়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে এখনও সক্রিয় রয়েছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী। নির্বিঘে অবাধে বিক্রি করে চলেছে বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্য। মনে হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে বলার যেমন কেউ নেই, দেখার জন্যেও যেন কেউ নেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ অনেক বার অভিযান চালিয়ে কিছু মাদকসেবীদের আটক করলেও মূল মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে পারিনি।আর এই মূল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে পড়ে মাফু। সম্প্রতি পুলিশ ও র‌্যাব এর মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হলেও মাদক সম্রাজ্ঞী মাফু’র গাজা, ইয়াবা ও টাপেন্টার ব্যবসা থেমে নেই। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আটকের ব্যাপারে সহযোগিতা করলেও পুলিশ তাদের হাতে নাতে ধরতে পারে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, চর আমলাপাড়া বেরিবাধ সংলগ্ন রিপন এর স্ত্রী মাফু তার নিজস্ব কিশোর গ্যাং দিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। মাফু প্রতিদিন ৫০০/১০০০ টাকার গাজার পুরিয়া বিক্রি করে। এবং ইয়াবা এবং ট্যাপেন্টা ১০ পিছের কম বিক্রি করে না। আগে টাকা দিতে হবে পরে মাল পাবে বলে কিছু ক্রেতারা জানান। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাফু মাদক ব্যবসা করে চরে বিলাশ বহুল বাড়ি তৈরি করেছে। মাফু অনেক চালাক, এই মাদক ব্যবসায়ী অনেক সুকৌশল অবলম্বন করে সকাল থেকে অল্প পরিসরে বিক্রি শুরু করলেও সন্ধ্যার পর থেকে পুরোদমে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তার এই অবৈধ মাদকের রমরমা ব্যবসা। স্থানীয় সূত্রমতে জানা যায়, কুঠিপাড়া ও চর আমলাপাড়ায় পূর্বে মাদক ব্যবসার যে চেহারা ছিল, সে চেহারাই রয়ে গেছে। যার কারণে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়াচ্ছে, ধাবিত হচ্ছে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর দিকে। উঠতি বয়সের স্কুল কলেজের ছাত্ররা নেশাগ্রস্থ হয়ে পরছে এই মাদকের ভয়াল থাবায়। শুধু তাই নয়, স্কুল কলেজে পড়ুয়া এ সকল ছাত্ররা এই মাদকের টাকা ম্যানেজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম অপরাধ মূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। আর এই কারনে বেশিরভাগ যুব সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। তাই এই মাদক সম্রাজ্ঞী মাফুকে আটক করে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্ত থেকে রক্ষা করে মাদকমুক্ত কুঠিপাড়া ও চর আমলাপাড়া করার জন্য পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-১২ এর দৃষ্টি আকর্ষন করেছে এলাকার সচেতন মহল। এ বিষয়ে ১,২,৩,নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর কানন আহমেদ বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে গণ লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এক থেকে দেড় মাস পরে আবারও মাথা নাড়া দিয়ে উঠেছে এই মাদক ব্যবসায়ীরা। যদি দ্রæত ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে এই এলাকার প্রজন্ম আর হয়তো বেশি দূর এগোতে পারবে না।