কুষ্টিয়া পদ্মা নদীতে সাংবাদিকদের উপর হামলার সাথে চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই!

0
376
ছবিতে যাদের দেখা যাচ্ছে সবাই আবু সাঈদ খান, বিটু ও তুষারের সন্ত্রাসী বাহিনী। ছবি: গড়াইনিউজ

কুষ্টিয়া অফিস, গড়াইনিউজ২৪.কম:: গত ২০শে অক্টোবর ২০২৩ শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়া পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন এর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কুষ্টিয়ার ৬জন সিনিয়র সাংবাদিক। হামলাকারীরা ক্যামেরা এবং মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টা নিয়ে একটি ধ্রæমজালের সৃষ্টি হয় এবং কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজের ভেতর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন করেছেন কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার পাঁচ রাস্তার মোড় মুজিব চত্বরে এ মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকরা ৭২ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়েছেন।
এদিকে মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জুগিয়া-তালবাড়িয়া ধুলোট মহালের ইজারাদার মোঃ আব্দুল হান্নান মন্ডল এর নাম জড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চিহিৃত কুচক্রী মহল। ঘটনার সাথে হান্নান মন্ডল এর সম্পৃক্ততা থাকার কোন তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৈশাখ মাসে এক বছরের জন্য ১৬ কোটি টাকা ডাকে জুগিয়া-তালবাড়ীয়া ধুলোট মহল ইজারা নেন আব্দুল হান্নান মন্ডল। ইজারাদার হিসাবে নদীর কুলে রাখা বালুর ইজারার টাকা উত্তোলন করে থাকে, নদীর ভিতর থেকে ড্রেজার বা চুষোক মেশিন দিয়ে যে বালু উত্তোলন করা হয় তার সাথে হান্নান মন্ডল বা তার কোনো সহযোগী জড়িত নেই বলে জানা গেছে। এমনকি নদীতে তার নামে কোন স্প্রীডবোর্ড চলে না। তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কুষ্টিয়া পদ্মা নদীর চরভবানীপুরের নদী মহলের ইজারাদার শাওন এন্টারপ্রাইজ এর মালিক ভেড়ামারা উপজেলার বিলশুকা গ্রামের আবু সাঈদ খান। তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ঘটনার সময় স্প্রীডবোর্ডে যাদেরকে ছবি তে দেখা যাচ্ছে তাদের কেউ হান্নান মন্ডল এর লোক নই। হামলার সাথে জড়িত ছবিতে যাদের কে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আছেন ১. আবু সাঈদ খানের ম্যানেজার সবুজ ২.সবুজের সহযোগী সন্ত্রাসী টিক্কা মাঝী ৩. জৈনক বিটু সাহেব এর সহযোগী সন্ত্রাসী শামীম ৪. বিটু সাহেব এর সহযোগী কসাই রিয়েল ৫. তুষার এর ক্যাডার আলী। এ বিষয়ে মুঠোফোনে হান্নান মন্ডল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন আওয়ামী লীগের কর্মী এবং তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পরপর দুই বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন তালবাড়ীয়া ধুলোট মহলের ইজারাদার হিসাবে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। এ পর্যন্ত কোনো দুর্নাম হয়নি। চর ভবানীপুরে আমার কোনো বালির ব্যবসা বা আমার কোনো লোক অবস্থান করে না। অতএব উল্লেখিত ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা থাকার প্রশ্নই আসে না, যারা আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট গল্প অপ-প্রচার চালাচ্ছে তাদেরকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে বাধ্য হবো। চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল আরও বলেন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজের সাথে আমার বহু দিনের সম্পর্ক এবং ভালো সম্পর্ক এই সম্পর্ক নষ্ট করতে যারা মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের কে সাবধান করে দিচ্ছি এবং যে সব সাংবাদিকের উপর হামলা করা হয়েছে তাদের সাথে আমিও একত্বতা ঘোষণা করে অবিলম্বে সাংবাদিকের উপর হামলা কারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশ সুপার মহোদয় ও নৌ পুলিশ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।